Latest News

পেনশন পেতে জেরবার বৃদ্ধা, মমতা, অভিষেকের মুখ চেয়ে স্বজনেরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অকালে মারা গিয়েছেন স্বামী এবং একমাত্র সন্তান। সেই থেকে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ হাজার টাকা পেনশন সম্বল সোদপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধা শিউলি সেনগুপ্তের। অথচ, প্রয়াত শিক্ষক পুত্রের পেনশন বাবদ মাসে বেশ কয়েক হাজার টাকা পাওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রাপ্য পেনশন পাচ্ছেন না শিউলিদেবী। তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুন। দ্রুত পেনশন চালু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দিন তাঁরা।

তাঁর একমাত্র সন্তান ছেলে অরুণাভ ২০০৮-২০০৯ সাল নাগাদ স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষকতার চাকরি পান। পোস্টিং হয় উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরের থেকেও দূরের একটি স্কুলে। কিন্তু চাকরিকে যোগদানের কিছুদিন পরই সেই শিক্ষকের কিডনির অসুখ ধরা পড়ে। ২০০৯ সালেই কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি স্কুলে যোগ দেয়। সোদপুর (Sodepore) থেকে অত দূরের স্কুলে যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই নিয়ম মেনে বাড়ির কাছে বদলির আবেদন করেছিলেন।

পরিবারের বক্তব্য, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির (Parta Chaterjee) নির্দেশমতো সেই আবেদনপত্রের কপি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব সুকান্ত আচার্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ। পার্থবাবু কথা দেন, বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু কিছুই করেননি, অভিযোগ পরিবারের।

এরই মধ্যে বেসরকারি সংস্থার কর্মরত বৃদ্ধার স্বামী আচমকাই মারা যান। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েন বৃদ্ধা। চার বছর আগে মারা যান সেই শিক্ষকও। স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা হয় বৃদ্ধার। দিন দিন দুর্দশা বেড়েই চলেছে আজ পর্যন্ত প্রয়াত শিক্ষক পুত্রের ফ্যামিলি পেনশন চালু না হওয়ায়। বৃদ্ধার নামেই পেনশন চালু হওয়ার কথা।

স্বামী মারা যাওয়ার পর বৃদ্ধা অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ এক হাজার টাকা করে পেনশন পাচ্ছেন। ছেলের মৃত্যুর পর ডিপেন্ডেন্ট পেনশনের জন্য আবেদন করেন। ডিআই অফিস স্কুলের কাছে নানা সময়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। স্কুল সমস্ত তথ্য দিয়েছে। পেনশন প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর এখন এখন সরকারি দফতর থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু বৃদ্ধা স্বামীর মৃত্যুজনিত পেনশনের হাজার টাকা পাচ্ছেন, তাই তিনি ছেলের ডিপেন্ডেন্ট পেনশন পাবেন না। বৃদ্ধার বক্তব্য, এ কথা ডিআই অফিস আগে বলেনি। বললে সেই ভাবে পদক্ষেপ করা যেত।

এখন বলা হচ্ছে, ওই পেনশন নেওয়া বন্ধ করলেও সেই বাবদ এতদিন পাওয়া অর্থ ফেরত দিতে হবে। তারপর চালু হতে পারে স্কুলের পেনশন। নিয়মের বেড়াজালে আটকে বৃদ্ধার এখন অসহায় অবস্থা। মাসে হাজার টাকা সম্বল মাত্র। তাঁর পরিজনদের আর্জি, মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলেই জটিলতা মিটে যেতে পারে। তাঁদের প্রতি পরিবারের সেই আস্থা-ভরসা আছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদককে বৃদ্ধার করুণ কাহিনি পরিবারের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ষষ্ঠীতেও আন্দোলনে চাকরিপ্রার্থীরা, জরুরি বৈঠকে কমিশনও

You might also like