Latest News

বিরল শাস্তি ভোপালের ধর্মযাজকের! পড়তে পারবেন না বাইবেল, পরতে পারবেন না ফাদারের পোশাক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্ষমতার অপব্যবহার, অবাধ্যতা ও চার্চের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে যাজকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ভোপালের ক্যাথলিক প্রিস্ট আনন্দ মুত্তুনগালকে। তিনি ভোপালের আর্চডিয়োসির জনসংযোগের কর্মকর্তা ছিলেন।

যদিও এই প্রথম নয়। যৌন হেনস্থার মতো অভিযোগ ওঠায় এর আগে বহু চার্চের প্রিস্টকেই বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার আর নিয়মকে অমান্য করার জন্য এত কড়া শাস্তি খুব কমই দেওয়া হয়েছে ক্যাথলিক ইতিহাসে। মধ্যপ্রদেশে এই ঘটনা এই প্রথম ঘটল। ৪৮ বছরের একজন প্রিস্টকে কেবল চার্চের নীতি না মানার জন্যই বরখাস্ত করা হয়েছে।

মুত্তুনগাল আর্চডায়োসির পিআরও হিসেবে ৮ বছর কাজ করার পরে ২০১৩ সালে বরখাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এতদিন চার্চের যাজক বা প্রিস্ট হিসেবে ছিলেন তিনি। শেষমেশ দিন কয়েক আগে একটি বিবৃতিতে ভোপালের আর্চবিশপ লিও কর্নেলিও বলেন, “একটি সরকারি নোটিস দিয়ে পোপ ফ্রান্সিস ক্যাথিলক চার্চের প্রাক্তন মুখপাত্র আনন্দ মুত্তুনগালকে যাজকের পদ থেকে বরখাস্ত করেছেন।”

আর্চবিশপ বারবারই মুত্তুনগালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন। এবার তিনি নেতাদের সামনে মুত্তুনগালের আসল চেহারা তুলে ধরেন। তিনি মুত্তুনগালের বিরুদ্ধে নানারকম ব্যাবসায়িক লেনদেন ও সামাজিক কলঙ্কের তথ্য সামনে আনেন, যা চার্চের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে।

শেষমেশ আনন্দকে যে শাস্তি দেওয়া হয়, তার নাম ‘ডিফ্রকিং’। এর অর্থ হল, মুত্তুনগাল আর যাজকের পোশাক পরতে পারবেন না। কোনও ধর্মানুষ্ঠানও পরিচালনা করতে পারবেন না তিনি। পারবেন না কোনও ক্যাথলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে। তিনি বাইবেলের প্রচার করতে পারবেন না, এমন কি বাইবেল পড়তেও পারবেন না।

অন্যদিকে মুত্তুনগাল দাবি করেছেন যে ভ্যাটিকান সিটি থেকে তাঁর কাছে এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর কাছে নির্দেশ এলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলেও জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই আর্চবিশপ-সহ চার্চের তিন কর্তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা রুজু করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে স্লো পয়জন করে মারার চেষ্টা করছেন তাঁরা। মুত্তুনগাল বলেন, “আমি জানি না আমি বরখাস্ত হওয়ার মতো কী অপরাধ করেছি! তবে আমার করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওরা বহু দিন ধরে চাপ দিচ্ছিল। আমিও প্রতিজ্ঞা করেছি যে এর শেষ দেখে ছাড়ব।”

মুত্তুনগাল আরও বলেন, চার্চ কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে, কারণ তিনি নাকি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করেন! তিনি আরও বলেন, যে তিনি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য কাজ করেছেন। কয়েক বছর আগেও মুত্তুনগাল রাষ্ট্রীয় ইসাই মহাসঙ্ঘ গঠন করেন, যার জাতীয় সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি।

কিন্তু চার্চ সূত্রের খবর, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি আবাসন সমিতির আবাসিকদের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় মুত্তুনগালকে। প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জন্য তিনি সহ ওই সমিতির আরও আট জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রায় ৫০ দিন কারাবাসের পরে তিনি হাজত থেকে ছাড়া পান।

তবে মুত্তুনগালের অভিযোগকে অস্বীকার করে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চার্চের একজন প্রাক্তন পিআরও বলেন যে মুত্তুনগাল মিথ্যা বলছেন। ভ্যাটিক্যানের নোটিসটি মুত্তুনগালের দরজাতেই লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটি এতটাই গুরুতর যে তা ভ্যাটিকানের পোপেরও নজরে এসেছে, তাই এই ‘বিরল’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

বর্তমানে চার্চের পিআরও ফাদার মারিয়া স্টিফেন বলেছেন, “মুত্তুনগাল পোপের থেকে যে নোটিস পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে তিনি আর কোথাও আবেদন করতে পারবেন না।”

You might also like