Latest News

মধ্যমগ্রামে রথীনের ঘোষণায় কলকাতায় ফিরহাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে শব্দই ব্রহ্ম!

সম্প্রতি এমনই এক শব্দ বেরিয়েছে খাদ্য মন্ত্রী রথীন ঘোষের মুখ থেকে যাকে ব্রহ্মজ্ঞান করে কৌতূহল ও সন্দেহের স্তর জমছে রাজ্য রাজনীতিতে।

খাদ্য মন্ত্রীর পাশাপাশি মধ্যগ্রাম পুরসভার পুর প্রশাসক হলেন রথীন। তৃণমূলে এক ব্যক্তি এক পদের শর্ত বাস্তবায়িত হওয়ার ব্যাপারে যখন আলোচনা চলছে, তখন রথীন মধ্যমগ্রাম পুরসভার ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরদের নিয়ে বৈঠকে বলেছেন, “সম্ভবত আমাকে যে কোনও একটি পদ ছাড়তে হবে। কারণ এক জনকে একটাই পদ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করছে দল। সে হোক। আপনারা ভাল করে পুরসভা চালাবেন”।
শাসক দলের অনেকেই ইদানীং বলেন, রথীনের নম্বর ভাল যাচ্ছে। পুর প্রশাসক থেকে সরাসরি খাদ্য মন্ত্রী—কম বড় প্রমোশন নয়। তিনি নতুন সূত্র নিয়ে মুখ খোলার পর এখন দলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, রথীনকে যদি পুরসভা ছাড়তে হয়, তা হলে কি ফিরহাদ হাকিমকেও কলকাতা পুরসভা ছাড়তে হবে?
এমনিতেই কলকাতায় পুর-ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হচ্ছে। গত বছর আমফানের পর এবং এ বছর বর্ষায় শহরে যে ভাবে জল জমে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে তাতে বহু মানুষ অসন্তুষ্ট। দলের অনেকেও মনে করছেন, ববি চাপে রয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, কলকাতায় এই সব সাত সতেরো গুঞ্জন যখন চলছে, ববি তখন গিয়েছেন আজমেঢ় শরিফে। মইনুদ্দিন চিস্তির দরগায় সোমবার চাদর চড়িয়েছেন তিনি।
প্রচলিত বিশ্বাস হল, মইনুদ্দিন চিস্তির দরগায় চাদর চড়িয়ে আকুল প্রার্থনা করলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। অনেকে আবার সেখান থেকে কাছেই পুস্করে ঘুরে আসেন। পুস্করের হৃদে ডুব দিয়ে প্রার্থনা করলেও মনোকামনা পূর্ণ হয় বলেই বহু মানুষের বিশ্বাস।
আজমেঢ়-পুস্করের সঙ্গে রাজনীতির চলতি অধ্যায়ের কোনও যোগ খোঁজা হয়তো অহেতুক। তবে বাস্তব হল, কলকাতা পুরসভার প্রশাসকের পাশাপাশি ববি হাকিম হলেন রাজ্যের পরিবহণ ও আবাসন মন্ত্রী। সেই সঙ্গে হিডকোর চেয়ারম্যান। তাছাড়া তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক হলেন ববি। এক ব্যক্তি এক পদ শর্ত আক্ষরিক অর্থে বাস্তবায়িত হলে এমনিতেই তাঁর এতো পদ থাকার কথা নয়।
এ সব জল্পনা নিয়ে এদিন রথীন ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, “দল এখনও নির্দেশ দেয়নি। আমি শুধু বলেছি দল এই নীতি চালু করেছে। কিন্তু এই কথা নিয়ে অনেক জায়গায় ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। কেউ কেউ রটিয়ে দিয়েছে আমি নাকি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছি।”
তৃণমূল যে ব্যক্তি পিছু একটিই পদ বরাদ্দ করতে চলেছে তা সবার আগে লিখেছিল দ্য ওয়াল। ওয়ালে এও লেখা হয়েছিল যে, সেই শর্ত বাস্তবায়ণ অচিরে শুরু হবে। রথিন ঘোষ যেমন তাঁর একটি পদ যাওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা বা অনুমান করছেন, তেমন তাঁর জেলা উত্তর ২৪ পরগনাতেও বড় একটি বদল হতে পারে। জেলার সাংগঠনিক সভাপতি হলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। তিনি বনমন্ত্রীও বটে। তাঁর সভাপতি পদ যেতে পারে। তবে ববি হাকিমের একটিও যদি পদ যায় তা হবে বড় ঘটনা। বেশ বড়।

You might also like