Latest News

ভারতের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এস-৪০০ আসছে ২০২৫-এই, চিন-পাকিস্তানের তুলনায় আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর বিলম্ব নাই! বাধা কেটেছে। ফ্রান্স প্রযুক্তিতে বানানো যুদ্ধবিমান রাফালের পরে এবার রুশ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অত্যাধিনিক সমরাস্ত্র এস-৪০০ হাতে পাচ্ছে ভারত। দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক, আইনকানুনের বেড়াজাল পেরিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যেই ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে জ্বলজ্বল করবে এই ‘সার্ফেস-টু-এয়ার অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট’ ক্ষেপণাস্ত্র। পাঁচ বছরের মধ্যেই ভারতের হাতে এই রুশ সমরাস্ত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতে রুশ দূতাবাসের উপপ্রধান তথা এই মিশনের ডেপুটি চিফ রোমান বাবুশকিন।

রাশিয়ার থেকে অস্ত্র কিনলে মার্কিন আইনে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া ঝুলছিলই। তা জেনেও আমেরিকাকে না চটিয়ে চিন-পাকিস্তানের মোকাবিলায় রাশিয়ার থেকে এই সমরাস্ত্র কিনতে বদ্ধপরিকর ছিল ভারত। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় তা নিয়ে  ৫৪৩ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু শুরু থেকেই রাশিয়ার থেকে ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল আমেরিকা।

২০১৭ সালে ‘কাউন্টারিং আমেরিকাজ অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাঙ্কশনস্ অ্যাক্ট’ (কাটসা) আইন চালু করে মার্কিন সরকার। নয়া আইনের ভয় দেখিয়ে বলা হয়, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র এবং যে কোনও রকম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনলে সেই দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে তারা। যার প্রভাব পড়তে পারে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও। এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনে ফেলে চিন, যা মাথাব্যথার কারণ হযে দাঁড়ায় ভারতের।

আরও পড়ুন: ক্ষিপ্র গতির তেজসের নতুন প্রজন্ম হার মানাবে রাফালকেও, মাল্টিরোল-সুপারসনিক এয়ারক্রাফ্ট বানাচ্ছে ভারত

ভারত অবশ্য বরাবরই মার্কিন হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কিনতে নিজের অবস্থানে অনড় ছিল। নিষেধাজ্ঞা আটকাতে আমেরিকার কাছে বিশেষ ছাড়ের আবেদনও করে নয়াদিল্লি। বলা হয়, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান যেভাবে নাশকতা ছড়াচ্ছে, সীমান্তে সন্ত্রাস বাড়ছে, তার মোকাবিলা করতে এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র দরকার ভারতের। অন্যদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে ভারতের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে জানায় মস্কো। তারপরেও দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল টালবাহানা। সম্প্রতি রোমান বাবুশকিনের বক্তব্যে সেই জট কাটল বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী ২২-২৩ মার্চ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি নিয়ে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে মস্কো রওনা হচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

আরও পড়ুন: বড় সাফল্য নৌসেনার! রণতরীর ডেকে প্রথমবার সফল ‘অ্যারেস্টেড ল্যান্ডিং’ করল তেজস

এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রেরই উন্নত সংস্করণ এস-৪০০। ১৯৯০ সালে এই ক্ষেপাস্ত্রের নকশা বানায় রাশিয়ার আলমাজ সেন্ট্রাল ডিজাইন ব্যুরো। তখন এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ছিল এস-৩০০ পিএমইউ-৩। ২০০৭ সাল থেকে দেশের প্রতিরক্ষায় এই সার্ফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।  এস-৪০০ আদতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা যাকে বলে ‘অ্যান্টি এয়ারক্রাফ্ট ওয়েপন সিস্টেম।’ ভূমি থেকে আকাশে নির্ভুল নিশানায় আঘাত করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ৪০০ কিলোমিটার পাল্লায় যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে এর। নিপুণভাবে চিহ্নিত করতে পারে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র এবং একই সঙ্গে ৪৮টি শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে মাটিতে নামাতে পারে এস-৪০০। অত্যাধুনিক যে সব যুদ্ধবিমানকে রাডারে ধরা যায় না, তাদেরও চিহ্ণিত করতে পারে এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ প্রযুক্তির এই ক্ষেপণাস্ত্র হাতে এলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় শত্রু দেশের যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন চিহ্নিত করে তাকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া যাবে। যার অর্থ পাকিস্তানের সব বায়ুসেনা ঘাঁটিই ভারতের নাগালে চলে আসবে। সীমান্ত সুরক্ষা হবে আরও আঁটোসাঁটো। চিনের মতো সমরাস্ত্রে শক্তিশালী দেশের মোকাবিলা করা যাবে।

You might also like