Latest News

‘ময়দানের বহিরাগত’রাই ভোট করায় রেফারি সংস্থায়, জেতা-হারা নির্ভর করে তাদের অঙ্গুলিহেলনেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ময়দানে রেফারি সংস্থার কোনও বদল ঘটেনি। আইএএফএ অফিসের ভোলবদল হলেও রেফারি সংস্থা সেই প্রায়ান্ধকারই থেকে গিয়েছে। আগে একটা সময় বলা হতো, কলকাতা রেফারিরা প্রতিবাদ করেন একমাত্র পুজোর আগে। কারণ তাদের পুরো বছরে খেলানোর টাকা পুজোর সময় দেওয়া হতো। কোনও কারণে তা আটকে গেলে তারা হইচই করতেন।
আইএফএ-র কাছে বরাবরের দুয়োরানি রেফারিরা। তাদের অবস্থা বাস ড্রাইভারের মতো। ভাল চালালে কোনও প্রশংসা নেই, কিন্তু দুলকি চালে চললে বাপান্ত করেন সবাই। সব থেকে বড় কথা, রেফারিদের নিয়ে ময়দানে কারোর কোনও তাপউত্তাপ নেই। একমাত্র কোনও দল রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে হারলে সেদিন রেফারি নিয়ে আলোচনা হয়, না হলে রেফারিদের কোনও নম্বর নেই, এমনটাই রেওয়াজ কলকাতা ময়দানে।
আইএফএ-র কোনও সচিবই রেফারিদের কথা বিশেষ ভাবেননি। তাদের মনে করা হয় তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক। ভাতা হয়তো কিছু বেড়েছে, কিন্তু কোনও সুযোগ সুবিধে নেই। নেই কোনও স্বাস্থ্য বীমা কিংবা পেনশন স্ক্রিম। এমনকি ফিফা কিংবা জাতীয় স্তরের রেফারি হলেও তাঁদের চাকরি নিয়ে কিছুই ভাবা হয় না।
কলকাতার রেফারিরাও সেই কারণে নিজেদের মধ্যে একটা জগৎ তৈরি করে নিয়েছেন। তাঁরাই সেই রাজ্যের রাজা, মন্ত্রী, সবটাই। এমনিতেই গত দু’বছরে কলকাতা ময়দানে খেলার চল চলেই গিয়েছে। রেফারিরা তখনই গুরুত্ব পান যদি মাঠে খেলা হয়, কিংবা কোনও বিতর্ক তৈরি হয়। সেইসময় জনৈক রেফারির নাম নিয়ে আলোচনা হয়, কিংবা তাঁলে ঘিরে একটা আগ্রহ থাকে, না হলে রেফারিদের বিষয়টাই হল, ‘আসি যাই, মাইনে পাই’-য়ের মতো সাধারণ বাধাগতের।
সম্প্রতি কলকাতা রেফারি সংস্থায় নির্বাচন হয়ে গেল একেবারে নিভৃতে, নীরবেই। কাকপক্ষী টের পেল না নির্বাচন নিয়ে। আগে রেফারি সংস্থার নির্বাচন নিয়ে ময়দান সরগরম থাকত। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আইএএফএ-তে রাত পর্যন্ত বৈঠক চলত সচিবের ঘরে। এখন সেই ব্যাপারগুলোই উধাও।
রেফারি কর্তারা নিজেদের মতো করে প্রার্থী বাছাই করে ভোট করে দিচ্ছেন। তাঁদের প্যানেল আগে থেকেই তৈরি করা থাকে। কিন্তু প্রাসঙ্গিক বিষয় হল, ময়দানের বহিরাগতরাই রেফারি সংস্থায় ছড়ি ঘোরান। কারা তারা, সেই নিয়ে খোঁজ নিতে জানা গিয়েছে, ওই অচেনা মুখগুলো হল রেফারিদের মধ্যে যাদের ক্ষমতা বেশি, তাদের ভাড়া করা লোক। তাঁরা নির্বাচনের আগে তাঁবুতে এসে বিপক্ষ প্রার্থীকে হুমকি কিংবা বাঁকা চাউনি চেয়ে চলে যায়। একটাই বার্তা থাকে, মানে-মানে কেটে পড়ো, বেশি মাথা গলালে ‘সমস্যা’ আছে। এও বলা হয়, রাতবিরেতে বাড়ি যেতে হবে, দাদা একটু সাবধানে থাকবেন!
এই হুমকির কাছে বশ্যতা স্বীকার করে অনেক তরুণ প্রার্থী রেফারি সংস্থার পদে বসতে চান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেফারি জানালেন, ‘‘এগুলো আগেও ছিল, কিন্তু তবুও একটা বাঁধন থাকত, আইএফএ-তে গিয়ে কিছু বলা যেত। এখন সচিব যে হয়েছেন, তিনি সিনেমা নিয়ে বেশি ব্যস্ত ফুটবলের চেয়ে, কার কাছে যাব?’’ যে কারণে তরুণ মুখরা আর রেফারিদের কর্তা হয়ে উঠতে পারছেন না। সেই পুরনো মুখগুলোই ঘুরেফিরে আসছে পদের লোভে।
এবার যেমন সচিব পদে গোপীনাথ পাইনকে (৯৫) হারিয়ে জয়ী হয়েছেন প্রাক্তন নামী রেফারি বিতর্কিত উদয়ন হালদার। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৭২টি। এবারের সিআরএ-এর নির্বাচনে উদয়ন সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছেন।
সহ সচিব পদের নির্বাচনে জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (১১৯) হারিয়ে জয়ী হয়েছেন হরিসাধন ঘোষ (১৪৫)। সভাপতি পদের লড়াইয়ে ভোলানাথ দত্তকে (১০৭) হারিয়ে জয়ী হয়েছেন সুপ্রিয় ভট্টাচার্য (১৫৩)।
সহ সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন অভিজিৎ কুন্ডু (১৫৭) ও অরিন্দম ভট্টাচার্য (১৪০)। শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই সহ সভাপতির পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন গতবারের সচিব সুকৃতি দত্ত ও চিত্তদাস মজুমদার। দুজনেই হেরে গিয়েছেন।
চিত্তদাস মজুমদার ১২৬টি ও সুকৃতি দত্ত মাত্র ৮৫টি ভোট পেয়েছেন। কোষাধ্য ক্ষ পদে কাশীনাথ সেনকে (১১১) হারিয়ে জয়ী হয়েছেন অজিত দত্ত (১৫১)। সহকারী সচিব কোষাধ্যাক্ষ পদে জয়ী হয়েছেন অরবিন্দ বেরা।

You might also like