Latest News

চৈতন্যের নির্দেশে শুরু, কুলীন গ্রামের ৫০০ বছরের পুরনো রথ মাহাত্ম্যে পুরীর সমান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রথযাত্রা (Rath Yatra) মানেই পুরী। জগন্নাথধাম বলে পরিচিত পুরীর রথের মাহাত্ম্য সবথেকে বেশি। দু’বছর পর আবার সাধারণ ভক্তরা রথের দড়ি টানার অনুমতি পাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই পুরীতে উপচে পড়ছে ভিড়। পোহাণ্ডি উৎসব শেষে সেখানে প্রভু জগন্নাথ সহ বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে তোলার পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু সেই পুরীর রথের সঙ্গে এই বাংলার‌ই একটি গ্রামের রথকে (Rath Yatra) মাহাত্ম্যগুণে এক‌ই বলে মনে করেন ভক্তরা। এখান থেকে বছর পাঁচেক আগেও পুরীর জগন্নাথদেবের জন্য প্রতি রথের আগে রেশমের পট্টডোরী পাঠানো হতো। সেটিও হতো শ্রীচৈতন্যদেবের নির্দেশে! পূর্ব বর্ধমানের জৌগ্রাম এলাকার কুলীন গ্রামের রথের সঙ্গে এমনভাবেই জড়িয়ে গিয়েছে ইতিহাস। এই রথ ৫০০ বছরের‌ও বেশি পুরনো।

আরও পড়ুন: পুলিশ ক্যাম্প সরাতে দেব না, ওরাই তো বন্ধু! ময়নাগুড়িতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

কথিত আছে, গ্রামের অভিজাত বসু পরিবারের হাত ধরে এই রথযাত্রা (Rath Yatra) উৎসবের সূচনা হয়। আর তা হয়েছিল শ্রীচৈতন্যদেবের নির্দেশে। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই গ্রামেই জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের আকর গ্রন্থ ’শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ এর রচয়িতা মালাধর বসু। এই মালাধর বসুর পৌত্র হলেন লক্ষ্মীকান্ত বসু। তিনি সত্যরাজ খান উপাধি পান। শ্রীচৈতন্যর একনিষ্ঠ ভক্ত  ছিলেন তিনি। রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীর জগন্নাথদেবের জন্য কুলীনগ্রাম থেকে পট্টডোরী পাঠানোর জন্য সত্যরাজ খানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং নিমাই।

সেই  থেকেই রেশমের পট্টডোরী পাঠানো শুরু হয়। প্রায় পাঁচ শতাব্দী পর বছর কয়েক আগে সেই রীতিতে ছেদ পড়লেও রথ (Rath Yatra) এখনও মহাসমারোহে প্রতি বছর বের হয়। এখানে নিমকাঠ দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর ৩০ ফুট লম্বা রথটি তৈরি হয়েছে শাল, সেগুন ও নিম কাঠ দিয়ে।

এই গ্রামের রথের পুজো পাঠের বিশেষ রীতিও আছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সাবেক রীতি-রেওয়াজ মেনে জগন্নাথ মন্দিরে একপ্রস্থ পুজোপাঠ হয়েছে। এখানকার পুজোয় অন্যান্য ফলের সঙ্গে কাঁঠাল থাকবেই। এছাড়াও প্রভু জগন্নাথের জন্য খিচুড়ি ভোগ, বলরামের জন্য অন্নভোগ ও সুভদ্রার জন্য পায়েসভোগ রান্না করা হয়। এইসব কিছুই
দেবতাকে নিবেদন করে ফের পুজোপাঠ হয়। পুজো শেষে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দির থেকে বাইরে বার করা হয়। প্রথমে রথের চারপাশে বিগ্রহগুলি সাতবার ঘোরানো হয়। এরপর রথের সবথেকে উঁচু ধাপে বসানো হয় বিগ্রহগুলিকে। রথে বিগ্রহগুলি বসানোর পর ফের একপ্রস্থ পুজোপাঠ হয়। তার পর রথে ওঠেন প্রধান পূজারী।

এদিন বিকালে রথ টেনে নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামের রথ তলায়। এই গ্রামের রঘুনাথ জিউয়ের মন্দির জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি বলে পরিচিত। পুরোহিতরা রথ থেকে তিন দেবতার বিগ্রহ নামিয়ে রঘুনাথ জিউয়ের মন্দিরে রেখে আসেন। উল্টোরথের দিন ঠিক একইভাবে তিন দেবতার বিগ্রহ ফের জগন্নাথ মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

You might also like