Latest News

স্কুলের পুরো মাইনে দেবেন কীভাবে? হাইকোর্টের রায়ে মাথায় হাত অভিভাবকদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সময়ে রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলির (Private school) ফি (School Fee) ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। তবে গতকাল এই ‘ফি’ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সেই পুরনো নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানানো হয়েছে করোনা অনেক কমেছে। তাই মার্চ মাস থেকে বেসরকারি স্কুলগুলি আগের মতোই পুরো ফি ও অন্যান্য চার্জ নিতে পারবে।

এই রায় বেসরকারি স্কুলগুলির ক্ষেত্রে স্বস্তির হলেও, অভিভাবকদের ক্ষেত্রে তা মোটেই সুখকর নয়। করোনার গ্রাফ নিম্নগামী হলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি, তাই এখনই পুরো ফি দেওয়ার রায়ে অস্বস্তিতেই পড়েছেন অভিভাবকরা।

শুধু তাই নয়, অভিভাবক মহল থেকে উঠে এসেছে আরও নানান অভিযোগ। কেউ জানাচ্ছেন, ফি কমানোর কথা থাকলেও সেটা মানা হয়নি, আবার কেউ জানাচ্ছেন, ক্লাস বন্ধ থাকলেও স্কুলের ইলেট্রিক বিল থেকে মেন্টেনেন্স চার্জ সবটাই নিয়েছে স্কুলগুলো। তবে ২০ শতাংশ ফি কম নেওয়ায় কিছুটা সুরাহা হচ্ছিল, এক বাক্যে সেকথা জানালেন অভিভাবকরা।

আরও পড়ুনঃ প্রাক-প্রাইমারি পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরাতে নয়া উদ্যোগ শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির

ছেলেকে দু’বছর হল শহরের এক বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করেছেন তমালিকা ঘোষ দত্ত। কিন্তু নব নালন্দায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছেলে এখনও পর্যন্ত একদিনও স্কুলের গন্ডি পেরোয়নি। অনলাইনেই পড়াশুনা করেছে তাঁর বছর ছয়ের ছেলে। কিন্তু মাসে মাসে মাসে তাঁকে স্কুলের ফি দিতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই এমন রায় কেন এল?

তিনি বলেন, ‘হয়তো করোনা সংক্রমণ কমেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু করোনার ফলে আর্থিক পরিস্থিতির যে খারাপ অবস্থা হয়েছে, তা থেকে আমাদের মত অনেকেই তা কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেননি। পুরনো কাঠামোয় ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে একদমই ঠিক নয়।’

তেমনই কথা শোনা গেল আরেক অভিভাবক অনিন্দিতা দাশগুপ্তের গলাতেও। তাঁর মেয়ে কলকাতার অশোকা হলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তাঁর কথায়, ‘করোনা কমের দিকে ঠিকই, কিন্তু সবকিছু কি স্বাভাবিক হয়েছে? এই মুহূর্তেই এখনই ফি বাড়ানো ঠিক নয়।’

সুব্রত সাহা নামে এক অভিভাবক যেমন এখনই ‘ফি’ বাড়ানোর বিরুদ্ধে সওয়াল করলেন, তেমনই তুলে ধরলেন আরেক প্ৰশ্নও। তাঁর কথায়, ‘স্কুল বন্ধ থাকার পরেও আমাদের কেন বিদ্যুৎ খরচ থেকে মেন্টেনেন্স চার্জ দিতে হবে?’ তাঁর মেয়ে ডায়াসেশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

অন্যদিকে, পার্থসারথি সেনগুপ্ত নামে আরেক অভিভাবক তুলে ধরলেন অন্য এক সমস্যার কথা। তাঁর দুই সন্তানই শহরের বেসরকারি স্কুলের পাঠরত। তাই অভিভাবক হিসেবে এই পরিস্থিতিতে খরচ সামাল দেওয়া কিছুটা কঠিন বলে জানাচ্ছেন পার্থবাবু।

তাঁর দুই সন্তানই পড়ে নিউটাউনের দিল্লি পাবলিক স্কুলে। পার্থবাবু বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কালকেই রাজ্যে করোনা সংক্রমণ চারশোর কাছাকাছি ছিল। এমন অবস্থায় একবারে ২০ শতাংশ ফি বাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ালে আমাদের মত অভিভাবকদের একটু সুবিধা হত।’

তবে, অভিভাবকদের একাংশ আবার হাইকোর্টের রায়ে খারাপ কিছু দেখছেন না। সবকিছুই যখন খুলে গেছে, তখন বেসরকারি স্কুলগুলোও আগের ফি-তে ফিরতে পারে বলে মত অভিভাবকদের একাংশের। শতাব্দী বাগচী নামক এক অভিভাবক জানান, ‘করোনার সময় অনেক ক্ষেত্রেই অনেকের চাকরি ছিল না, বেতন সমস্যা ছিল, ব্যবসায় মন্দা ছিল কিন্তু এখন অনেক স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। সেখানে স্কুলের ফি দিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাঁরা বেসরকারি স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করেছি তাঁরা স্কুল ফি জেনেই ভর্তি করেছি। এখনও সেটা ভাবা উচিত। স্কুলগুলোকে তো শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মীদের মাইনে দিতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুনঃ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে নৈশভোজ নীতীশের, জল্পনা

বেসরকারি স্কুল ‘ফি’ নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করছে ইউনাইটেড গার্ডেন্স অ্যাসোসিয়েশন। আট দফা দাবি ছিল তাঁদের বরাবরই। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, বেসরকারি স্কুলগুলির ‘ফি’ হ্রাস। সেই সংক্রান্ত মামলাও করেছিলেন তাঁরা হাইকোর্টে। তবে গতকালের হাইকোর্টের রায়ে ‘দ্বিচারিতা’ দেখছেন অভিভাবকদের এই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট যখন ২০২০ সালে অক্টোবর মাসে রায় দিয়েছিলেন তখন বলেছিল যে পুরোমাত্রায় স্কুল চালু হওয়ার একমাস পর থেকে পুরনো ফি নেওয়া হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে রাজ্যে স্কুল খুলেছে ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ থেকে। এছাড়াও এখনও অনেক বেসরকারি স্কুলই খোলেনি। অনেকে বলেছে পরের মরসুম থেকে স্কুল খুলবে। তাহলে মার্চ মাস থেকে কেন টাকা নেওয়া হবে?’ তাঁরা এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে বলে ঠিক করেছেন। হাইকোর্টে নয়, তবে আগের মতই আন্দোলন করবে।

প্রসঙ্গত, গতকালের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে করোনা সংক্রমণ অনেক কমেছে রাজ্যে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পঠনপাঠন। স্কুল খুলছে। ১ মার্চ থেকে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলগুলি আগের মতোই ফি নিতে পারবে। পাশাপাশি, করোনাকালের বকেয়া স্কুল ফি-র ৫০ শতাংশ দিতে হবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ‘

You might also like