Latest News

ছোটদের বই পড়ার অভ্যেস তলানিতে, ফেরানোর উপায় নিয়ে আলোচনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানবিক বিকাশ ও মানসিক আনন্দের জন্য বই পড়ার (reading) অভ্যেসের কোনও তুলনা নেই। সে অভ্যেস সাধারণত ছোটবেলা থেকেই জন্মায়, মা-বাবা তথা পরিবারের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, পড়ার অভ্যেস ততই কমছে ছোটদের। হবে নাই বা কেন, এই ব্যস্ত সময়ে কতজন বাবা-মাই বা বই পড়েন। বাবা-মাকে বই পড়তে না দেখলে বাচ্চারা শিখবেই বা কীভাবে!

সম্প্রতি এই নিয়ে একটি অনলাইন সেশনের আয়োজন করেন কয়েকজন শিক্ষক এবং লেখক। প্যারেন্টিং নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারবারই ছোটদের বই পড়ার কথা তুলে ধরেন তাঁরা। সকলেই একটা বিষয়ে একমত হন, আশপাশের প্রাপ্তবয়স্কদের পড়তে না দেখলে ছোটরাও তা করবে না।

সম্প্রতি প্যানডেমিক আবহে ছোটদের স্কুল বন্ধ, বন্ধ খেলাধুলো। এমনিতেই শারীরিক ও মানসিক ভাবে তারা বেশ পর্যুদস্ত। এই সময়ে বই পড়ার অভ্যেস তাদের বেড়ে ওঠায় খুবই ভাল, কার্যকর এবং জরুরি একটা মাত্রা যোগ করতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তেমনটা হয়ে ওঠেনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।

কোভিডের তৃতীয় ওয়েভ নাও আসতে পারে, ধারণা পর্যবেক্ষকদের

ওই অনলাইন সেশনে প্রশ্ন ওঠে, অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মা পাঠক নন, তাঁরা বই পড়ার সময়ই পান না। সেক্ষেত্রে তাঁরা কীভাবে তাঁদের সন্তানদের পড়তে বলতে পারেন? বিশেষজ্ঞরা জানালেন, আগে সন্তানকে পড়তে শেখাতে হবে। আগ্রহ পেলে সে নিজেই অভ্যেস করবে পড়ার। সেই সঙ্গে ভাল, মজার বইয়ের জোগানও দিতে হবে বাবা-মাকে।

এই প্রসঙ্গে এক মা জানান, তাঁর দুই সন্তান সাত ও ন’বছর বয়সের। তাদের তিনি অনেক বই কিনে দিলেও তারা পড়তে উৎসাহী নয়। বিশেষজ্ঞরা পরামার্শ দেন, বাচ্চাদের থেকে মোবাইল ফোন সরিয়ে নিতে হবে, টেলিভিশন বন্ধ করতে হবে। এবং প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে মাকেও বসতে হবে, পড়তে হবে, যাতে তারা উৎসাহ পায়।

শিক্ষকরা এই প্রসঙ্গে ওই সেশনে আরও বলেন, মোবাইল ফোন একটি নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনে। এমনকি এর নেশা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদেরও দূরে রাখা সহজ নয়। এ যেন বাচ্চাদের দুধের নেশা ছাড়ানোর থেকেও কঠিন! যদি কোনও বাচ্চা তার আশপাশের লোকজনকে বিছানায় বই নিতে দেখে মোবাইলের বদলে, তাহলে তারাও তাই করতে আগ্রহী হবে।

আর এক স্কুল শিক্ষক এবং আর্লি চাইল্ডহুড অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কোর কমিটির সদস্য জানান, যদি প্রাপ্তবয়স্করা তাঁদের জীবনে শৃঙ্খলা আনেন, তাহলেই বাচ্চাদের জন্য তা করা সহজ হবে। বাচ্চারা তাদের বাবা-মাকেই সবার আগে অনুকরণ করে। যদি তারা বাবা-মাকে পড়তে দেখে, তারাও পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অভিভাবকরা দূরদর্শী হলে সন্তানদের সঙ্গে পড়াশোনা করার সময় বার করার চেষ্টা করা উচিত। একবার যদি বই পড়ার প্রতি ভালবাসা গড়ে ওঠে বাচ্চার, তাহলে আর কোনও চেষ্টার প্রয়োজন হবে না।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like