Latest News

রাহুলের কথাই সত্যি হল! বুদ্ধদেব-মোদী কোথাও যেন মিলে গেলেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যেন ভবিষ্যৎ স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন। বলেছিলেন, লিখে রাখুন, এই সরকার কৃষি বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে। শেষমেশ হলও তাই। এক সময়ে জোর করে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে পিছু হটতে হয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। কারণ, চাষীদের সঙ্গে আগাম আলোচনা না করেই সরকারের ক্ষমতা দিয়ে কাজ সেরে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। আগাম আলোচনা, বিশ্বাস বর্ধক ব্যবস্থা না নিলে যে কী পরিণাম হতে পারে তা এবার বুঝতে পারলেন নরেন্দ্র মোদীও। শুক্রবার গুরু নানক জয়ন্তীতে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়ে তিনটি বিতর্কিত কৃষি বিল প্রত্যাহার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি আইন নিয়ে মোদীর ঘোষণা অনন্য, ব্যাখ্যা করলেন অমিত শাহ

মোদীর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দের ঝড় বয়ে যায় কৃষক মহলে। এক বছর ধরে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে আন্দোলন করেছেন তাঁরা। একের পর এক জনসভা, মিছিল, অবরোধ, ট্র্যাক্টর ব়্যালি– কী হয়নি এই এক বছরে। প্রাণও গেছে ৬০০-রও বেশি আন্দোলনকারীর। এত দীর্ঘ আত্মত্যাগের পরে আসা সাফল্যে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি বাঁধ মানছে না।

আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঘোষণার পরে টিকরি সীমান্তে অবরোধ সরাতেও দেখা গেছে বহু কৃষক সংগঠনকে। তবে ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত অবশ্য জানিয়েছেন, আন্দোলন এখনই প্রত্যাহার করছেন না তাঁরা। সরছেন না বিক্ষোভের পথ থেকেও। আগে সংসদে নিশ্চিত ভাবে বাতিল হবে আইন, তবেই তাঁরাও শেষ করবেন আন্দোলন।

নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব সরকারকে পিছু হঠতে বাধ্য করেছিল কৃষক আন্দোলন। তাঁর আগে হলদি নদীর তীরে রক্তস্রোত বয়ে গিয়েছিল। সিঙ্গুরের ক্ষেত্রে অবশ্য তা ছিল না। হুগলির সবুজ মাঠে ন্যানো কারখানার বিরুদ্ধে আন্দোলনের চাপে সিঙ্গুর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন রতন টাটা। ফলে বুদ্ধদেব সরকারের আর কিছু করার ছিল না। পরে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে তুলোধনা করে তা ফেরতের রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি সিপিএমও পরবর্তীতে দলীয় দলিলে লিখেছিল, আগাম আলোচনা না করে চাষিদের জমি নেওয়া জনমানসে তীব্র অসন্তোষের আগুন জ্বেলে দিয়েছিল। যে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। কৃষক আন্দোলনের উত্তাপের ছ্যাঁকায় সেই একই ভাবে পিছু হঠতে হল মোদী সরকারকেও।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like