Latest News

ওমিক্রনের জন্য ২০২২ সালেও চাঙ্গা হতে পারবে না বিশ্ব অর্থনীতি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রনের (Omicron) ভয়ে পর্যটকদের ওপরে বিধিনিষেধ জারি করেছে বিভিন্ন দেশ। বাজারে চাহিদাও কমেছে। অর্থনীতিবিদদের এক বড় অংশের বক্তব্য, এর ফলে আর্থিক পুনরুজ্জীবন আরও পিছিয়ে যাবে। অনেকে ভেবেছিলেন, অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে ২০২২ সালে চাঙ্গা হবে বিশ্ব অর্থনীতি। কিন্তু তা এখন সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না।

জাপান ইতিমধ্যে বিদেশী পর্যটকদের আসা বন্ধ করেছে। আগামী বছরে আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদ বাড়বে না বলেই মনে করছেন অনেকে। বিজ্ঞানীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন, নতুন ভ্যারিয়ান্টের ওপরে ভ্যাকসিন কাজ করে কিনা। দ্বিতীয়ত কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের তুলনায় ওমিক্রন বেশি না কম সংক্রামক।

এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গোল্ডম্যান সাচস ইনকর্পোরেটডের বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, আগামী বছরের শুরুর দিকে বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ওমিক্রনের সংক্রমণ। এর ফলে আগামী আর্থিক বছরের প্রতিটি ত্রৈমাসিকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বিকাশ হবে দুই শতাংশ। আগে ভাবা হয়েছিল, বিকাশ হবে আড়াই শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ২০২২ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশ হবে ৪.২ শতাংশ। এর আগে ভাবা হয়েছিল, বিকাশ তার থেকে অন্তত ০.৪ শতাংশ বেশি হবে।

দ্বিতীয়ত, হয়তো দেখা যাবে, ওমিক্রন খুব বেশি সংক্রামক নয়। কিন্তু তা হলেও বোঝা যাবে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের পথে আগামী বছরেও বাধা হয়ে দাঁড়াবে অতিমহামারী।

আপাতত চিন বাদে আর কোনও দেশই লকডাউনের পথে যেতে রাজি নয়। নমুরা হোল্ডিংস ইনকর্পোরেটেডের গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চ শাখার প্রধান রব সুব্রামন বলেন, “বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ এখন কোভিড সম্পর্কে অনেক সতর্ক। প্রকাশ্য স্থানে কোভিড বিধি মেনে চলা হচ্ছে। ফলে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়ান্ট হয়তো ওয়েভ আকারে দেখা দেবে না।”

রব সুব্রমনিয়াম বলেন, “আগামী দিনে নতুন ওয়েভ এলে আঞ্চলিক লকডাউন করা হতে পারে। সেই সঙ্গে হয়তো পর্যটকদের আসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। কয়েকটি বন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।” আমেরিকা, এশিয়া ও বেরেনবার্গের মূলধনী বাজারের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইক লেভি বলেন, “ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়লে অর্থনীতি ফের দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।”

ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্ট দেখা দেওয়ার আগে কয়েকজন অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, আগামী দিনে স্থায়ী পণ্যের চাহিদা কমবে। কিন্তু বিনোদন এবং পর্যটনের বাজার চাঙ্গা হবে। কিন্তু সব দেশে অর্থনীতি সমান হারে বিকশিত হবে না। গত অক্টোবরে আইএমএফ থেকে বলা হয়, অর্থনীতির বিকাশের গতি হয়ে পড়ছে ধীর। তবে উন্নত দেশগুলির অর্থনীতি ২০২২ সালেই কোভিড-পূর্ব স্তরে ফিরে যাবে। এমনকি ২০২৪ সালে ০.৯ শতাংশ বিকাশ হওয়াও অসম্ভব নয়।

You might also like