Latest News

রাষ্ট্রপুঞ্জের ভাষণে হাসিনাও সরব যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন সাতেক আগে উজবেকিস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সভার ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, এখন যুদ্ধ করার সময় নয়। যুদ্ধ থামিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ মিটিয়ে নিন।

রাষ্ট্রপুঞ্জের (UNESCO) সাধারণ পরিষদের সভায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) দুই দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছেন, এখনই যুদ্ধ থামান। দেশে দেশে শিয়রে সংকট। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসুন।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক। চলবে ২৭ তারিখ পর্যন্ত। ভারতীয় সময় শনিবার ভোররাতে ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। হাসিনা তাঁর ভাষণে যুদ্ধ বন্ধ করার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মুখে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য বাড়তি সমস্যা ডেকে এনেছে।

সংকট ও বিরোধ নিরসনে আলোচনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিয়ে তিনি মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রকেও বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাইডেন প্রশাসন, যার বিষয়গুলি পুরোপুরি সে দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। বিশেষ করে মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ নিয়ে সরব মার্কিন প্রশাসন।

হাসিনা ভাষণে বলেছেন, একটি দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে, বাংলাদেশ তার জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা একটি সামগ্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করেছি।

তিনি সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধেও তাঁর কঠোর অবস্থান বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রপন্থার বিষয়ে আমরা ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনও রূপ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে দিই না। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনও ভিন্ন দেশের নাম মুখে না আনলেও সকলেই জানে সে দেশের ভূখণ্ডে একটা সময় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ভারত বিরোধী শক্তি আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছিল, যা হাসিনা ক্ষমতার আসার পর বন্ধ হয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সভাতেই ভারতের প্রতিনিধি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতেই একহাত নিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখে শান্তির কথা শোনার পর ভারতীয় প্রতিনিধি তাঁর ভাষণে কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘যে দেশ শান্তি চায়, তারা সন্ত্রাসে মদত দেয় না।’

তাৎপর্যপূর্ণ হল, হাসিনার ভাষণের বড় অংশ জুড়ে আছে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংকটের কথা। কোনও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এই সমস্যার এতটা বিস্তৃত উল্লেখের নজির খুব বেশি নেই। জলবায়ু থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষার নানা বিষয়ে উল্লখে করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশকে তাঁরা জলবায়ু-সহিষ্ণু দ্বীপে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অ-গান্ধী সভাপতি ও কংগ্রেসের লাভ-লোকসান

You might also like