Latest News

ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ঠেকাতে থার্ড ডোজ দিতে চায় ফাইজার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুরো এশিয়া জুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছে তাইল্যান্ড। এই পরিস্থিতিতে ফাইজার ও বায়োএনটেক চায়, মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভ্যাকসিনের তৃতীয় একটি ডোজ দিতে। তাদের ধারণা, সেক্ষেত্রে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যাবে।

সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপান অলিম্পিকসের বেশিরভাগ ইভেন্টে দর্শকদের ঢুকতে দেবে না বলে স্থির করেছে। অলিম্পিকস শুরু হওয়ার আগে টোকিওতে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট প্রথমে ধরা পড়ে ভারতে। সেখান থেকে তা নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার ফাইজার ও বায়োএনটেক বলেছে, তাদের আশা, ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ নিলে মানুষ ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট থেকে অনেকাংশে সুরক্ষিত থাকবে। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা তৃতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের কাছে অনুমোদন চাইবে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, তৃতীয় ডোজ নিলে করোনাভাইরাসের আদি স্ট্রেন ও বিটা ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আশা করা যায়, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের ক্ষেত্রেও তাই হবে। একইসঙ্গে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের কথা ভেবে বিশেষভাবে তৃতীয় ডোজ তৈরি করা হচ্ছে।

গত ৩ জুলাই হু-র প্রধান তেদ্রোস আদহানম ঘেব্রেইসাস সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ভারতে প্রথম দেখা গিয়েছিল করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট। এখন অন্তত ৯৮ টি দেশে ওই ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়েছে। কোনও কোনও দেশে বেশিরভাগ করোনা রোগীর শরীরে এই ভ্যারিয়ান্ট পাওয়া যাচ্ছে। আমরা অতিমহামারীর এক বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছি।

হু প্রধান বলেন, যে দেশগুলিতে টিকাকরণের হার কম, সেখানকার হাসপাতালগুলিতে ফের দেখা যাচ্ছে রোগীদের ভিড়। ঘেব্রেইসাসের মতে, “এই পরিস্থিতিতে কোনও দেশই নিরাপদ নয়।” হু-র বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, ক্রমাগত ডেল্টা ভাইরাসের অভিযোজন ঘটছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে হু প্রধানের পরামর্শ, ডেল্টা ভাইরাসের কীরকম অভিযোজন হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। সেইমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘেব্রেইসাসের মতে, কোনও দেশ দু’ভাবে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির মোকাবিলা করতে পারে। প্রথমত, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মজবুত করে তুলতে হবে। নজরদারী আরও বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি বেশি টেস্টিং, দ্রুত কোভিড রোগীকে চিহ্নিতকরণ, রোগীকে আইসোলেশনে পাঠানো, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব রাখা নিশ্চিত করা ইত্যাদিও কোভিডকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

দ্বিতীয়ত, কোভিড সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য উপযুক্ত পোশাক, অক্সিজেন এবং ভ্যাকসিন যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রাখতে হবে।

You might also like