Latest News

ভোটের স্বার্থে বেআইনিকে আইনি ঘোষণা: দুঃসহ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শোনালেন প্রধান বিচারপতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আমার শ্বশুর একজন কর্মঠ কৃষক। তিনি তাঁর প্রতিবেশী কৃষকদের বললেন, চাষের জন্য বিদ্যুৎ চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে। বিষয়টি আমার কানে এলে আমি শ্বশুরমশাইকে বললাম, এ নিয়ে বিচারালয় কী আর করতে পারে! এটা তো সরকারের নীতি, কর্মসূচির ব্যাপার। ক’দিন পর আজব ঘটনা ঘটল। শ্বশুর বাড়ির এলাকায় বিদ্যুৎ চুরি করে যাঁরা মোটর চালিয়ে চাষের জল তুলত, সরকার তাঁদের লাইনগুলি বৈধ করে দিল। দুঃখের কথা কী বলল, ওই ঘটনার পর লজ্জায় শ্বশুর মশাইকে বহুদিন মুখ দেখাতে পারতাম না।”

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলায় ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতা (Personal Experience) শুনিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা (NV Ramana)। নিজের আরও একটি কাহিনি শুনিয়েছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমার পৈতৃক বাড়ির আশপাশে অনেকেই বেআইনি নির্মাণ করছিলেন। আমরা সব দেখতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা সে পথে পা বাড়াইনি। কিছুদিন পর সরকার সেই সব বেআইনি নির্মাণ বৈধ ঘোষণা করে দিল।”

প্রধান বিচারপতি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দুটি শুনিয়েছেন, এটা বোঝাতে যে রাজনৈতিক দল, সরকার, পুরসভা কীভাবে ভোটের স্বার্থে জনমুখী ঘোষণার নামে বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেয়।

মামলাটি নিয়ে ক’দিন ধরেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে। বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় জনস্বার্থের মামলায় দাবি করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলি ভোটের মুখে এমন কিছু সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিন কয়েক আগে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই অনুষ্ঠানে ‘রাবড়ি নীতি’র বিরুদ্ধে সরব হন। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য, বিনা পয়সায় রাবড়ি খাওয়ানোর একটা চল শুরু হয়েছে দেশে। সরকারের টাকায় যা যেমন খুশি সুবিধা বিলোচ্ছে। এভাবে চললে, রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল তৈরির টাকা আসবে কোথা থেকে।

গতকাল মামলায় প্রধান বিচারপতি উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিষয়েও মুখ খোলেন। তিনি বলেন, টাকার অভাবে রেল বয়স্কদের ট্রেন ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার প্রকল্প ঘুচিয়ে দিয়েছে। ওদিকে, উত্তরপ্রদেশ সরকার ষাটোর্ধ্ব মহিলাদের সরকারি টাকায় তীর্থক্ষেত্রে ঘোরানোর ব্যবস্থা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, সুবিধা প্রদান আর টাকা বিলোনোর মধ্যে ফারাক রয়েছে। সুবিধা দেওয়া উচিত অসহায় মানুষকে।

প্রসঙ্গত, এই মামলা এবং বিনামূল্যে সুবিধা বিলোনোর বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। ভোটের আগে সুবিধা বিলোনোর প্রতিশ্রুতিতে দক্ষিণ ভারত দেশের বাকি অংশের থেকে এগিয়ে থাকলেও বিগত কয়েক বছর যাবৎ তাতে সাড়া ফেলে দিয়েছে আম আদমি পার্টি। দিল্লির পর পাঞ্জাবেও তারা আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়ার কথা বলেই রাজিমাত করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতিটি হল বিনামূল্যে বিদ্যুৎ। এখন এই খাতে খরচই দেশের সব রাজ্যের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান বিচারপতি রামানার বক্তব্য, আসলে রাজনৈতিক দলগুলি বেকারদের, মহিলাদের টাকা বিলোনোর কথা না বলে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না। এক ফলে করদাতারা ঠকে যাচ্ছেন। গত ৯ বছরে তাদের কোনও ধরনের করছাড় দেওয়া হয়নি। ফলে মধ্যবিত্তকে এই বাড়তি বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এসব অবাধ ঘোষণা ঠেকানো উচিত। কিন্তু তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে। প্রধান বিচারপতির মত হল, বিনামূল্যে সুযোগ-সুবিধাগুলি অর্থনৈতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত, জাত বা গোষ্ঠীর ভিত্তিতে নয়।

শুধুই সম্পত্তি-বিবাদ নয়, ছিল ভাসুর-বৌমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও! হাওড়ার নৃশংস খুনের তদন্তে নয়া মোড়

You might also like