Latest News

School Shooting : আমেরিকার স্কুলে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে আগেও, বাবার বন্দুক ব্যবহার করেছে কিশোর হত্যাকারীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সাউথ টেক্সাসের এক এলিমেন্টারি স্কুলে (School Shooting) হানা দেয় ১৮ বছর বয়সী বন্দুকবাজ। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানান, তার গুলিতে ১৯ জন ছাত্রছাত্রী ও দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছে। পরে উভালডে শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলের সেই ঘাতকও (School Shooting) গুলিতে মারা পড়ে। গত দুই দশকে বার বার জনবহুল এলাকায় এভাবেই গুলি চালিয়েছে বন্দুকবাজরা। দাবি উঠেছে, গান কন্ট্রোল আইন আরও কড়া করতে হবে।

২০০০ সালের পরে আমেরিকার বিভিন্ন স্কুলে বন্দুকবাজের হামলার হিসাব দেওয়া হল নীচে।

রব এলিমেন্টারি স্কুল, টেক্সাস, ২৪ মে, ২০২২

বন্দুকবাজের নাম সালভাদোর রামোস। বয়স ১৮। সে আইনি পথেই দু’টি রাইফেল কিনেছিল। তার পরদিন সে ৩৭৫ রাউন্ড গুলি কেনে। স্কুলে গুলি চালানোর আগে রামোস তার ঠাকুমাকে গুলি করে মেরেছিল। তার বন্ধু ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, ছোটবেলায় রামোস ছিল শান্ত প্রকৃতির। কথা বলতে গিয়ে তোতলাত। সেজন্য বন্ধুরা প্রায়ই বিদ্রুপ করত তাকে (School Shooting)। পরে সে একটি চাকরিতে জয়েন করে। তার সহকর্মীরা বলেন, বেশিরভাগ সময় সে একা থাকত। কেউই তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানত না।

অক্সফোর্ড হাইস্কুল, মিশিগান, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

মিশিগানের অক্সফোর্ড হাইস্কুলে গুলি চালায় এক কিশোর বন্দুকবাজ। চার ছাত্র মারা যায়। আহত হয় সাতজন। বন্দুকবাজের নাম ছিল ইথান ক্রাম্বলে। সে ওই স্কুলেরই ছাত্র ছিল। তার বয়স ছিল ১৫। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, খুন, খুনের চেষ্টা ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার অভিযোগ আনা হয়। ওকল্যান্ড কাউন্টির শেরিফ মাইকেল বাউচার্ড বলেন, ক্রাম্বলে কখনই দুরন্ত ছেলে ছিল না। বন্ধুরা তাকে বিদ্রুপ করত বলেও প্রমাণ নেই। ক্রাম্বলের এক শিক্ষক দেখেছিলেন, সে একটি ছবিতে বন্দুক এঁকেছে। সেই সঙ্গে গুলিবিদ্ধ একটি মানুষকেও এঁকেছে। তার নীচে লাফিং ইমোজি দিয়ে লিখেছে, ‘ব্লাড এভরিহোয়ার’। এরপরে স্কুলে তার গার্জেন কল হয়। তদন্তে জানা যায়, সে বাবার বন্দুক থেকে গুলি চালিয়েছিল।

সান্তা ফে হাইস্কুল, হিউস্টন, ১৮ মে, ২০১৮

বন্দুকবাজের নাম দিমিত্রিয়োস পাগুইরৎজিস। বয়স ১৭। সে হিউস্টনের স্কুলে গুলি চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা করে। পরে পুলিশের কাছে ধরা দেয়। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্কুলে গুলি চালানোর জন্য সে ব্যবহার করেছিল একটি শটগান ও .৩৮ বোরের রিভলবার। দু’টি অস্ত্রই তার বাবার। তিনি আইনি পথেই বন্দুক কিনেছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গুলি চালানোর সময় তার পরনে ছিল ট্রেঞ্চ কোট ও কমব্যাট বুট। তার শার্টে লেখা ছিল ‘বর্ন টু কিল’।

টেক্সাসের গভর্নর জানান, পাগুইরৎজিস আগে কখনও আইন ভাঙেনি। স্কুলে গুলি চালানোর পরে সে আত্মঘাতী হতে চেয়েছিল। সিএনএনের রিপোর্টে জানা যায়, সে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে মারার জন্যই গুলি চালিয়েছিল।

মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুল, ফ্লোরিডা, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে স্কুলে বন্দুকবাজের গুলিতে ১৪ জন ছাত্র ও স্কুলের তিন কর্মী নিহত হন। আহত হন অনেকে। বন্দুকবাজের নাম নিকোলাস ক্রুজ। বয়স ১৯। সে ছিল স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়। শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তাকে পার্কল্যান্ড স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে সে ওই জেলারই অপর এক স্কুলে ভর্তি হয়।

ব্রডওয়ে কাউন্টির শেরিফ বলেন, ক্রুজের কাছে ছিল এ আর ফিফটিন সেমি অটোম্যাটিক রাইফেল ও কয়েকটি ম্যাগাজিন। ক্রুজ ইনস্টাগ্রামে তার বন্দুকগুলির ছবি আপলোড করেছিল। ২০১৭ সালে তার মা মারা যান। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ফ্লোরিডার শ্যুটার ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন।’

উম্পকুয়া কমিউনিটি কলেজ, ওরেগন, অস্টোবর ২০১৫

বন্দুকবাজের গুলিতে রোজবার্গের এক স্কুলে মোট ন’জন মারা যায়। আহত হয় ন’জন। পুলিশের গুলিতে মারা যায় বন্দুকবাজও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ক্লাস চলার সময় জানলা দিয়ে একটি গুলি আসে। তা বিদ্ধ হয় শিক্ষকের মাথায়। পরে ক্লাসরুমে ঢোকে বন্দুকবাজ। সে ছাত্রদের সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে বলে। তারপর গুলি চালাতে থাকে। পুলিশ জানায়, বন্দুকবাজের নাম ক্রিস হারপার। তার কাছে মোট সাতটি বন্দুক ছিল। প্রতিটি বন্দুকই সে কিনেছিল আইনি পথে।

স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুল, কানেকটিকাট, ডিসেম্বর, ২০১২

ঘাতকের নাম অ্যাডাম লানজা। বয়স ১৯। প্রথমে সে বাড়িতে মাকে খুন করেছিল। তারপরে হানা দিয়েছিল স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে। তার গুলিতে ২০ জন ছাত্রছাত্রী খুন হয়। মারা যান ছ’জন শিক্ষক। লানজা একটি বুশমাস্টার মডেল রাইফেল ব্যবহার করেছিল। তার এক বান্ধবী জানান, সে গণহত্যা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা করত।

রেড লেক হাইস্কুল, মিনেসোটা, মার্চ, ২০০৫

১৬ বছরের জেফ ওয়েইস প্রথমে তার দাদু ও তাঁর এক সঙ্গীকে খুন করে। পরে রেড লেক স্কুলে গিয়ে পাঁচ ছাত্র, এক শিক্ষক ও এক নিরাপত্তারক্ষীকে খুন করে।

আরও পড়ুন :

You might also like