Latest News

একরত্তির কচি আঙুলে চেপে বসেছিল লোহার নাটবল্টু! কেটে বের করে আনলেন ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইবোন মিলে আংটি বদল খেলছিল। চার বছরের ছোট্ট ভাইয়ের হাতে আদর করে সাইকেলের নাটবল্টু দিয়ে আংটি পরিয়ে দিচ্ছিল তার দিদি। কিন্তু এই খেলায় ডেকে আনল মস্ত বিপদ। কচি হাতের আঙুলে নাটবল্টু এমন চেপে বসল যে সেই নিয়ে হইহই রইরই কাণ্ড।

Jalpaiguri

ঘটনাটি জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) রংধামালী এলাকায়। সেখানেই থাকে ছোট্ট প্রিয়াশু ওঁরাও। আদিবাসী এই বাচ্চাটির বাবা নেই, মা শয্যাশায়ী। বয়স্ক ঠাকুমার কাছেই মানুষ হয় প্রিয়াশু আর তার দিদি। দুই ভাইবোন মিলে খেলতে গিয়ে সাংঘাতিক কাণ্ড বাঁধিয়ে বসেছিল কিছুদিন আগে। জটিল অস্ত্রোপচার করে বাচ্চাটির আঙুল বাঁচিয়েছেন চিকিৎসকরা (Doctors)।

Jalpaiguri

জানা গেছে, দিন তিনেক আগে সাইকেলের নাটবল্টু দিয়ে আংটি বদল খেলছিল প্রিয়াশু আর তার দিদি। ভাইয়ের বাঁ হাতের মধ্যমায় আংটি হিসেবে ওই নাটটি ঢুকিয়ে দিয়েছিল তার দিদি। তারপর থেকেই শুরু হয় যন্ত্রণা। কিছুতেই তা বের করা যাচ্ছিল না আঙুল থেকে। উল্টে কচি আঙুলে নাটবল্টু এমন চেপে বসেছিল যে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে আসছিল। আঙুল ফুলে ঢোল হচ্ছিল দিন দিন।

তিন দিন আঙুলের এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে বাচ্চা ছেলেটিকে। পাড়ার ছেলেরা প্রথমে তাকে স্থানীয় এক স্বর্ণকারের দোকানে নিয়ে যায়, যন্ত্র দিয়ে নাটটি কাটানোর জন্য। কিন্তু স্বর্ণকার তাঁদের ফিরিয়ে দেন।

এরপরই ছোট্ট প্রিয়াশুকে নিয়ে জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে আসে জগজীৎ মণ্ডল, দীপঙ্কর দত্ত, জয়ন্ত বিশ্বাসদের মতো প্রতিবেশী যুবকেরা। প্রিয়াশুকে দেখে সেখানকার চিকিৎসক ডঃ সঞ্জীব কুমার রায় তৎক্ষণাৎ অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুত মেডিক্যাল টিম গঠন করে অস্ত্রোপচার করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘সত্যিই স্কুল খুলবে বুঝিনি, তাই সাফাই হয়নি’! নোংরা ক্লাসরুমে টিকতে না পেরে ফিরে গেল কচিকাঁচারা

ডঃ সঞ্জীব কুমার রায় জানিয়েছেন, প্রায় একঘণ্টা ধরে এই অপারেশন চলেছে। লোহার নাটটিকে টুকরো টুকরো করে কেটে বের করেছেন তাঁরা। যন্ত্রণা এড়াতে বাচ্চাটিকে অজ্ঞান করে নেওয়া হয়েছিল। সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ।

শিশুটির পরিবার চিকিৎসকদের এই ভূমিকায় কৃতজ্ঞ। দারুণ খুশি প্রতিবেশী সেই যুবকেরাও। তাঁরা জানিয়েছেন, বাচ্চাটির আঙুল রক্ষা পেয়েছে এটাই আমাদের বড় পাওনা।  

You might also like