Latest News

মোদির ব্যাংক নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিজেপির রন্তিদেব, বললেন, জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা করবই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : তিনি নাগপুরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagbat) তাঁকে অপত্য স্নেহ করেন। সেই প্রবীণ সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত, যাঁকে লোকসভায় হাওড়া সদরে প্রার্থী করেছিল বিজেপি তিনিই এবার ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানালেন। যা নিয়ে বাংলা বিজেপির অন্দরেও শোরগোল পড়ে গেছে।

ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে গ্রাহকদের পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রন্তিদেব আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁর দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, হঠাৎ কেন এমন গান গেয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী? তাহলে কি এরকম সম্ভবনা রয়েছে? তিনি এও বলেছেন, অনেকে এই কথা সরকার বাহাদুরের মহত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। কিন্তু এ আসলে নির্মমতা।

কেন?

তাঁর কথায়, “আমরা পাঁচ পাবলিক অবাক হয়ে লক্ষ্য করি বছরের পর বছর ব্যাঙ্কের সুদ কমতে কমতে পাঁচ পার্সেন্টে এসে পৌঁছয়। আমরা যারা এই সুদটুকুর ওপর নির্ভর করে অবসর জীবন কাটাই, আমাদের জীবনটা  আরও বেশি অনিশ্চয়তায় ভরে ওঠে। আমরা কেউ কষ্টে সৃষ্টে ব্যাঙ্কে  দশ লাখ টাকা জমিয়েছি, কেউ পনের, কেউ পঁচিশ , কেউ বা তিরিশ লাখ টাকা জমিয়েছি। এই সঞ্চিত অর্থটুকুর ওপর ভরসা করে আমরা আমাদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করি। আদানি আম্বানি টাটা গোয়েঙ্কারা যে ভারত বাস করেন সে ভারতকে আমরা শুধু স্বপ্নে দেখি। এখন ভাবুন তো, আমরা এই পাঁচ পাবলিক ব্যাঙ্কে যে টাকাটুকু জমিয়েছি সেটা যদি চোট হয়ে যায় তাহলে কী হবে?”

রন্তিদেব মোদী-শাহের দেশ চালানোর দিশাকেই কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “কল্যাণকামী রাষ্ট্র থেকে এই রাষ্ট্রটিকে তাঁরা ক্রমশ একটি ব্যবসায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছেন। যে কারণেই অবাধ বেসরকারিকরণের পথে হাঁটা লাগিয়েছেন সরকার বাহাদুর। এপথে পা বাড়িয়ে সরকার বাহাদুর এখন ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন।”

বৃহস্পতি এবং শুক্রবার সারা দেশজুড়ে সর্বাত্মক ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হয়েছে এই ইস্যুতেই। বেফির এক সর্বভারতীয় নেতার কথায় মোদীর রাজ্য গুজরাতেও ব্যাঙ্কের দরজা খোলেনি। রন্তিদেবের পোস্ট দেখে অনেকেই মনে করছেন, এ যেন নাগপুর থেকে কামান দাগা হল সাত নম্বর লোককল্যাণ মার্গের দিকে।

এদিন রন্তিদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ছাপোষা বাঙালি। আমার চেনাপরিচিত, সহনাগরিকরাও তাই। এ নিয়ে অনেকে আমার কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন। হতে পারে আমার একটা মতাদর্শ রয়েছে। তাই বলে আমি নিজেকে কারও কাছে বিকিয়ে দিইনি।” প্রসঙ্গত রন্তিদেব প্রয়াত আরএসপি নেতা প্রখর মার্কসবাদী সুনীল সেনগুপ্ত ও গীতা সেনগুপ্তর পুত্র।

You might also like