Latest News

পশু-অত্যাচারে নতুন আইনের ভাবনা, হতে পারে ৭৫ হাজার টাকার জরিমানা থেকে ৫ বছরের জেল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও পশুর উপর কোনও ধরনের অত্যাচার করে আইনত দোষী সাব্যস্ত বলে জরিমানার পরিমাণ ৫০ টাকা ছিল এত দিন। এবার সেটা বেড়ে বল ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত! সেই সঙ্গে হতে পারে ৫ বছর পর্যন্ত জেলও। পুরনো আইন সংশোধন করে এমনই শাস্তির কাঠামো তৈরি করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সূত্রের খবর, আইন সংশোধনের কারণ কেবল জরিমানার অঙ্ক বাড়ানো নয়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন যে আইন তাতে পশুদের উপর কোন অত্যাচারে কী শাস্তি, তাই নিয়ে কোনও ভাগাভাগি করা নেই। অত্যাচারের রকমফের নিয়ে কিছু বলা নেই। অথচ বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পশুদের উপর অত্যাচারের মাত্রা অনেকটাই বেশি হচ্ছে। এই সমস্ত দিকটা বিবেচনা করেই আইনে বদল আনার কথা ভেবেছে সরকার।

পশপ্রেমীদের ও পশু অধিকার আন্দোলনকারীদের বহু দিন ধরেই অভিযোগ, পশুদের উপর নানারকম অত্যাচার করেও আইনের ফাঁক দিয়ে বহু অপরাধীই ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়, গত বছর কেরলে বিস্ফোরক-ভর্তি আনারস খেয়ে একটি গর্ভবতী হাতি মারা যাওয়ার পরে। এত বড় অপরাধের ক্ষেত্রেও কোনও বিশেষ সাজা দেওয়া যায়নি আইনি কারণেই। সেই সময়েই এই আইনের সংশোধনের প্রস্তাব দেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর।

জানা গেছে, সংশোধিত নতুন আইনের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হচ্ছে তিন ধরনের পশু-হিংসার কথা। অল্প আঘাত, বেশি আঘাতের ফলে পশুর শরীরে স্থায়ী ক্ষতি, আঘাত করে মৃত্যু– এই তিন ক্ষেত্রে তিন মাত্রার সাজা হবে বলে জানা গেছে। ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে জরিমানার অঙ্ক হতে পারে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে পশুটির মূল্যের ৩ গুণ অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হতে পারে অপরাধীকে। শুধু তাই নয়, পশুটি প্রাণ হারালে অপরাধীকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে এই সংশোধিত আইনে।

সূত্রের খবর, এত দিন পর্যন্ত যে কোনও পশুকে অত্যাচার করলে বা মেরে ফেললেও ক্ষেত্র বিশেষে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়েই ছাড় পাওয়া যেত। ৬০ বছরের পুরনো এই আইনে এ বার বদল আনা বিশেষ দরকার বলে মনে করছে সরকার। তথ্য বলছে, ভারতের বিভিন্ন আদালতে এই মুহূর্তে মোট ৩১৬টি পশু-অত্যাচার নিয়ে মামলা চলছে। তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টেই রয়েছে ৬৪টি মামলা। প্রতিটি মামলাই আইনি ফাঁকে লঘু হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পশুপ্রেমীদের।

জানা গিয়েছে, আইন সংশোধনের খসড়া তৈরি হলে, তা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই যাতে ভালভাবে জানতে পারেন ও সতর্ক হতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে। তার পর সব মহলের মতামত নিয়েই নতুন আইন চূড়ান্ত করা হবে।

You might also like