Latest News

শিক্ষায় কী ভাবে বাড়ানো যায় উৎকর্ষ, উত্তর খুঁজতে ফেসবুকে পার্থ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মেয়াদের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কয়েক বছর ধরে এই পদে থেকে, সারা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে কোথায় কী অসুবিধা, কী কী অভিযোগ উঠেছে, তার সবটাই তাঁর নখদর্পণে থাকার কথা। এসএসসি নিয়োগ থেকে শুরু করে কলেজে ভর্তির দুর্নীতি– নানা সময়ে নানা বিষয় নিয়ে রাজ্যবাসীর বিরাগভাজনও হয়েছেন তিনি। বারবার অভিযোগ উঠেছে নানা বিষয় ঘিরে। তার পরেও, এত দিন বাদে সমস্যার খোঁজ করতে মাঠে, থুড়ি, ফেসবুকে নেমেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আজ, সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন পার্থ। সমস্ত ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর উদ্দেশে লেখেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও উৎকর্ষ আনার জন্য কি কোনও উন্নতি করা দরকার? মতামত দিন।”

দেখুন সেই ফেসবুক পোস্ট।

ANNOUNCEMENT :-[[ TO THE STUDENT'S COMMUNITY, TEACHERS AND OTHERS WHO ARE ASSOCIATED WITH EDUCATION ]]PLEASE SUGGEST ANY IMPROVEMENT TO ACHIEVE HIGHER EXCELLENCE IN OUR EDUCATION SYSTEM ?THANK YOU !

Partha Chatterjee এতে পোস্ট করেছেন সোমবার, 27 মে, 2019

মাস খানেক আগেই এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, প্যানেলে নাম থেকেও, চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের অনশন চলছিল প্রেস ক্লাবের সামনে। প্রায় ৩০ দিনের অনশনের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে তা ভাঙে। তিনি জানান, জুন মাসে আলোচনায় বসবেন প্রার্থীদের সঙ্গে।

রাজ্যের রাজনীতির ইতিহাসে এত বড় অনশন আগে দেখা যায়নি। বারবার অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় গাফিলতি রয়েছে। এই ঘটনার মাস খানেকের মাথাতেই ফেসবুকে পোস্ট করে উৎকর্ষের উপায় খুঁজলেন পার্থ।

পার্থ এই পোস্ট করার কিছু ক্ষণের মধ্যেই অবশ্য তাঁর কমেন্ট বাক্স ভরে যায় নানা মতামতে। কেউ বলেন কলেজের ক্যাজ়ুয়্যাল কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে, কেউ আবার বলেন প্রাথমিকের শিক্ষকদের মিউচুয়্যাল ট্রান্সফারের বিষয়টি আর একটু মসৃণ করতে। কেউ বলেন পাশ-ফেল চালু করতে। কেউ বা বিরোধিতা করেন প্রাইভেট টিউশনের। এরকম হাজারো মতামতে ভরে ওঠে ফেসবুক।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই মতামত বা খামতি বা কমতিগুলোর ব্যাপারে কি সত্যিই কিছু জানেন না শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়? অভিযোগ তো ভূরি ভূরি। সে সবের সমাধানে তেমন কোনও বড় পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি তাঁকে। বারবার অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতির, অবহেলার। তা হলে সে সবের সমাধান না করে, হঠাৎ ফেসবুকে মতামত চাইতে হল কেন শিক্ষামন্ত্রীকে?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, লোকসভা ভোটে সাম্প্রতিক ভরাডুবির কারণ হিসেবে দলের শীর্ষ নেতারা অনেকেই মনে করেছেন জনসংযোগের অভাব। মানুষের সমস্যার কাছে পৌঁছে সেগুলি শোনা এবং সমাধান করাই সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে এই সময়ে। সেই কারণেই, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতেই হয়তো এমন পদক্ষেপ করার কথা ভেবেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যয়।

তবে সে যা-ই হোক, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার।

You might also like