Latest News

যশবন্তকে নিয়ে সিপিএমের কমরেডদের এত গাত্রদাহ কেন

অমল সরকার

এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (Presidential Election) যশবন্ত সিনহা বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলসহ বিরোধী শিবিরের সর্বসম্মত প্রার্থী। সিপিএমের বাংলার কমরেডদের অনেকেই তাতে খুশি নন। তাঁদের প্রথম আপত্তি যশবন্ত তৃণমূলের নেতা। দ্বিতীয় আপত্তি, তিনি সেই বিজেপিতে ছিলেন যে দল কিনা বাবরি মসজিদ ভেঙেছে।

Image - যশবন্তকে নিয়ে সিপিএমের কমরেডদের এত গাত্রদাহ কেন

সিপিএমে (CPM) এমন প্রতিক্রিয়া অপ্রত্যাশিত ছিল না। নানা গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ভুল করা, একই সঙ্গে ভুল স্বীকারের ভালোমানুষি করাতে সিপিএমের নেতৃত্বের জুড়ি মেলা ভার। তবে অতীতের তুলনায় এবারের গুণগত ফারাক আছে। দলীয় নেতৃত্ব একেবারে পার্টি লাইন মেনে বিজেপি বিরোধী কঠোর অবস্থান বজায় রেখে বিরোধীদের সর্বসম্মত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সীতারাম ইয়েচুরি গণশক্তি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি ভোট মতাদর্শের সংগ্রাম।’ ইয়েচুরি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন, পার্টির যশবন্ত-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত। আমার সন্দেহ আছে, এরপরও সিপিএমের অন্দরে যশবন্ত-কে নিয়ে মতভেদ কতটা দূর হবে।

মতভেদ অস্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু যশবন্ত সিনহাকে (Yashwant Sinha) নিয়ে আপত্তি শুধু মাত্র অসাড়, অরাজনৈতিক নয়, অন্ধ বিরোধিতা এবং এক ধরনের মৌলবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বস্তুত, এ রাজ্যে সিপিএমের রাজনীতি এই মানসিকতাকে জাগ্রত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তা হল, তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মানেই বিরোধিতা করো, যে কোনও মুল্যে অস্বীকার করো। তাতে বিজেপি বাড়ে বাড়ুক। গেরুয়া বাহিনী যদি তৃণমূলকে কোতল করতে পারে, তো ক্ষতি কি! অর্থাৎ, দেশ-কাল-সমাজকে পশ্চিমবঙ্গের বাস্তবতা দিয়ে দেখা। দেশ চুলোয় যায় যাক।

একথা ঠিক, দূরের আর কাছের শত্রুকে নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ফারাক হওয়া অসম্ভব নয়। এ রাজ্যে শাসন ক্ষমতায় তৃণমূল (TMC)। সেই সরকারের বিরুদ্ধে চাকরি-দুর্নীতি, সর্বত্র দলতন্ত্র কায়েমের অভিযোগের পাহাড় জমেছে। আবার এর কোনওটাই আমরা নতুন দেখছি তাও নয়। বাম-জমানার চিরকুট ব্যবস্থার ‌‌টুকরো নজির একটু একটু করে সামনে আসছে। প্রাচীন পুঁথির মতো বহুজনের কাছেই ‘কমরেড, আমাদের লোক’ লেখা হাজার হাজার হাতচিঠি মিলবে। বলা চলে ৩৪ বছরের বাম শাসনই এই ব্যাপারে জোড়াফুলের পাথেয়। তাই বলে তৃণমূলের পাপ মুছে যায় না।

কিন্তু বামেদের রাজনীতিটা কি শুধু তৃণমূলের টেট দুর্নীতি, এসএসসি কেলেঙ্কারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি যশবন্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সিপিএমের সমর্থন করাতে এমন কোনও বোঝাপড়াই হয়নি যে এই বিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে হলে এসএসসি-কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে বামপন্থীরা পথে নামতে পারবে না!

কেউ এ-কথা বলেনি। বলবেও না।

বিজেপি (BJP) এ রাজ্যে ক্ষমতায় নেই। থাকলে তারা কী করত, তা বুঝতে গত বিধানসভা ভোটের প্রচারে বলা কথাগুলি স্মরণ করাই যথেষ্ট। তাছাড়া, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কী হচ্ছে তা কি দূরবীণ দিয়ে দেখার প্রয়োজন পড়ে? অ-বিজেপি দল ও জোট শাসিত কোনও সরকারকে কি আজকের উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, ঘরের পাশে অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যের সঙ্গে এক করে দেখা যায়?

আসলে এ রাজ্য থেকে লোকসভায় এবং বাংলার বিধানসভায় বামেরা শূন্য হয়ে গেলেও একাধিক্রমে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার রেশ বঙ্গ সিপিএম এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কমরেডদের মনে ক্ষমতা হারানোর যন্ত্রণাদায়ক ক্ষতে তারা শুধু তৃণমূল ও তার নেত্রী সম্পর্কে ঘৃণা-বিদ্বেষ জাগিয়ে দায় সারছে। তৃণমূল জমানার অনাচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাঠে নেমে লড়াই করার বদলে তারা আশ্রয় করেছে সমাজমাধ্যমের দেওয়াল। যদি ধরে নিই, সমাজমাধ্যমের বীর-বিপ্লবীদের অ্যাকাউন্টগুলি ফেক নয়, তাহলে বলতেই হয়, দলটিকে ক্রমশ রাজনীতিহীন কুয়োর ব্যাঙেরা গ্রাস করছে।

যে কথা বলছিলাম, এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ, সিপিএম বরাবরই তৃণমূলকে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্যান ক্লাব’ ধরে নিয়ে ভেবেছে আর পাঁচটা এমন ফ্যান ক্লাবের মতো এটাও একটা সময় উবে যাবে। তাছাড়া, ৩৪ বছরের বাম শাসনের বছর দশেক পরেই দলটি একদল শহরমুখী পয়সাওয়ালা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ফেরৎ শিক্ষিত লোকেদের খপ্পরে চলে যায়। গরিবের পাশে থাকার নামে যারা গ্রামে, শহরে গরিব মানুষকে শাসন করার মহৎ কর্মে মেতে উঠেছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়, সংখ্যালঘু, জাতিগত মানদণ্ডে প্রান্তিক এবং মহিলাদের নেতৃত্ব থেকে দূরে ঠেলে রাখতে তাদের সক্ষমতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁরই সতীর্থদের কারও কারও ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’, ‘বস্তির মেয়ে’ কটাক্ষ সিপিএমের মধ্যেও তুমুলভাবে মান্যতা পেয়ে যায়। ফলে ক্ষমতা হাতছাড়া এবং ক্রমে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়া সিপিএমের জন্য বাড়তি মানসিক পীড়ার কারণ, যে দলটির কাছে তারা পদে পদে পর্যুদস্ত হচ্ছে সেটির শীর্ষে বিরাজ করছেন সেই মহিলাই।

সিপিএম সম্পর্কে নানা টুকরো অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কোনও নেতা তৃণমূলের মাথায় বিরাজ করলে যশবন্ত কেন, আর পাঁচটা ক্ষেত্রেও সিপিএমের প্রতিক্রিয়া অন্যরকম হত। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর অসুস্থতাকে লঘু করে দেখার প্রশ্ন ওঠে না। তবে ২০১১-র পালা বদলের পর ক্রমে তাঁর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অঘোষিত সন্ন্যাস গ্রহণের কারণ শুধু কি শুধুই অসুস্থতা?

মুখ্যমন্ত্রী এবং পার্টির নেতা—দুই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেই আমি বহু বছর খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতেন, কিন্তু নাম মুখে আনতেন না। সংবাদমাধ্যমের একাংশের কাছে এ জন্য বাহবা কুড়িয়েছেন। আমার কিন্তু মনে হয়েছে, এই আপাত ভালোমানুষিও এক ধরনের অবজ্ঞা, অস্বীকৃতি। আমার তাই ধারণা, মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার অস্বস্তি এড়াতেই তিনি ক্রমে নিজেকে গৃহবন্দি করেছেন। পরে ক্রমে অসুস্থতা গ্রাস করেছে তাঁকে।

যশবন্ত প্রসঙ্গে ফিরে যাই। তৃণমূলের নেতা ছাড়াও তাঁকে নিয়ে আপত্তির আর একটি কারণ শুনছি, তিনি বিজেপিতে ছিলেন, যে দল বাবরি মসজিদ ভেঙেছে। কোনও সন্দেহ নেই বাবরি ধ্বংস এ দেশের সমাজ ও রাজনীতির ডিএনএ-তে বদল এনে দিয়েছে। দেশপ্রেমকে ছাপিয়ে গিয়েছে হিন্দুত্বে আস্থার জিগির। হিন্দুত্ববাদী মানে দেশপ্রেমিক, এমন ধারণা এখন রাষ্ট্র স্বীকৃত।

বলতে গেলে বাবরি ধ্বংসের (Babri Mosque) মধ্য দিয়েই ঘোষিতভাবে হিন্দু রাষ্ট্র হওয়ার পথে যাত্রা শুরু এ দেশের। আজ তিন দশক পর বলতেই হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের ফারাক শুধু সংবিধানের ঘোষণাপত্রে। ওরা ঘোষিতভাবেই ইসলামিক রিপাবলিক, আমরা অঘোষিত হিন্দু রিপাবলিক। নরেন্দ্র মোদীর দল আজ অর্ধেকের সামান্য কয়েকটি বেশি রাজ্যে ক্ষমতাসীন হলেও তাদের রাজনীতির বিস্তাব ঘটেছে অনেক বেশি। ভোটের বাক্সে বিজেপির সাফল্য দিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের প্রভাবকে মাপা যাবে না।

কিন্তু বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীদের এই বিজয় শুধু তাদের কৃতিত্ব নয়, বরং তারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এত দূর আসতে পেরেছে। বন্ধ বাবরি মসজিদের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। বাবরি ধ্বংসের দিন উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় বিজেপি। কিন্তু দিল্লির মসনদে কংগ্রেসের নরসিংহ রাও। ধ্বংসের দায় যেমন বিজেপির, রক্ষা করতে না পারার দায় তেমনই কংগ্রেসের।

৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ছবি। ফাইল চিত্র।

দিনটা ছিল আজকের মতোই এক রবিবার। বাবরি ধ্বংসের সময় কী করছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী? সেই ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২-এর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দরজায় খিল দিয়ে বসেছিলেন রাও। হাতে গোনা এক-দু’জনের ফোন ধরেছেন। মাস কয়েক আগে প্রয়াত হয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মাধব গডবলে। স্যাটেলাইট ছবিতে অযোধ্যার ভয়াবহ দৃশ্য দেখে কী করণীয় জেনে নিতে তিনি বারে বারে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীকে। রাও শুনেছেন এবং চুপ করে থেকেছেন, আত্মজীবনীতে লিখেছেন গডবলে।

বাবরি রক্ষা করতে না পারার নৈতিক দায় নিয়ে কিছুদিন পরই চাকরি ছাড়েন ওই মারাঠি অফিসার। রাও কিন্তু দিব্যি আরও তিন বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মজজিদ রক্ষায় ৬ ডিসেম্বরের আগেই প্রধানমন্ত্রীকে তিনটি বিকল্প পথ বাতলে ছিলেন তাঁর স্বরাষ্ট্রসচিব গডবলে। এক. ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে কল্যাণ সিংয়ের সরকারকে বরখাস্ত করা। দুই. প্রাচীন সৌধ আইনে বাবরি মসজিদ-সহ লাগোয়া এলাকা অধিগ্রহণ করে এলাকাটি আধা সেনার হাতে তুলে দেওয়া। তিন. অযোধ্যা থেকে ঢিল ছোড়া দূরে ফৈজাবাদ ক্যান্টনমেন্ট। অযোধ্যা-ফৈজাবাদকে কিছুদিনের জন্য সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া। রাও কোনওটাই করেননি। তিনি যেন তৃতীয় গম্বুজটি ধূলিসাৎ হওয়ার খবরের অপেক্ষায় ছিলেন।

এর দিন তিনেক আগে জ্যোতি বসুও প্রধানমন্ত্রী রাওকে চিঠি লিখে উত্তরপ্রদেশের সরকারকে বরখাস্তের দাবি জানান। বসু লেখেন, আমরা নির্বাচিত রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত (সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ) করার বিরুদ্ধে বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের যা পরিস্থিতি তাতে কল্যাণ সিংয়ের সরকারকে ক্ষমতায় রেখে মসজিদ রক্ষা করা যাবে না।

Image - যশবন্তকে নিয়ে সিপিএমের কমরেডদের এত গাত্রদাহ কেন
৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ছবি। ফাইল চিত্র।

অনেকবারের চেষ্টায় একবারই মাত্র প্রধানমন্ত্রীকে সেদিন ফোনে ধরতে পেরেছিলেন মন্ত্রী মাখনলাল ফোতেদার। তখনও বাবরির তৃতীয় গম্বুজটি অক্ষত। মাখনলাল তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, ‘কিছু একটা করুন। শেষ গম্বুজটা রক্ষা করা না গেলে বিশ্বের কাছে মুখ দেখাতে পারব না।’ রাও জবাবে বলেন, ‘ফোতেদার, আমি তোমাকে একটু পর ফোন করছি।’ প্রধানমন্ত্রীর ফোন আর আসেনি। ফোতেদার চেয়েছিলেন, সংবিধানের রক্ষাকর্তা হিসাবে রাষ্ট্রপতি শঙ্করদয়াল শর্মা সন্ধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে ভাষণ দিন। শর্মা রাজি ছিলেন। রাও সম্মতি দেননি।

এত কিছুর পরও আরও তিন বছর সিপিএম-সহ বামপন্থীরা যে নরসিংহ রাওয়ের সংখ্যালঘু সরকাররে নানা কৌশলে সংসদে রক্ষা করে গিয়েছে, সেই সরকারকে তাদের দুর্নীতির জন্যও মনে রাখবে দেশবাসী। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শেয়ার দালালের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সাংসদ কেনার অভিযোগ তো ছিলই। চিনি, সার, টেলিকম, দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় জমে। সিবিআই গ্রেফতার করার সময় টাকার বালিশে ঘুমিয়ে ছিলেন মন্ত্রী সুখরাম। আর উদার অর্থনীতির মারণ কামড় তো ছিলই। তবু বিজেপিকে আটকাতে সেই সরকারকে চোখের মণির মতো রক্ষা করে গিয়েছে বামপন্থীরা। ক্রমে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের সখ্য বেড়েছে।

বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ীর সঙ্গে খুশির মুহূর্ত নরসিংহ রাওয়ের। ফাইল চিত্র।

কংগ্রেস কী করেছে? বাবরি ধ্বংসের ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি রাওয়ের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে পরের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি। মারা যাওয়ার পর পরিবারের আর্জি সত্ত্বেও দিল্লিতে সৎকারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকী কংগ্রেসের সদর দফতরে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা দলীয় সভাপতির দেহ। হায়দরাবাদে এতটাই অনাদরে রাওয়ের অন্ত্যেষ্টির আয়োজন হয়েছিল যে পুরো দেহ দাহ হওয়ার আগেই সরকারি আধিকারিকরা শ্মশান ছেড়ে চলে যান। মাঝপথে চিতা নিভে গেলে কুকুরেরা ভিড় করে সেখানে।

কিন্তু বাবরির তালা খুলে দিয়ে মন্দির-মসজিদ রাজনীতির দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া রাজীব গান্ধী, এবং বাবরি ধ্বংসের আগের দিন লখনউয়ে করসেবকদের খেপিয়ে তোলা অটলবিহারী বাজপেয়ীরা ভারতরত্ন। সমকালীন রাজনীতির বাস্তবতা মানতে হলে বামপন্থীদের পক্ষে রাজীব গান্ধীর ভারতরত্ন খেতাব কেড়ে নেওয়ার দাবি তোলা কঠিন। তাই বাজপেয়ীর ক্ষেত্রেও তাদের চুপ থাকতে হয়েছে।

Image - যশবন্তকে নিয়ে সিপিএমের কমরেডদের এত গাত্রদাহ কেন
বাবরি মসজিদের তালা খুলে দেওয়ার পর মথুরায় মাচান বাবার পায়ে কপাল ঠেকাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। ফাইল চিত্র।

যশবন্ত সিনহার রাজনীতিতে হাতেখড়ি জনতা পার্টিতে। ছিলেন চন্দ্রশেখরের অনুগত, যিনি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, মাত্র কয়েক মাসের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে বাবরি রক্ষায় গ্রহণযোগ্য সমাধান সূত্র বের করেছিলেন। রাজীব গান্ধী তা জানা মাত্র সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। সেই যশবন্ত সিনহা বিজেপিতে ছিলেন। আজ যদি কংগ্রেসে থাকতেন, অন্ধ বামপন্থীরা আপত্তি তুলতেন কী?

যশবন্তর আগে প্রাক্তন কংগ্রেসি শরদ পাওয়ারের নামে বাম শিবির-সহ বিরোধীরা সর্বসম্মত হয়েছিলেন। সত্য এটাও, বাবরি ধ্বংসের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলিতে মসজিদ রক্ষা নিয়ে পাওয়ার একটি কথাও বলেননি।

মহারাষ্ট্রে কাল বিধান পরিষদ ভোটেও কেন অগ্নিপরীক্ষার মুখে শাসক জোট

You might also like