Latest News

‘প্যান্ডোরা পেপার’ ফাঁস, নানা দেশের নেতাদের গোপন সম্পত্তির হদিশ, অভিযোগ ইমরান ঘনিষ্ঠদের নামেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোন রাষ্ট্রপ্রধান গোপনে কী পরিমাণ অর্থ জমিয়েছেন? এই নিয়ে তদন্ত করেছিল সাংবাদিকদের এক আন্তর্জাতিক সংঘ। মোট ১৪ টি আর্থিক সংস্থার থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ নথি সংগ্রহ করেছেন সাংবাদিকরা। ওই নথিগুলিকে বলা হচ্ছে প্যান্ডোরা পেপার (Pandora paper)। তাতে দেখা যায় এক ডজনের বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান গোপনে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, সব দেশের রাজনীতিকরাই আছেন তাঁদের মধ্যে। সাংবাদিকদের সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে অতি ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা সকলের চোখ এড়িয়ে হাজার হাজার কোটি ডলার সঞ্চয় করেছেন। তাঁদের সাহায্য করার জন্য নানা সংগঠন সক্রিয়।

অনেক দেশই নাগরিকদের বিদেশে অর্থ জমা রাখতে অনুমতি দেয়। সেই সুযোগে ধনীরা এমন দেশে অর্থ গচ্ছিত রাখেন যেখানে করের হার কম। সাংবাদিকদের সংঘের তরফে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা ধনীদের বিদেশে অর্থ গচ্ছিত রাখতে সাহায্য করে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলিতেও এই ধরনের চক্র সক্রিয়। তারা বিভিন্ন নামী ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে কাজ করে।

যে রাষ্ট্রপ্রধানরা বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমিয়েছেন, তাঁদের তালিকার শীর্ষে আছে জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার নাম। তিনি বিদেশি অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও আইনজীবীদের মাধ্যমে গোপনে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন। তার মধ্যে আছে ১৪ টি বিলাসবহুল প্রাসাদ। এছাড়া আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রের তীরে একটি প্রাসাদেরও মালিক হয়েছেন তিনি। রাজার অ্যাটর্নিরা বলেছেন, জর্ডনের আইন অনুযায়ী তাঁকে কর দিতে হয় না।

চেকোস্লাভিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিস দ্বিতীয়বার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরায় একটি প্রাসাদের মালিক হন। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাঁকে গোপনে প্রাসাদটি কিনতে সাহায্য করে। পাহাড়ের ওপরে ৯.৪ একর জমির ওপরে রয়েছে সেই প্রাসাদ।

সাংবাদিক সংঘের মিডিয়া পার্টনার ‘দি গার্ডিয়ান’ পত্রিকা জানিয়েছে, আজারবাইজানের শাসক আলিয়েভ পরিবার সম্প্রতি ব্রিটেনে বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি কিনেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় লেখা হয়েছে, সাউথ ডাকোটা, নেভাদা এবং আমেরিকার আরও কয়েকটি প্রদেশে আইন করা হয়েছে, কোনও বিদেশি সেখানে অর্থ জমা রাখলে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। সাউথ ডাকোটায় একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট বিপুল অর্থ জমা রেখেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন গোপনে কয়েকটি কোম্পানির মালিক হয়েছেন। তাঁদের লক্ষ লক্ষ ডলার বিদেশে জমা আছে। ইমরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি বন্ধ করবেন। কিন্তু তাঁর মন্ত্রিসভার বর্তমান ও প্রাক্তন কয়েকজন সদস্যের সঞ্চিত অর্থের কথা ফাঁস হওয়ায় তিনি বিপাকে পড়তে পারেন।

ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ও তাঁর স্ত্রী গোপনে লন্ডনের মেরিলবোন অঞ্চলে এক প্রাসাদের মালিক হয়েছেন। গার্ডিয়ানের বক্তব্য, টনি ব্লেয়ার বেআইনি কাজ করেছেন বলা যাবে না। কিন্তু তিনি আইনের ফাঁককে ব্যবহার করেছেন।

You might also like