Latest News

বাংলায় বাঁধের বেহাল দশা! চিন্তার মেঘ জমছে কেন নবান্নে

রফিকুল জামাদার

বাংলায় এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এরমধ্যেই একাধিক নদী বাঁধের (River Dam) বেহাল দশা (Poor Condition) বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। দামোদর, মহানন্দা, দ্বারকেশ্বর, মুড়িগঙ্গা, সাগর—এই নদী বাঁধগুলির অবস্থা তথৈবচ। মুড়িগঙ্গা ও সাগরের নদী বাঁধের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা মেরামতির জন্য যে পরিমাণ টাকা দরকার তা এখনই নবান্ন জোগান দিতে পারছে না বলে খবর। ফলে, বাংলায় বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এবারও সেই কথা মাথায় রেখে সমীক্ষা চালানো হয়। তাতেই দেখা যায় বাঁধগুলির বেহাল দশা। নবান্ন সূত্রে খবর, এই মেরামতির কাজ করতে এখনই ২৫০ কোটি টাকা চাই। কাজটা শুরু করতে হলেও প্রয়োজন ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকা। কিন্তু নবান্নের আর্থিক অবস্থা যা তাতে এই মুহূর্তে সেটাও মুশকিল বলে মত সরকারি আধিকারিকদের।

ছেঁড়া তারে পা দিতেই ছিটকে গেলেন বৃদ্ধ! তেহট্টের পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু

কেন্দ্রের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে প্রায়ই দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি দিয়ে বাংলার জন্য এক লক্ষ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন মমতা। তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, বাংলাকে আর্থিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখতে চাইছে দিল্লি। সামাজিক প্রকল্প তো বটেই, জরুরি পরিষেবার কাজও করা যাচ্ছে না। আসলে বাংলার মানুষকে দুর্দশায় ফেলে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে দিল্লি।   

এই অবস্থায় সেচ দফতর একটা বিকল্প পন্থা কার্যকর করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাও শুক্রবার পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি বলে খবর। সেচ দফতর চেষ্টা করেছিল, ওয়ার্ক অর্ডার জারি করে কাজটা ঠিকাদারদের দিয়ে শুরু করিয়ে দিতে। বলা হয়েছিল, নবান্ন টাকা ছাড়লে তাঁদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সে ব্যাপারে ঠিকাদাররা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে পাথরপ্রতিমার জি প্লট সংলগ্ন গ্রামে নোনাজল ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছে। সার্বিক ভাবেই নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষজন কার্যত আতঙ্কের প্রহর গুণছেন। বানভাসি হওয়ার আশঙ্কা ক্রমশই গ্রাস করছে তাঁদের।

You might also like