Latest News

রূপকথা নয়, বাস্তব! বিয়ের ঠিক আগে দুর্ঘটনায় ভাঙল কনের শিরদাঁড়া, বিয়ে কিন্তু ভাঙল না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের দিন সকালে যে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ। ছাদে খেলতে খেলতে পড়ে যাচ্ছিল একটি শিশু। তাকে বাঁচাতে গিয়ে, ভারসাম্য হারিয়ে সটান নীচে পড়ে যান আরতি মৌর্য। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় শিরদাঁড়া। বিয়ের তখন আর সাত-আট ঘণ্টা বাকি। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, বিয়ে তো ভেঙে গেলই, জীবনটাই বোধহয় শেষ হয়ে গেল আরতির।

কিন্তু সিনেমার মতো বাস্তবও হয় কখনও কখনও! শাহিদ কাপুর-অমৃতা রাওয়ের ‘বিবাহ’ ছবিটা মনে পড়ে? বিয়ের আগেই কনের বাড়িতে আগুন লেগে পুড়ে যান কনে। দগ্ধ, ঝলসানো সে মেয়েকেই বিয়ে করেন হবু বর। এত বড় বিপদের ঝাপটা যেন খানিক কমে আসে ভালবাসার পরশে।

আরতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটে। উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের বাসিন্দা অবধেশ জানিয়ে দেন, দুর্ঘটনায় বিয়ে কেন রুখবে! ততক্ষণে বাড়ির সানাই থেমে গেছে, কান্নাকাটি আর হাহাকার দু পরিবারেই। এসবে কান দেননি অবধেশ। কারণ পা-কোমর-পিঠে মারাত্মক চোট নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আরতি। অবধেশ ভালবেসেছেন আরতিকে, বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেছেন। তার নড়চড় হয়নি এই চরম বিপদেও।

চিকিৎসকরা জানান, আরতি কার্যত পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন, বেশ কয়েক মাস বিছানা থেকে নড়তেই পারবেন না। চিকিৎসার পরেও তাঁর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কমই। অর্থাত, এ যেন জেনেশুনে এক পঙ্গু মেয়েকে বিয়ে করা! অন্তত সমাজের চোখে এটা তাই। অতি সাধারণ পরিবারে সাধারণ মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠা অবধেশ অবশ্য সমাজের ঊর্ধ্বেই ভালবাসা ও প্রতিশ্রুতির দাম রাখতে শিখেছেন। তাই দৃষ্টান্ত গড়লেন তিনি।

বিয়ের যে লগ্ন ঠিক ছিল, সে সময়েই হাসপাতালে গিয়ে আরতিকে বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেন তিনি। তাঁর এমন জেদ দেখে, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখে, উঠে-পড়ে লাগেন চিকিৎসকরাও। আরতিকে খানিকটা সুস্থ করে, অ্যাম্বুল্যান্সে করে দু’ঘণ্টার জন্য বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন তাঁরা।

স্ট্রেচারে শুয়ে কনে, অক্সিজেন, স্যালাইন চলছে। সেই অবস্থাতেই তাঁকে সিঁদুর পরান অবধেশ। যাবতীয় অনুষ্ঠানও পালন করা হয়, ওভাবেই। আরতির ব্যথাতুর মুখে হাসি ফোটে নতুন কনের। দ্রুত বিয়ে সেরে ফের হাসপাতালে ফিরে যান আরতি, পরের দিন অপারেশন হয় তাঁর। ফর্মে সই করেন নতুন স্বামী অবধেশ।

বিয়ের পরে প্রায় দশ দিন পেরিয়েছে, এখনও হাসপাতালেই আরতি। অবধেশও তাই, নতুন বউয়ের যত্ন নিয়ে যাচ্ছেন সময়ে সময়ে। আরও কয়েক সপ্তাহ পরে বাড়ি ফিরতে পারবেন আরতি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন যত্ন পেলে সেরে ওঠা সময়ের অপেক্ষা।

You might also like