Latest News

নিন্দা করতে এত দেরি কেন

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) খুব বুদ্ধিমান লোক। তাঁর সঙ্গীরাও বোকা নন। কিন্তু বুদ্ধিমান লোকেরও অনেক সময় ভুল হয়। ভারতের অভ্যন্তরে বিজেপি (BJP) খুব দাপুটে দল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের হিন্দুত্বের রাজনীতিকে সমর্থন করেন। যাঁরা সমর্থন করেন না, তাঁদেরও অনেকের মুখ খোলার সাহস নেই। ফলে সঙ্ঘ পরিবারের অনেকে গুরুতর অপরাধ করেও পার পেয়ে যান।

কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। ইসলাম (Islam) ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যের পরে এত বড় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা মোদীর (Narendra Modi) দলের লোকেরা নিশ্চয় বুঝতে পারেননি।

মে মাসের শেষে একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের বিতর্কে বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা (Nupur Sharma) মহম্মদ সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য (Prophet Remark) করেন। সেই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়। পরে বিজেপির দিল্লি শাখার মিডিয়া প্রধান নবীন জিন্দাল (Naveen Jindal) টুইট করে নূপুর শর্মার মন্তব্যকে সমর্থন করেন। নূপুর ও নবীন, দু’জনেই বিজেপির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। তাঁরা ইসলাম ধর্ম নিয়ে দলের অবস্থান জানেন না, এমন হতে পারে না। তাই তাঁদের মন্তব্য ইসলামি দুনিয়া হালকাভাবে নেয়নি। মোদী প্রায়ই দেশবাসীকে রেডিওতে ‘মন কি বাত’ শোনান। তাঁর একবারও মনে হয়নি, ওই মন্তব্যের নিন্দা করা উচিত। তাঁর সরকারের কর্তাব্যক্তিদেরও কারণ সেকথা মনে হয়নি।

নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে কানপুরে দাঙ্গা বাধে। বহু লোক আহত হন। অনেক সম্পত্তির ক্ষতি হয়। পুলিশও পালটা ব্যবস্থা নেয়। অনেককে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়। যোগী আদিত্যনাথ সরকার অপরাধীদের সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেবে জানা যায়। দাঙ্গার সময় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনাস্থলের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যেই ছিলেন। রাষ্ট্রপতি গিয়েছিলেন তাঁর নিজের গ্রামে। প্রধানমন্ত্রীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা দাঙ্গা নিয়ে কোনও কথা বলেননি।

এই নীরবতাই আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের দেশকে লজ্জাজনক অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। বিজেপি মুখপাত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইসলামি দুনিয়ায় শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়। প্রতিদিন নতুন নতুন দেশ ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা করছে। সারা বিশ্বে ভারত সহনশীল দেশ বলে পরিচিত ছিল। গৌতম বুদ্ধ থেকে মহাত্মা গান্ধী, সকলেই দেশবাসীকে পরমত সহিষ্ণুতার শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশকে অসহিষ্ণুতার জন্য নিন্দিত হতে হচ্ছে।

শুধু ইসলামি দুনিয়া নয়, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রও ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণের প্রতিবাদে সরব হয়েছে। মার্কিন বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে বহু ধর্মের মানুষ বাস করেন। আমরা লক্ষ করছি, ওই দেশে ধর্মস্থান ও মানুষের ওপরে আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।” এর আগেও একাধিকবার আমেরিকা ভারতে অসহিষ্ণুতা নিয়ে সরব হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক যথেষ্ট গভীর। তা সত্ত্বেও বাইডেন সরকার বোঝাতে চাইছে, ভারত সরকারের সব নীতির সঙ্গে তারা একমত নয়।

মোদী সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অনেক পরে। তাও সরকারের কোনও মুখপাত্র বিষয়টি নিয়ে সরব হয়নি। নিছক আমলাতান্ত্রিক উপায়ে, একটা বিবৃতি দিয়ে সরকার দায় সেরেছে। কুয়েতের সরকার ভারতীয় দূতকে ডেকে প্রফেটের বিরুদ্ধে মন্তব্যের (Prophet Remark) প্রতিবাদ করেছিল। উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু তখন কুয়েত সফরে গিয়েছিলেন। গত রবিবার কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে বলেছে, প্রফেট সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছিল, তা গুটিকতক ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্টের’ দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থাৎ উটকো লোকেরা ওই মন্তব্য করেছে। কিন্তু দেশে শাসক দলের সর্বভারতীয় একজন মুখপাত্র কীভাবে ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট’ হতে পারেন?

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পরেই দেশে ঘৃণাভাষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গোরক্ষকদের দাপট বেড়েছে। আজকের দুনিয়ায় কোনও কথা গোপন রাখা যায় না। ভারতে কী ঘটছে তা কারও জানতে বাকি নেই।

এই অবস্থায় মোদী সরকারের চেষ্টা করা উচিত, ভারত যাতে আগামী দিনে আরও লজ্জাজনক অবস্থায় না পড়ে। কারণ অন্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হবে। কোভিডের ধাক্কা সামলে উঠতে অর্থনীতির সময় লাগবে আরও বেশি।

নূপুর, নবীনরা পরিত্যাজ্য কতদিন? গান্ধীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপিতা, মায়াবতীকে বেশ্যা বলা নেতাও সসম্মানে বিজেপিতে

You might also like