Latest News

বেহাল সল্টলেকের বহু রাস্তা, তৃণমূল কাউন্সিলর আঙুল তুললেন নিজেদের পুর বোর্ডের দিকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোথাও রাস্তা মসৃণ, কোথাও আবার জলের পাইপ বসানোর জন্য খোঁড়া রাস্তা মেরামতই হয়নি। অজস্র খানাখন্দ আর জমা জল নিয়ে পড়ে আছে রাস্তা। ঝুঁকি নিয়েই চলছে যাতায়াত। ক্ষতি হচ্ছে যানবাহনের। বহু ফুটপাথ হাঁটার অযোগ্য। ভয়ে ভয়ে রাস্তা দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের।

 

সল্টলেকের বৈশাখী যাওয়ার আগে পাঁচনম্বর ট্যাংক সংলগ্ন রাস্তার ছবিটা এমনই। বিধাননগর পুরসভার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। এলাকার লোকজন জানানেল, প্রায় সাত-আট মাস ধরে ওই রাস্তার অবস্থা বেহাল। ট্যাঙ্কের পাইপলাইনে কাজ হয়েছিল। কিন্তু কাজ ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় জল লিক হয়ে ওই রাস্তার এই পরিস্থিতি।

 

অনেক জায়গায় রাস্তা সারানো হলেও বেশ কিছু জায়গা পড়ে আছে পুরনো অবস্থাতেই। সেইসঙ্গে শহরের তথাকথিত ‘ভালো’ রাস্তায় হঠাৎ তৈরি হওয়া ফাঁকফোকর গাড়ি এবং বাইকচালকদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। প্রচুর অসমান গালিপিট। যেগুলিতে গাড়ির চাকা পড়লে দুর্ঘটনা অনিবার্য, জানাচ্ছেন অনেকেই।

রাস্তা খুঁড়ে বসানো হয়েছিল জলের পাইপ। নিউ টাউনের জল প্রকল্প থেকে জল আসবে ৫ নম্বর ট্যাঙ্কের ভূগর্ভস্থ জলাধারে। আবার সেখান থেকে রাজারহাটের ওয়ার্ডগুলিতে জল পাঠানো হবে। এই পাইপ বসানোর জন্যই খোঁড়া হয়েছিল খাল-সংলগ্ন রাস্তার দু’ধার। সেই রাস্তার বেশির ভাগ অংশই মেরামত হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে বৈশাখী থেকে ৫ নম্বর ট্যাঙ্ক পর্যন্ত রাস্তা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ কুমার রায় বললেন, ‘ওই অংশটা সারানোই হলনা। একবছর হতে চলল। একবার একজন বাইক নিয়ে পড়ে গিয়ে পা ভেঙেছে। বাইকটা ওখানেই পড়ে ছিল। কেউ তোলার লোক ছিলনা। দূর থেকে বোঝা যায়না। সামনে এসে জোরে ব্রেক কষে গাড়ির গতি কমাতে হয়। যেকোনও দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

উল্টোডাঙ্গা-সল্টলেক রুটের অটোচালক বিশ্বনাথ পাত্র বললেন, ‘পাইপ বসানো শেষ হয়ে গেলেও, নানা কারণে তখন রাস্তা মেরামতের কাজ করা হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভালো থাকলেও, কিছু জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। সারানোর কিছুদিন পরেই এই হাল হচ্ছে রাস্তার। ঝাঁ-চকচকে রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ গর্তে পড়ছে গাড়ি। বাইক বা স্কুটার আচমকা ব্রেক কষলে বা পাশ কাটিয়ে বেরোতে গেলে, চাকা পিছলে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।’

 

সবজি বিক্রেতা নূর হাসানকে ভ্যান চালিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার এই রাস্তায় এলেই ভয় লাগে। ওই খানাখন্দ পাশ কাটিয়ে চালাতে হয়। গা ঘেঁষে যায় বাস-ম্যাটাডোর।’

 

নিজেই গাড়ি চালান বছর পঞ্চান্নর পুলক গায়েন। বললেন, ‘রাস্তার লেভেলটাই ঠিক নেই। বেশিরভাগ গালিপিটই গর্তের চেহারা নিয়েছে। গাড়ি বা বাইকের চাকা পড়লে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

 

রাস্তা নিয়ে অভিযোগের উত্তরে বিধাননগর পুরনিগমের এই ওয়ার্ডের বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর অনিতা মণ্ডল বললেন, ‘আমার ওয়ার্ডের বহু রাস্তা ঠিক করেছি। কিন্তু এই অংশটুকুর ফুটপাথ, রাস্তা আর গালিপিটগুলি ঠিক করা হয়নি। বহুবার পুরনিগমকে জানিয়েছি। বিভিন্ন জটিলতায় আটকে গেছে। ভোটের আগে আমার ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, পুর-আধিকারিকদের গাফিলতির জন্য এই রাস্তা ঠিক হয়নি।

You might also like