Latest News

পাক সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি হলেন ইনি, ভারতে কে ছিলেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে প্রথম মহিলা বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা মালিক। আজ, সোমবার ইসলামাবাদের সুপ্রিম কোর্ট ভবনেই শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, লন্ডনে পড়াশোনার পর লাহোরেরই ‘পাকিস্তানি কলেজ অফ ল’-তে হায়ার স্টাডিজ করেন আয়েশা৷ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের ফেলো ছিলেন তিনি৷ বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক শাখায় গবেষণাপত্র রয়েছে তাঁর৷ এক সময়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের হয়ে সাংবাদিকতাও করেছেন তিনি৷ কাজ করেছেন অক্সফোর্ড রিপোর্ট অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ল ইন দ্য ডোমেস্টিক কোর্টে৷আয়েশা মালিক।

পাকিস্তানের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় শিক্ষার এমন চুড়োয় পৌঁছনো একটি নারীর পক্ষে নিছক সহজ ছিল না। তবে আয়েশা সেসব বাধা চূর্ণ করেছেন। ২০১২ সালে তিনি লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি হন। বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং নজিরবিহীন রায় দিয়েই ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন ৫৫ বছরের আয়েশা মালিক।

যেমন গত বছর জুনে এক মামলায় যৌন নিপীড়নে ভুক্তভোগীর কুমারিত্ব পরীক্ষাকে ‘অবৈধ ও পাকিস্তানের সংবিধান বিরোধী’ হিসেবে ঐতিহাসিক রায় দিয়ে খবরের শিরোনামে আসেন তিনি। কোনও নির্বাচনী প্রার্থীর সম্পত্তি ঘোষণা করতে হবে বলেও একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন আয়েশা।Pakistan swears in Ayesha Malik as first woman supreme court judge | The  Guardian Nigeria News - Nigeria and World News — World — The Guardian  Nigeria News – Nigeria and World Newsপ্রসঙ্গত, ভারত অবশ্য বহু আগেই সুপ্রিম কোর্টে মহিলা বিচারপতি নিয়োগ করেছে। ১৯৮৯ সালের ৬ অক্টোবর ফতেমা বিবি এই সম্মানজনক পদে নিযুক্ত হন এ দেশে। সেখানে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে মহিলা বিচারপতি নিয়োগ করতে সময় লেগে গেল আরও তিন দশকেরও বেশি।

ভারতের অগ্নিকন্যা ফতিমা বিবি ১৯২৭ সালে ট্রাভাঙ্কোরে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ শাসিত দেশে মুসলিম পরিবারে জন্মানো মেয়ে হিসেবে সময়ের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন তিনি। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল প্রথম থেকেই। ছিল পরিবারের সমর্থনও। স্কুলপর্ব শেষ করে তিরুঅনন্তপুরমের ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে স্নাতক হন তিনি।Justice Fathima Beevi.JPGএর পরে ১৯৫০ সালে অ্যাডভোকেট হিসেবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়। কেরালার নিম্ন বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৫৮ সালের মে মাসে কেরালার সাব জুডিশিয়াল সার্ভিসেসে নিযুক্ত হন। দশ বছর পরে, ৬৮ সালে সাবজজ হিসেবে পদোন্নতি পান এবং ১৯৭২ সালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হন। দু’বছর পরে, ১৯৭৪ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।Justice Fathima Beevi hits a glorious 90 | Fathima Beevi| crime| law and  justiceঅত বছর আগে একজন মুসলিম মহিলা হিসেবে এই একটানা উন্নতি অবশ্য খুব সহজ ছিল না। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এত দূর এগোনোর জন্য পদে পদে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে, সইতে হয়েছে বহু বিরূপ আচরণ। কিন্তু নিজের মেধা, যোগ্যতা ও জেদের সঙ্গে আপস করেননি তিনি, দামও পেয়েছেন সেই লড়াইয়ের।India's first woman SC judge, Justice Fathima Beevi, on breaking the glass  ceiling১৯৮৪ সালের ১৪ মে দেশের প্রথম মহিলা হিসেবে কেরল হাইকোর্টের স্থায়ী জজ হিসেবে নিযুক্ত হন। এর পরে ১৯৮৯ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি হন।

এই ঘটনার ৩২ বছর পরে এই একই সম্মানিত পদে পৌঁছলেন পাক মহিলা আয়েশা মালিক। পাক সুপ্রিম কোর্টের বিদায়ী প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ আজ, সোমবার আয়েশার শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘নিজের মেধাগত যোগ্যতাতেই বিচারপতি আয়েশা এই পদে নিযুক্ত হয়েছেন।’গত বছরের অগস্ট মাসেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মুশির আলমের অবসরের পরে নতুন বিচারপতি হিসেবে আয়েশা মালিকের নাম প্রস্তাব করেছিলেন লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। এর পরে জুডিশিয়াল কমিশন অব পাকিস্তান (জেসিপি)-এর তরফেও আয়েশার নাম সুপারিশ করা হয়। কিন্তু কমিশনের চার সদস্য আয়েশার বিরুদ্ধে ভোট দেন। তাই সেবার বিচারপতি হওয়া হয়নি তাঁর।Justice Ayesha Malik to be Pakistan's first woman Supreme Court judgeএ বার খেলা ঘুরে গেছে। আয়েশা মালিকের পক্ষেই ভোট পড়েছে বেশি। এর পরে সুপারিশ গেছে পার্লামেন্টের কমিটির কাছে। সেখানে পাশ হওয়ার পরেই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের প্রথম মহিলা বিচারপতি হওয়ার পালক আয়েশার মুকুটে যোগ হল। আজ শপথ নিলেন তিনি।Justice Ayesha Malik notified as country's first woman SC judge - Pakistan - DAWN.COMতবে সকলে প্রশংসা করলেও, এই নিয়োগ নিয়ে পাকিস্তানে অসন্তোষ রয়েছে। পাক সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফ আফ্রিদি এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আফ্রিদি, পাক আদালত বয়কটেরও হুমকি দিয়েছেন।

You might also like