Latest News

আসছে রাণু মণ্ডলের পুজোর অ্যালবাম, মনে তবু বিষাদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ভাইরাল ভিডিও তাঁকে রাণাঘাট স্টেশন থেকে পৌঁছে দিয়েছিল মুম্বইয়ের আলোঝলমলে গ্ল্যামার দুনিয়ায়। হিমেশ রেশমিয়া থেকে সলমন খান—মুগ্ধ হয়েছিলেন তাঁর গানে। সেই রাণু মণ্ডল (Ranu Mondal) আছেন কেমন? রাণাঘাট প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সেলেব্রিটি। কিন্তু পুজোর আগে রাণুর কণ্ঠে গান আছে বটে, তবে মনে শুধুই বিষাদ আর অভিমান।

দ্য ওয়াল যখন তাঁর বাড়িতে পৌঁছলেন তখন তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত। একার জীবনে যতটুকু কাজ থাকে আর কি। তারমধ্যেই শুরু হল কথা। রানু জানালেন, তাঁর ভরসা মালিক। অর্থাৎ ঈশ্বর। ভাল-মন্দ, সুখদুঃখ নিয়ে তিনি আর ভাবেন না। ভাবাই ছেড়ে দিয়েছেন। সবটাই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁর মালিকের উপরে।

দিদির সামনে ভুল গাইলেন বাবুল, গুলিয়ে গেল স্তবক, শব্দ, লাইন

কথা বলতেই বলতেই রাণু সেরে নিচ্ছিলেন একার সংসারের কাজ। তারপর ফের বলতে শুরু করলেন, গানটাও এখন আর সেভাবে গাইতে পারেন না তিনি। কারণ গান শোনাই হয় না। ফোন নেই, টেপ রেকর্ডার নেই, টেলিভিশন নেই—কিচ্ছু নেই, আক্ষেপ তাঁর।
তবু ভিতরে থাকা নেশায় বাইরের বৃষ্টি দেখে জঙ ধরা গ্রিলে হাত রেখে গেয়ে উঠলেন—- বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি, এ কোন অপরূপ সৃষ্টি।

রাণু একাই থাকেন। খোঁজ নেন না মেয়েও। অভিমানের সুরেই বললেন, আমার কোনও অভিমান নেই। আমার যা কিছু—সব ওই মালিক জানে। আমি কিচ্ছু না।
টেলিভিশন শোয়ে দেখা গিয়েছিল, তাঁকে সলমন খান বলেছিলেন, সোনায় মুড়ে দেবেন। কী পেয়েছেন বজরঙ্গি ভাইজানের কাছ থেকে? প্রশ্ন শুনেই কিছুটা রাগত ভঙ্গিতে রাণু বলে উঠলেন, যান না, সলমন খানকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন।

রাণুর মেজাজ যেন সেদিনের বাইরের আবহাওয়ার মতোই। এই ঝমঝম বৃষ্টি তো এই শান্ত! কখনও ঝলমলে আলো থেকে অন্ধকারে নেমে আসার কথা বলছেন, আবার কখনও বলছেন, তাঁর অজান্তেই অনেক শত্রু তৈরি হয়েছে। আবার যাঁরা নাকি তাঁর ভাল সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু কারও নাম করেননি রাণু। আবার কখনও গেয়ে উঠছেন দু’কলি।

তবে সব কিছুর শেষে তাঁর একটাই কথা—আমার মালিক আছেন। উনিই আমার সব। একটা সময় যাঁর বাড়িতে ভিড় থিকথিক করত এখন তিনি একা। খোঁজ রাখেন না কেউ। রাণুর জীবন তাঁর বাড়িটার মতোই। শ্যাওলা ধরা। যার মাথার উপর নুয়ে পড়েছে বাঁশ ঝাড়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like