Latest News

Sealdah: শিয়ালদহ প্রফুল্লদ্বার ভেঙে তিনতলা মার্কেটের পরিকল্পনা রেলের, আপত্তি লাগোয়া গির্জার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিয়ালদহ স্টেশনের (Sealdah) প্রফুল্ল দ্বার খোলার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। রেল কর্তৃপক্ষ আগেই তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। বুধবার রেলের তরফে ‘দ্য ওয়াল’কে জানানো হয়েছে, সেখানে তিনতলা বাজার তৈরি করতে চান তাঁরা। যেখানে থাকবে ফুড প্লাজা, কিছু দোকান, ক্যাফে। খরচ হবে প্রায় ১০-১২ কোটি টাকা।

এখন শিয়ালদহ স্টেশনে গেলে বাহারি ছাতা, নামী ব্রান্ডের অন্তর্বাস থেকে হীরের গয়না, অনেক কিছুই পাওয়া যায়। এবার বিদ্যাপতি সেতুর নীচ থেকে স্টেশনে ঢোকা উত্তর শাখার যাত্রীদের জন্যও ওইরকম ব্যবস্থা করতে চায় রেল (Sealdah) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জানা গেল, রেলের পরিকল্পনায় বাধ সেধেছে পাশের সেন্ট জনস গির্জা কর্তৃপক্ষ। এক রেলকর্মী জানালেন, ওই জায়গা নিয়ে মামলা হয়েছে। যেকারণে কাজ থমকে রয়েছে।

প্রফুল্ল দ্বারের ঠিক পাশেই রয়েছে সন্ন্যাসিনীদের প্রার্থনা করা ও থাকার জায়গা। গির্জার প্রবীণ প্রহরী জানালেন, রেল কলোনিতে বসবাসকারী ব্রিটিশ এবং অ্যাংলো ইন্ডিয়ান কর্মী, অফিসারদের জন্য তৈরি হয়েছিল এই চার্চ। ১৮১০ সালে ওই জায়গায় ছিল খ্রিস্টানদের গোরস্থান। কিন্তু সাধারণত খ্রিস্ট ধর্মে সমাধিস্থ করার আগে গির্জায় মৃত ব্যক্তির দেহ এনে প্রার্থনায় বসেন তাঁর পরিজনরা। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই গির্জার প্রতিষ্ঠা। ১৯০২ সালে নির্মাণের সময় এটির নাম ছিল সেন্ট জন’স চ্যাপেল। অর্থাৎ ছোট গির্জা। কিন্তু পরবর্তীতে এটিকে চার্চের মর্যাদা দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় সেন্ট জন’স চার্চ।

চার্চের পাশেই অমল কর্মকারের চায়ের দোকান। পৌঢ় অমলবাবু বললেন, ‘আমি গির্জার লোকজনের কাছে শুনেছি, রেল ওই জায়গা একটি বেসরকারি।বিপণি সংস্থাকে বিক্রি করতে চায়। কিন্তু গির্জা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ওই জায়গা রেলকে দিয়েছিল। যেকারণেই গির্জা আপত্তি করে। এবং কেসে রেল হেরে গিয়েছে। এখন গির্জা যা বলবে, তাই হবে।’

তবে চার্চের ফাদার জয় ডিসুজা বললেন, ‘বিষয়টি আমাদের আইনি বিভাগ বলতে পারবে। আমি জানিনা। তবে ওখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের সমস্যা বিবাদ রয়েছে বলে শুনেছি।’

শিয়ালদহ স্টেশনের প্রফুল্ল দ্বার বন্ধ প্রায় দু’বছর। টিন দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে ওই গেট। তাই যাত্রী বোঝাই ট্রেন শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছানোর পর বন্যার জলস্রোতের মতো যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয় পাশের অপেক্ষাকৃত সরু গেট দিয়ে। যার নিচে নামলেই ঠাসা ভিড়ে কিছু সময়ের জন্য রীতিমতো আটকে পড়ছেন লোকজন।

শিয়ালদহ উত্তরের ট্রেন ধরার জন্য সিংহভাগ মানুষই বিদ্যাপতি সেতুর নীচ দিয়ে আসেন। প্রায় রাস্তার ওপরেই বসে ক’য়েক শো দোকান। হাঁটার রাস্তা থাকে না। তারমধ্যেও চলে পণ্যবাহী ভ্যান। ভিড় ঠেলে স্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক সময় ট্রেনও মিস হয়ে যায়।

রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানালেন, গির্জার সঙ্গে কোনও বিবাদ নেই। মামলাও হয়নি। ওখানে নতুন বিল্ডিং হবে। ভোল পাল্টে যাবে। তৈরি হবে কমার্শিয়াল পয়েন্ট।

কিন্তু ওই চত্বরের একাধিক অস্থায়ী দোকানি জানালেন, আদালতে মামলায় গির্জা জিতেছে। গির্জা অনুমতি না দিলে কিচ্ছু করতে পারবে না রেল। ওই গির্জা দুশো বছরের পুরনো। রেলের এই অংশ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন ওঁরা। কিন্তু বাণিজ্যিক চুক্তি করার পর গির্জা আপত্তি জানায়। যেকারণে চুক্তি করে ফাঁপরে পড়েছে রেল। ভুগছে সাধারণ যাত্রীরা।

মুড়ি-চপ-চা সহযোগে আড্ডা জমছে লালবাজারে, নেতৃত্বে স্বয়ং পুলিশ কমিশনার! ব্যাপারটা কী

You might also like