Latest News

Paresh Adhikary: পরেশের মেয়ের শিক্ষিকার চাকরিতে জালিয়াতির অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদা তিনি ছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী। কোচবিহারের ফরওয়ার্ড ব্লকের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। সেই তিনি পরেশ অধিকারী (Paresh Adhikary) পরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। দেখা যায় তারপর তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী চুপিচুপি স্কুল শিক্ষিকার চাকরি পেয়ে গিয়েছিলেন মেখলিগঞ্জের স্কুলে। সেই নিয়ে মামলা চলছিল হাইকোর্টে (High Court)। এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অঙ্কিতার চাকরি কী করে হল, তাতে কোনও জালিয়াতি রয়েছে কি না তা তদন্তের জন্য সিবিআইকে (CBI) দায়িত্ব দিলেন।

পরেশের মেয়ের নাম লিস্টে ছিল না, প্রমাণ আছে? স্কুল সার্ভিস নিয়ে রাগত জবাব পার্থর

২০১৮ সালে এই খবর প্রথম সামনে এনেছিল দ্য ওয়াল (Paresh Adhikary)। এদিন ওই মামলায় হাইকোর্ট বলেছে, এই নিয়োগে বড় ষড়যন্ত্র হয়ে থাকতে পারে। মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যে নিজাম প্যালেসে সিবিআই অফিসারদের সামনে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে হাজিরা দিতে বলেছে আদালত।

কীভাবে চাকরি হয়েছিল পরেশ-কন্যা অঙ্কিতার (Paresh Adhikary)?

২০১৮ সালের অগস্ট মাসের শেষে তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে মহাসচিব, তথা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পৌরোহিত্যে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কোচবিহারের পরেশ অধিকারী। তার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই কোচবিহারে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগের ‘ওয়েট লিস্টে’ নাম উঠেছিল তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। সেই সময়ে ওই ব্যাপারে জবাব দেননি পরেশ বা স্কুল সার্ভিস কমিশন। ২০১৯ সালে এই পরেশ অধিকারীকেই লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তাতে তিনি হেরে যান। ২০২১ সালে ফের তাঁকে মেখলিগঞ্জ থেকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করা হয়। সেখানে তিনি জেতেন। এখন পরেশ অধিকারী রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

শুধু পরেশ-কন্যা নন, এসএসসিতে গরমিলের গল্প ভূরিভূরি

গোটা বিতর্কের সূত্রপাত কী করে?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিসের মেধা তালিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, স্কুল সার্ভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পিডিএফ ফরম্যাটে মেধা তালিকা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কোচবিহারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য এসএসসি তালিকা প্রকাশ করেছিল। তফসিলি জাতিভুক্তদের জন্য মেধা তালিকার ওয়েটিং লিস্টে প্রথম স্থানে নাম ছিল ববিতা বর্মনের। যাঁর রোল নম্বর ছিল, ২২২২১৬২৭০০০৭২০। ববিতা বর্মনের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল লোপামুদ্রা মণ্ডল ও ছায়া রায়ের নাম।

মেয়ের চাকরি থেকে নিজের লোকসভার টিকিট, পরেশের প্রাপ্তি যোগ লেগেই রয়েছে

অথচ পরবর্তীতে এসএসসি-র ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনের ওয়েট লিস্টে দেখা যায় ববিতার নাম চলে গিয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে রয়েছে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নাম। উল্লেখযোগ্য হল, এক দিন আগে পর্যন্ত তালিকায় নামই ছিল না অঙ্কিতার। তাছাড়া ওয়েট লিস্টে থাকা প্রার্থীদের নাম ক্রমশ উপরের দিকে ওঠার কথা। অর্থাৎ কোনও শূন্যপদ তৈরি হলে ওয়েট লিস্টে প্রথম স্থানে থাকা প্রার্থী সুযোগ পাবেন। তখন দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর নাম প্রথম স্থানে উঠে আসবে। সেই শর্তে কোনওভাবেই ববিতার নাম দ্বিতীয় স্থানে যাওয়ার কথা নয়।

স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ ও প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে। পরবর্তীতে তালিকায় নাম থাকা চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের সময়েও অঙ্কিতাকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। এর কিছুদিন পর মেখলিগঞ্জে তাঁর বাড়ির পাশের স্কুলে দিদিমণি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অঙ্কিতা।

প্রায় চার বছর পর সেই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত। এমনিতেই স্কুল সার্ভিস নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের নাস্তানাবুদ অবস্থা। বাগ কমিটির রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা দেখে বিরোধীদের অনেকে বলছেন, এটা আর একটা ব্যাপম কেলেঙ্কারি। এবার চার বছর আগে একটি নিয়োগের মামলাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এখন দেখার কী করেন পরেশ। কী পদক্ষেপ নেয় সিবিআই।

আরও পড়ুন: তিন মাস আগে হইচই হয়েছিল, পরেশের মেয়ে চাকরিটা পেয়েই গেল মেখলিগঞ্জের স্কুলে

You might also like