Latest News

‘অক্সিজেন লেভেল ৯২ মানেই করোনা রোগীর অবস্থা সংকটজনক নয়’, কী বললেন এইমস প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিডবিধি অনুযায়ী, করোনা আক্রান্তের অক্সিজেন লেভেল ৯৪ কিংবা তার নীচে নেমে যাওয়া মানেই অবস্থা গুরুতর। প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ গাইডলাইনও বলছে, শ্বাসবায়ুর স্তর কমবেশি ৯৩ ছুঁলেই আক্রান্ত যে কোনও সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় যেতে পারেন।

আর এবার ৯৪ বনাম ৯৩-এর বিতর্কে নতুন মত যোগ করলেন এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। তাঁর মতে, শরীরে শ্বাসবায়ুর মাত্রা ৯২ কিংবা ৯৩ মানেই রোগী ‘ক্রিটিক্যাল’— এমনটা ভাবা ঠিক নয়। একটা বাফার লেভেলের নীচে অক্সিজেন নেমে গেলে তখনই দুশ্চিন্তা করা যেতে পারে। তার আগে নয়।

দেশজুড়ে বাড়ছে সংক্রমণ। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি। যা সামগ্রিক করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই গুলেরিয়া যোগ করেন, “অক্সিজেন সিলিন্ডারের অপব্যবহার একটা বড় সমস্যা তো বটেই। একদল মানুষ অযথা ভয় পেয়ে আগেভাগে বাড়িতে সিলিন্ডারে মজুত করে রাখছেন। এটা ঠিক নয়। যদি অক্সিজেন লেভেল ৯৪ বা তার বেশি থাকে, তাহলে জেনে নিন, এটা কোনও ঘাটতিই নয়। অযথা উদ্বিগ্ন হবেন না। এভাবে সিলিন্ডার তুলে রাখলে যাঁদের সত্যি অক্সিজেন সাপোর্ট দরকার, তাঁরা বঞ্চিত হবেন।”

শ্বাসবায়ুর ঠিক কতটা নীচে নামা মাথাব্যথা কারণ হতে পারে? এরও জবাব দিয়েছেন গুলেরিয়া। তিনি বলেন, “কোভিড আসার আগেও আমরা ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের অক্সিজেন থেরাপি করতাম। তখন দেখা যেত, স্যাচুরেশন লেভেল ৮৮ নেমে গেলেও তাঁরা দিব্যি সুস্থ রয়েছেন। তাই এখন যদি সেই স্তর ৯২ কিংবা ৯৩-এ নেমে যায়, তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু এটাই বাফার লেভেল। এর নীচে নামলে আপনাকে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।”

অতিমারীর আবহে মেডিক্যাল অক্সিজেনের কার্যকারিতার বিষয়টিও এদিন তুলে ধরেন এইমস প্রধান। তাঁর মতে, ‘করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ফুসফুসে আঘাত হানে। তাই নিশ্বাসের ঘাটতি কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তখনই অক্সিজেন থেরাপির মধ্য দিয়ে শ্বাসবায়ুর সাপোর্ট দরকার।’

যে কারণে অক্সিজেনের অপব্যবহার আটকানোর বিষয়টি উপরেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। অভিযোগের সুরে গুলেরিয়া বলেন, “ধরা যাক, রোগীকে বাড়ির কেউ খাবার দিয়েছেন। তিনি অক্সিজেন মাস্কটি খুলে খেতে বসেন ঠিকই, কিন্তু তখন কানেকশনও যে বন্ধ করা উচিত, সেকথা ভুলে যান। এটা অক্সিজেন অপব্যবহারের একটা বড় উদাহরণ। হামেশাই এ ধরনের ঘটনা আমাদের নজরে আসছে। এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।”

You might also like