Latest News

নবান্ন কবে উঠে আসবে রাইটার্সে? প্রশ্ন বহু মুখে, জবাব নেই প্রশাসনে

 

রফিকুল জামাদার

২০১৩ সাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ থেকে কিছু দফতর সরিয়ে নিয়ে গেলেন নবান্নে। তখন ঘোষণা করেন, ঐতিহ্যপূর্ণ রাইটার্স বিল্ডিংসের পর্যাপ্ত সংস্কার ও সংরক্ষণে কাজ হবে। মাঝে কেটে গেছে আট বছর। কতটা অগ্রগতি হল সংস্কারের কাজের?

দেখা যাচ্ছে, রাইটার্স বিল্ডিংসের একটি অংশের কাজ বেশ গতির সঙ্গে চলছে। মূল ব্লক ও ১ নম্বর ব্লকের কাজ কিছুটা এগোলেও বাকি অংশের কাজ এখনও অধরা। রাইটার্সের এক নম্বর ব্লকের তৃতীয় তলার সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই অংশে পিডব্লিউডির একটি সেল স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ব্লকের দ্বিতীয় তলার কাজও শেষের দিকে। আর এক তলার কাজও চলছে।

 

অন্যদিকে, রাইটার্সের মূল ব্লক, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস, সেই ব্লকের কাজও এগোচ্ছে। চলছে মার্বেল বসানোর কাজ। যদিও মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বসতেন সেটা হল এক তলায়। সেই একতলার কাজ খুব বেশি এগোইনি। কিছু ভাঙাভাঙি হয়েছে মাত্র। পাশাপাশি, দু’নম্বর ব্লকের কাজ সবে শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, তিন নম্বর ব্লক, দুই নম্বর ব্লক, মূল ব্লক পরপর কাজ শেষ হবে। তবে অন্যান্য ব্লকের কাজে হাতই পড়েনি।

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের জন্য একটি স্ট্রেয়ারিং কমিটিও তৈরি করেছিলেন। কমিটির মাথায় আছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। কমিটিতে মুখ্যসচিব ছাড়াও রাখা হয় পূর্ত দফতরের সচিবকেও। এছাড়াও কমিটিতে রাখা হয় আইআইটি খড়্গপুর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের।

তবে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা নিয়ে এই কমিটির তেমন বৈঠক হয়নি। প্রথম পর্যায়ে কয়েকটি বৈঠক হলেও পরের দিকে বৈঠক আর হয়নি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা কবে পূরণ হবে তা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা নেই কারোরই।

 

অনেকের মতে, কাজ শেষ হতে বহু সময় বাকি। তাই আবার কবে মুখ্যমন্ত্রীকে মহাকরণে বসতে দেখা যাবে তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, প্রধান সচিবালয় থেকে নানা দফতর নবান্ন-সহ কয়েকটি সরকারি ভবনে শিফট হলেও বেশ কয়েকটি দফতর এখনও রাইটার্সে রয়ে গেছে। যেমন ধরা যাক অর্থ দফতর। নবান্নে শিফট হলেও ওই দফতরের একটা অংশ রাইটার্সে এখনও রয়েছে। ঠিক একই ভাবে পূর্ত দফতরের ক্ষেত্রেও সেই কথা প্রযোজ্য। এছাড়াও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর-সহ বেশ কয়েকটি দফতর রাইর্টাসে রয়ে গিয়েছে।

অনেকে বলেন, সচিবালয় হিসেবে রাইটার্সের মর্যাদাই আলাদা। তার ধারেকাছে নবান্ন আসে না। লালবাড়ির আভিজাত্যই অন্যরকম। তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরাও অনেকেই তা মানেন।

যেমন ২০১৬ তে নোটবন্দির সময়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে ধর্নায় বসেছিল শাসকদল। যেদিন তৃণমূলের এই ধর্না চলছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মূল ফটকের সামনে সেদিন আবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তৎকালীন গভর্নর উর্জিত পটেল। সেদিন দেখা গিয়েছিল, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী রাইটার্সের নস্টালজিয়া অনুভব করতে হাঁটতে হাঁটতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে থেকে ছেড়ে যাওয়া সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছিলেন।

তবে আবার কবে মূল সচিবালয় নবান্ন থেকে ফিরবে তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। সাধারণ কর্মী থেকে মন্ত্রী-আমলা, সাধারণ মানুষ, সকলের মুখে ফিরছে এই প্রশ্ন, নবান্ন থেকে মূল সচিবালয় কবে ফিরবে রয়টার্সে? জবাব নেই নবান্নের কর্তাদের মুখে।

You might also like