Latest News

ফেব্রুয়ারিতেই হতে পারে পঞ্চায়েত ভোট, ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এলাকা পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ

রফিকুল জামাদার

দু’মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একটি জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন। পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, কাজগুলো করুন। যে কোনও দিন ইলেকশন (Panchayat Election) ঘোষণা হয়ে যাবে। সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত ভোটের সলতে পাকানো শুরু হয়ে গিয়েছে প্রশাসনিক স্তরে।

কবে হতে পারে সেই নির্বাচন?

রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি (February) মাসেই  পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে চলেছে রাজ্যে। এখানে বলে রাখা ভাল নবান্নের প্রাথমিক প্রস্তাব ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন এ বছর ডিসেম্বরে করা যায় কি না সে বিষয়ে ভেবে দেখার। তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে জানায় যে, ২০১৩ সালে শেষ ডিলিমিটেশন (এলাকার পুনর্বিন্যাস) হয়েছিল। সেক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর ডিলিমিটেশন (এলাকার পুনর্বিন্যাস) করতে হয়। ফলে এবার সেই কাজ করতে হবে। যদিও বাম আমলে যা হত প্রতি ১৫ বছর অন্তর।

সেক্ষেত্রে এলাকার পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ হওয়ার কমপক্ষে ৭৫ দিনের আগে নির্বাচন করা মানে আইনি জটিলতা আসবে। সেই কারণেই নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে বলে খবর। তার আগে হলে আইনি বাধা আসতে পারে। সূত্রের খবর, কমিশনের এই বক্তব্যে নবান্নও এতে আপত্তি করেনি।

এখন প্রশ্ন ফেব্রুয়ারিতেই কেন?

নির্বাচন কমিশন ও নবান্ন সূত্রে খবর, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলে নির্বাচন অনেকটা পিছিয়ে দিতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ না হলে নির্বাচন করা মুশকিল। তেমনটা হলে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে। সেই কারণে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন উপযুক্ত সময় বলে মনে করছে নবান্ন ও কমিশন।

মধুচক্রের ফাঁদে পা! অশ্লীল ভিডিও ভাইরালের ভয়ে আত্মঘাতী জলপাইগুড়ির যুবক

উল্লেখ্য, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মার্চ মাসের ১৪ তারিখ থেকে। তাই নির্বাচন কমিশন চাইছে মাধ্যমিক শুরুর আগেই পঞ্চায়েত নির্বাচন গুটিয়ে ফেলতে। সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলা হবে যাতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা না হয়।

এখানে বলে রাখ ভাল, ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে কীভাবে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের সংরক্ষণ করতে হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে পঞ্চায়েত দফতরকে।

শুধু তাই নয়, শুক্রবারই রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস সব জেলার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কমিশনার নির্দেশ দেন, 

এক, আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিলিমিটেশন (এলাকার পুনর্বিন্যাস) সম্পূর্ণ করতে হবে।

দুই, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিজার্ভেশন (সংরক্ষণ) সম্পূর্ণ করতে হবে।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ৫ হতে হবে। সর্বাধিক ৩০। যে গ্রাম পঞ্চায়েতের জনসংখ্যা সাড়ে ৪ হাজারের নীচে, সেখান থেকে একজন করে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সংখ্যা করা যাবে।   এবং যে গ্রাম পঞ্চায়েতের জনসংখ্যা ৯ হাজারের কম হবে সেখান থেকে দু’জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য করা যাবে। তার বেশি হলে তিনজন সদস্য রাখা যাবে।

জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে ব্লকে জনসংখ্যা ৬০ হাজার হলে এক জন, ১ লাখ ২০ হাজার মধ্যে হলে দুজন এবং তার বেশি হলে তিনজন সদস্য নির্বাচিত করা যাবে।

You might also like