Latest News

কোবিন্দ, মোদী, মমতার জন্য আম পাঠাচ্ছেন হাসিনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যশালী আম পাঠাচ্ছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল রবিবার পেট্রাপোল বর্ডারে এসে পৌঁছবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো এই উপহার। তিন জনের জন্য ২৬০০ কেজি আম পাঠাচ্ছেন তিনি। তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো আম যাতে দ্রুত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে সেজন্য সরকারি নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাখতে কলকাতার বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস ভারতীয় কাস্টমস বিভাগকে শনিবার চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার তথা আম কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুদেশের কূটনৈতিক মহল।

বিগত কয়েক বছর যাবৎ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিবছরই নিয়ম করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইলিশ মাছ পাঠিয়ে আসছেন। অতীতে আমও পাঠিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর পর এবার আবার আম পাঠাচ্ছেন।

ইলিশ-আম কূটনীতি নিয়ে দেশে হাসিনাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবু তিনি পিছিয়ে আসেননি। বস্তুত, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ নানা ভাবে উপকৃত হয়েছে। উপকৃত হয়েছে ভারতও। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হাসিনা বিরোধীরা বারে বারেই তিস্তার জল নিয়ে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে আসছে। তিস্তার জলের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখযমন্ত্রীর আপত্তি উপেক্ষা করে এগিয়ে যায় কেন্দ্র। বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই চুক্তি সারতে মুখিয়ে আছে। দিল্লি-ঢাকা অফিসার পর্যায়ের আলোচনাও জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার আম কূটনীতি বাড়তি মাত্রা পাচ্ছে দুদেশেই। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তিস্তার জল পাওয়ার বিষয়টি অমীমাংসিত থাকলেও তিনি সৌহার্দের সম্পর্ক রক্ষা করে যেতে বদ্ধপরিকর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাসিনা। তিনি নিজেও বাংলাদেশে টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতাসীন রয়েছেন।

বাংলাদেশের কলকাতার উপ দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, রবিবার সকালে বাংলাদেশ সরকারের একজন অফিসার বনগাঁয় পেট্রাপোল সীমান্তে হাসিনার পাঠানো আম পৌঁছে দেবেন। সেখানে সেগুলি গ্রহণ করবেন বাংলাদেশের কলকাতায় অবস্থিত উপদূতাবাসের অফিসাররা। তাঁরা সেগুলি ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছে দেবেন।
উল্লেখ্য বাংলাদেশেও বেড়েছে করোনার প্রকোপ। তার সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিনের সংকট। তাই উভয় সমস্যায় বাংলাদেশ। ভারত থেকে প্রথম দফায় ভ্যাকসিন পেয়েছিল ওপার বাংলা। এবার তাই পড়শি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে হাসিনা সরকার।

You might also like