Latest News

Piyali Basak: এভারেস্টের শেষ ৪০০ মিটার! সামিট হলেও, অক্সিজেন-বিহীন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন অধরা পিয়ালীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল সকাল খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল রাজ্যজুড়ে। খবর এসেছিল, চন্দননগরের তরুণী পিয়ালী বসাক (Piyali Basak) এভারেস্টের শীর্ষ স্পর্শ করেছেন সফল ভাবে। শুধু তাই নয়, তিনি কৃত্রিম অক্সিজেনের সাপোর্ট ছাড়াই এই কাণ্ড ঘটিয়ে রেকর্ড গড়েছেন প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে। উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও অভিনন্দনের ঢল নেমেছিল সর্বত্র। তবে কয়েক ঘণ্টা পরেই জানা গেল, সফল আরোহণের হলেও, কৃত্রিম অক্সিজেনের সাপোর্ট ছাড়া আরোহণের রেকর্ড হয়তো গড়া হয়নি পিয়ালীর। থেকে গেছে সামান্য খামতি।

বিষয়টা কী?

পিয়ালী বসাক (Piyali Basak) যে অভিযান আয়োজক সংস্থার সঙ্গে এভারেস্ট এক্সপিডিশনে গেছেন, সেই ‘পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার’ সংস্থার সঙ্গে কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট সামনে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, এজেন্সির তরফে জানানো হচ্ছে, ৮৪৫০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পিয়ালী সাপ্লিমেন্টারি অক্সিজেন ছাড়া আরোহণ করলেও, তার পরে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় বাকি পথটুকু অক্সিজেন নিতে হয়েছে তাঁকে।

Image - Piyali Basak: এভারেস্টের শেষ ৪০০ মিটার! সামিট হলেও, অক্সিজেন-বিহীন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন অধরা পিয়ালীর

এভারেস্টের উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার। অর্থাৎ শেষ ৩৯৮ মিটার উচ্চতা পিয়ালী অক্সিজেনের সাপোর্ট নিয়েই আরোহণ করেছেন, এমনটাই জানিয়েছে পায়োনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার। কলকাতার পর্বতারোহী দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই কথোপকথন হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থাৎ, এক্ষেত্রে টেকনিক্যালি বলা যায় না, বিনা অক্সিজেনে এভারেস্ট আরোহণ করে রেকর্ড গড়তে পেরেছেন পিয়ালী (Piyali Basak)। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর সাফল্যকে কোনও ভাবেই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই বলেই মনে করছে পর্বতারোহণ মহল। ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানে গিয়েও ফিরে আসতে হয় পিয়ালীকে। এর পরে তিনি ২০২১ সালে মাউন্ট ধৌলাগিরি শৃঙ্গ আরোহণ করেন, অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই। এবার লক্ষ্য ছিল এভারেস্ট এবং লোৎসে, বিনা অক্সিজেনে আরোহণ করার। এভারেস্ট আরোহণ হয়েছে, তবে পুরোটা বিনা অক্সিজেনে নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। লোৎসে এখনও বাকি।

May be an image of 2 people

মাথায় বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে এই এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন পিয়ালী। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই আরোহণ করে রেকর্ড গড়বেন। এটা যে অনেক বড় ঝুঁকি নেওয়া, তাও মনে করেছিলেন অনেকেই। শেষমেশ ঝুঁকি পার করে আরোহণ সফল হয়েছে। তবে শেষ অংশটুকু অক্সিজেন নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সম্মানও জানিয়েছেন অনেকেই। কারণ, অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের মতে, পর্বতারোহণ এমন একটা স্পোর্টস, যেখানে খুব জরুরি হল, নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝা। সেখানে গায়ের জোরে কিছু হয় না, বড় ভুলের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠে আরোহণ করতে গিয়ে বিপদে পড়েন অভিযাত্রীরা।

May be an image of 1 person and nature

এই প্রসঙ্গে অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে, বাঙলার আর এক মহিলা পর্বতারোহী ছন্দা গায়েনের কথা। ২০১৪ সালে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও পার্শ্ববর্তী শৃঙ্গ ইয়ালুং কাং একসঙ্গে আরোহণ করতে গিয়ে বরফের কোলে চিরতরে হারিয়ে যান তিনি। সঙ্গে হারিয়ে যান দুই শেরপাও। তৃতীয় যে শেরপা ছন্দার সঙ্গে ছিলেন, তাশি, তিনি ফিরে এসে বয়ান দিয়েছিলেন সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার। তিনি জানিয়েছিলেন, শারীরিক শক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও খানিক জোর করেই নিজের স্বপ্ন সফল করতে চেয়েছিলেন ছন্দা। ভেঙে পড়েছিলেন, সফল সামিট না হলে ‘স্পনসর’রা কী বলবেন, তাই ভেবে। একরকম জোর করেই ছন্দা আরোহণ করছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তাশি।

May be an image of one or more people and outdoors

তার ফল ভাল হয়নি। মাত্রাবোধের অভাবে অকালে শেষ হয়ে গেছিল তিনটি প্রাণ।

সেই ছন্দার কথা মাথায় রেখেই অনেকেই বলছেন, শেষ কয়েকশো মিটার বাকি থাকা সত্ত্বেও পিয়ালী (Piyali Basak) যে জোর করে বিনা অক্সিজেন সাপোর্টে এভারেস্ট আরোহণের জেদ বজায় রাখেননি, তা অত্যন্ত ভাল সিদ্ধান্ত। হয়তো খাতায়-কলমে রেকর্ড ছোঁয়া হল না, কিন্তু সফল ও সুস্থ আরোহণের শেষে নিরাপদে ফিরে আসা নিশ্চিত করা গেল। এটাই পাহাড়ে সবচেয়ে বড় ব্যাপার।

একদিকে ঋণের পাহাড়, অন্যদিকে পাহাড়চুড়ো! পিয়ালীর এভারেস্ট সামিট যেন টানটান স্নায়ুযুদ্ধ

You might also like