Latest News

বিশ্বের প্রাচীনতম লিগের কী দশা! কাদা মাঠে ম্যাচ বাতিল হচ্ছে আকছার, টিফিন খুঁজছেন প্লেয়াররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা লিগ (Kolkata Football League) পা দিল এবার ১২৫তম বর্ষে। বিশ্বের প্রাচীনতম লিগের (Oldest League) মধ্যে কলকাতা লিগ অন্যতম। যুগ যুগ ধরে বর্ষাকালে লিগের ম্যাচ হয়ে চলেছে। ৫০ বছর আগেও যা ছিল, এখনও তাই রয়েছে। কোনও বদল নেই, কোনও নতুনত্বও নেই।

ছোট দলগুলি আরও ছোট হচ্ছে, আর বড় দলগুলি কর্পোরেটের দয়া দাক্ষিণ্যে আরও হৃদপুষ্ট হচ্ছে। যে কারণে লিগের ম্যাচ কোনও মাঠে বাতিল হলে সেই ক্লাবের কর্তাদের মাথায় হাত পড়ে যায়।

আমিরের ‘লাল সিং চাড্ডা’ বয়কটের ডাক মন্টির, জুটছে অপমান, বিদ্রুপও

শনিবারই যেমন সারা ময়দানে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ডিভিশন মিলে মোট সাতটি ম্যাচ ছিল, তার মধ্যে চারটি ম্যাচ হতেই পারেনি অযোগ্য মাঠের কারণে। কাস্টমস, পুলিশ, হাইকোর্ট মাঠে থকথক করছে কাদা। খাটালও মনে হয় এরচেয়ে ভাল। রেফারিরা মাঠ পরীক্ষা করে দেখতে গিয়ে বুঝেছেন এই মাঠে বল গড়ানো দূর, দাঁড়ালেই পড়ে যাবে ফুটবলাররা। গোড়ালি পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে কাদায়।

মাঠে গেলে মনে হবে যেন গ্রামের কোনও মাঠে পৌঁছে গিয়েছি। অথচ শহর কলকাতা, পাশ দিয়ে ইলেকট্রনিক এসি বাস যাচ্ছে, কিংবা বাতানাকূল দামী গাড়ির সম্ভার। কিন্তু মাঠগুলি ভাল করার কোনও প্রচেষ্টা চোখে পড়ে না।

ভিক্টোরিয়া ক্লাবের কর্তা শঙ্কর দাস জানালেন, ‘‘এইভাবেই চলছে দিনের পর দিন, কেউ কিছু বলার নেই। প্রথমদিকে যাও বা আইএফএ কর্তারা আসেন, ৪-৫টি ম্যাচ হয়ে গেলে তাঁদের আর টিকি পাওয়া যায় না। জানি না এমন অবস্থার কবে পরিবর্তন হবে?’’

উত্তরপাড়া মিলন সংঘ, ইয়ং বেঙ্গল, রামকৃষ্ণ স্পোর্টস ক্লাব, ব্যাতোর এসি, পাইকপাড়া ক্লাবগুলির কর্তাদের বাতিল হলে চিন্তা অনেক। আগেই তো প্রতি ম্যাচ পিছু ফুটবলারদের হাতখরচ দিতে হয় ২০০ টাকা করে। তার মধ্যে যদি ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়, তা হলে টিফিন খরচের টাকাও দিতে হয়, আবার দিনের ভাতাও। সবমিলিয়ে করুণ অবস্থা হয় কর্তাদের। তাঁরা মাঠই করেন ঘরের অর্থ এনে।

এর মধ্যেই আবার অফিস লিগও চলছে। কোল ইন্ডিয়ার কোচ হিসেবে মাঠে থাকা প্রাক্তন ফুটবলার উত্তম মুখোপাধ্যায়ও বললেন, ‘‘আমাদের না হয় বড় অফিস দল, কিন্তু অনেক ছোট কোম্পানির দল রয়েছে, তাদের ফুটবলারদের চাকরিও নেই, খেলে যা পায়, তাতেই সংসার চলে। তাদের অবস্থা কী হয়, সেটাই ভাবার বিষয়।’’

ছোট ক্লাবে ফুটবলারদের দেখলে মায়াও হয়। তাঁরা খেলা শেষ করেই টিফিনের খোঁজ করেন কর্তৃপক্ষের কাছে। কেউ আসেন বর্ধমান থেকে, কেউ বারাসত, কারওর বাড়ি বারুইপুর, কিংবা বজবজও। মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার সময় কর্তাদের কাছে যাওয়ার ভাড়া চাইতে হয়। কিন্তু কিছু করারও নেই।

আইএফএ নিজেই অপেশাদার কাঠামোয় চলছে। তারা কলকাতার সব মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ করবে, সেটি ভাবাও অন্যায়। কিন্তু বছরভর ধরে কাদা মাঠে ফুটবলারদের চোট পাওয়ার ঝুঁকির পরে সেমিনারগুলিতে বড় বড় ভাষণ দেওয়া হয়, সেটাই বাংলা ফুটবলের কালো অধ্যায়কে উন্মুক্ত করে দেয়।

You might also like