Latest News

Private School Fees: বেসরকারি স্কুলের ফি নির্ধারণে কমিশন, যত দ্রুত চালু হয় ততই মঙ্গল

অমল সরকার

শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু সোমবার সরকারের একটি ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার একটি কমিশন গঠন করতে চায়। সেই কমিশনের অনেক কাজের মধ্যে একটি হবে বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফি নির্ধারণ (Private School Fees) করা। অর্থাৎ এখন যেভাবে স্কুল কমিটি/মালিকপক্ষ ইচ্ছেমত ফি ঠিক করছে, তা আর হবে না। সরকারি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে ফি।

আরও পড়ুন: অনলাইন পরীক্ষা দাবিতে অনড় পড়ুয়াদের একাংশ, কলেজস্ট্রিট আটকে বিক্ষোভ

কীভাবে এই কমিশন (Private School Fees) গঠন করা সম্ভব, দেশে চলতি ব্যবস্থা কী আছে, কমিশন হলে তা কতটা আইনসিদ্ধ হবে, এসব প্রশ্ন নিশ্চয়ই বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হবে। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে খানিক আলোচনা করা যাক কেন সরকারের এই ব্যাপারে কালক্ষেপ না করে হস্তক্ষেপ করা জরুরি।

আমরা যে করোনা মহামারী পরিস্থিতি সদ্য পেরিয়ে এসেছি, তাতে সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে কোনও সন্দেহ নেই ছোট বাচ্চারা যারা স্কুলে পড়ে তাদের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। কারণ ওদের বলতে গেলে গোটা জীবনটাই বাকি পড়ে রয়েছে। করোনার শারীরিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ওদের অনেক দিন ধরে সহ্য করতে হবে। আর মানসিক সমস্যা তো আছেই।

তবে ইতিমধ্যেই যে মানসিক যন্ত্রণা ওদের অনেককে সইতে হয়েছে তা হল স্কুলের টিউশন ফি (Private School Fees) মেটানো নিয়ে পরিবারের দুর্দশা। মহামারী পরিস্থিতির জন্য কারও বাবা বা মায়ের চাকরি গিয়েছে অথবা অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল বেতন। এখনও অনেকে চাকরি ফিরে পাননি। হাতে পুরো বেতন মেলে না অনেকের।

ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দেখেছে তাদের স্কুলের ফি (Private School Fees) মেটাতে গিয়ে কী দুরবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে বাবা-মায়েদের। চাক্ষুষ করেছে বাবা-মায়ের অবমাননা। ওদের অনেককে স্কুল অনলাইন ক্লাসে ঢুকতে দেয়নি। অফলাইন ক্লাস শুরুর পর অনেক স্কুল ওদের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে টিউশন ফি জমা না করায়।

এই সব নাবালক-নাবালিকারা সব বুঝেছে কীসের থেকে কী হচ্ছে। বড় হওয়ার পথে এই সব অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা, ওদের পড়াশুনোর খরচ জোগাতে বাবা-মায়ের অসহায় দশা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে আজ বলা মুশকিল।

তবে আর পাঁচটা ক্ষেত্রের মতো শিক্ষায়, বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার খরচে লুটতরাজের ছবিটাও সামনে এসেছে। কোভিড যখন ছিল না, তখনও অনাচারের চিত্রটায় খুব ফারাক ছিল না। স্কুলে ভর্তির আগে বাবা মায়েদের ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয় তার প্রধান উদ্দেশ্য টাকার জোরটি বুঝে নেওয়া।

পশ্চিমবঙ্গ ব্যতিক্রম নয়। অনেক রাজ্যেই ছবিটা একই। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থানে বেসরকারি স্কুলে ফি নির্ধারণ সহ নানা বিষয়ে আইনি পথে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ওই সব রাজ্যে এজন্য আইন আছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে কয়েকটিতে জেলা শাসকদের নিয়ে কমিটি আছে। স্কুলগুলিকে ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব জেলাশাসকের কাছে পেশ করতে হয়। জেলা শাসক অভিভাবক সমিতির মতামত নিয়ে ফি চূড়ান্ত করে দেন।

বেসরকারি স্কুলের ফি নির্ধারণে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে কিনা একাধিক মামলায় আদালত তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সর্বশেষ মামলাটি হয়েছিল গুজরাতে। ২০১৭-তে গুজরাত সরকার এই বিষয়ে আইন করে। আইনটি আটকাতে ৪০টি কর্পোরেট স্কুল যৌথভাবে মামলা করেছিল। গুজরাত হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

তাছাড়া এখন কোনও আইন ছাড়াই বেসরকারি মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ফি নির্ধারণে হাইকোর্ট নিয়োজিত কমিটি আছে। তাছাড়া শিক্ষার অধিকার আইন তো আছেই। যে আইনে মৌলিক শিক্ষা অর্থাৎ ক্লাস এইট পর্যন্ত শিক্ষায় কোনওভাবেই বাধা সৃষ্টি করা চলে না।

বেসরকারি স্কুলগুলি এই আইনের মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণের বাইরে নয়। অর্থাৎ কোনও আইনেই প্রাইভেট স্কুল ইচ্ছে মতো ফি ধার্য করতে পারে না।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের হল, আমাদের দেশে কিছু আরোপিত ধারণা আমরা বয়ে বেড়াই। তার মধ্যে দুটি জনপ্রিয় ভ্রান্ত ধারণা অর্থাৎ মিথ্যা হল, আদালতের সমালোচনা করা যাবে না। বিচারপতির ভুল ধরা যাবে না। আর দ্বিতীয়টি হল, যা কিছু প্রাইভেট, সেখানে অন্য কেউ নাক গলাতে পারবে না।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঠিত হেলথ কমিশন কিন্তু দিব্যি চলছে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচে গলাকাটা কিছুটা হলেও কমেছে।

অতএব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসুদের উচিত সাহস করে এগিয়ে যাওয়া। যত দ্রুত সম্ভব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি ইত্যাদি ঠিক করতে কমিশন গঠন করা দরকার। এই ইত্যাদির মধ্যে একটি বিষয় অবশ্যই এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সম্মানজনক, ন্যায্য বেতন। এই দিকটিও কমিশনের বিচার্যের মধ্যে রাখা দরকার। কারণ বেশিরভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ব্যাপারেও তুমুল অনাচার চলছে। নামমাত্র বেতনে বছরের পর বছর কাজ করতে হচ্ছে উচ্চ শিক্ষিত টিচারদের। তাছাড়া চাকরির নিরাপত্তাও নেই বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এই অনাচার বন্ধ করা দরকার।

You might also like