Latest News

শিয়ালদহ স্টেশনের প্রফুল্ল দ্বার দীর্ঘদিন বন্ধ, অবিলম্বে খোলার দাবি ক্ষুব্ধ নিত্য যাত্রীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘করোনার আবহে অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিত। বন্ধ করে রাখায় প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ভিড় বাড়ছে ভিড়ের কারণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ভয়।’– কথাগুলি বলছিলেন দমদমের সোনালী চট্টোপাধ্যায়। কথা হচ্ছে শিয়ালদহ (Sealdah) স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া প্রফুল্ল দ্বার গেট নিয়ে। দীর্ঘদিন সেই গেট বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নিত্য যাত্রীরা।

প্রফুল্ল দ্বার বন্ধ থাকায় শিয়ালদা স্টেশনের এক প্রান্তের রেলিং ঘেরা একটা ছোট রাস্তা দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভিড় ঠেলে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন লাখ লাখ যাত্রী। ব্যস্ত সময়ে এতটাই খারাপ পরিস্থিতি হয় যে, তা মনে করেই শিউরে উঠলেন নিত্যযাত্রী সৌগত ব্যানার্জী। কর্মসূত্রে রোজ বারাসত থেকে শিয়ালদহ আসেন সৌগতবাবু। স্বাভাবিক হয়ে গেছে ট্রেন চলাচল। কিন্তু সেই করোনার সময় বন্ধ হয়েছিল প্রফুল্ল দ্বার, আজও বন্ধ সেটা। যা প্রতিদিন রীতিমতো অসুবিধার সৃষ্টি করে সৌগতবাবুদের মতো নিত্যযাত্রীদের।

ক্ষুব্ধ কন্ঠে সৌগতবাবু জানালেন, ‘সকাল-বিকেল এত ভিড় হয় এখানে যা কল্পনা করা যায় না। করোনা পরিস্থিতিতে এমন ভিড়ের মধ্যেই রোজ যাতায়াত করতে হয়। যেহেতু একটা গেট পুরো বন্ধ তাই ব্যস্ত সময়ে খুব অসুবিধা হয়।’একা সৌগতবাবু নন, নিত্যযাত্রী সকলের মনেই কমবেশি একই ক্ষোভ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে খুলে দেওয়া হোক প্রফুল্ল দ্বার। শিয়ালদহের মত অন্যতম ব্যস্ত স্টেশনে এইরকম দীর্ঘদিন দরজা বন্ধ থাকার সিদ্ধান্তে নিত্যযাত্রীরা যেমন বিরক্ত, তেমনই ক্ষুব্ধ।

‘জটায়ুকে দেখে একেনবাবু লিখিনি’, জানালেন স্রষ্টা! এবার বড়পর্দায় আসছেন একেন

প্রফুল্ল দ্বারের বাইরেই প্ল্যাকার্ডে প্ল্যাকার্ডে ছড়াছড়ি। সবেতেই লেখা নিত্যযাত্রীদের অসুবিধার কথা। তুলে ধরা হয়েছে সমস্যার কথা। তাই সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে এই দ্বার খুলে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। আর এক যাত্রী অশোক চট্টোপাধ্যায় তুলে ধরলেন পকেটমারির সমস্যা। ব্যস্ত সময়ে স্টেশনে ঢোকা বেরোনোর সময়ে এত ভিড় হয় যে, তাতে বাড়ছে পকেটমারি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘসময় এই প্রফুল্ল দ্বার বন্ধ থাকায় এত ভিড় হচ্ছে যে তার মধ্যেই পকেটমারির মত অপরাধ বেড়েই চলেছে।’ভিড় ঠেলে স্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক সময় ট্রেনও মিস হয়ে যায়, জানালেন আরেক নিত্যযাত্রী সোমা সাহা। দীর্ঘ ১০ বছর এই লাইনেই যাতায়াত করেন তিনি। মধ্যবয়স্কা সোমাদেবীর কথায়, ‘আমি আগে ওই ১ নম্বরের গেট দিয়ে বেরিয়ে পৌঁছে যেতাম রাজবাজারের দিকে। কিন্তু এখন আমাকে ঘুরে বেরোতে হয়, আবার স্টেশনে ঢোকার সময়ে ঘুরে আসতে হয়। অনেক সময় এই ঘুরে ভিড় ঠেলে আসতে গিয়ে ট্রেন মিসও হয়ে যায়।’কলেজ স্টুডেন্ট রাহুল বসুও জানালেন একই অসুবিধার কথা। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র তিনি। তিনদিন হল যাতায়াত করছেন। আর তাতেই বেশ অসুবিধা টের পাচ্ছে না রাহুল। তিনি বলেন, ‘কলেজে আসার সময় যা ভিড় হয় স্টেশন থেকে বেরোনোর সময় তা কল্পনা করা যায় না। মানুষের মধ্যে যা তাড়া থাকে তাতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’তার ওপর ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য শিয়ালদহ স্টেশন জুড়ে আছে ব্যারিকেডের বাড়াবাড়ি। অনেকে সাউথ থেকে ট্রেন থেকে নেমে নর্থের ট্রেন ধরেন, আবার অনেকে নর্থ থেকে নেমে সাউথের ট্রেন ধরেন। এই সময়ে স্টেশনের মধ্যে এত ব্যারিকেড থাকায় ধাক্কা লাগে প্রায়শই। দৌঁড়াতে গিয়ে ব্যারিকেডের চাকায় পা আটকে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে, জানাচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা।এমনই অসুবিধার মধ্যে রোজ লক্ষ লক্ষ মানুষ রুটি রুজির টানে শিয়ালদহ দিয়ে যাতায়াত করেন। প্ৰশ্ন সকলের মনেই কবে খুলবে এই দ্বার? ইস্টার্ন রেলওয়ের সিপিআরও একলব্য চক্রবর্তী জানান, ‘করোনার কারণে এই পথটা বন্ধ করা হয়েছিল। যেহেতু সামনের রাস্তাটা খুব ছোট তাই ওখান দিয়ে ভিড় এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’ কিন্তু মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এই পথ খুলে দেওয়া যায় কিনা সংশ্লিষ্ট মহলে তা জানাব।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like