Latest News

অনুব্রত একা নন, লটারি জিতেছেন রাজ্যের আরও ১২ ‘প্রভাবশালী’, দাবি ইডির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচারের তদন্তে নেমে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ও তাঁর কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের ৫ বার লটারি জেতার বিষয়টি সামনে এসেছিল। শুধু অনুব্রতই নন, গরু পাচার কাণ্ডে আর এক অভিযুক্ত এনামুল হকও লটারিতে বিপুল পরিমাণ টাকা জিতেছেন বলে জানা গিয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে এমন অনেক প্রভাবশালীই (Influentials) গত কয়েক বছরে একটি বিশেষ কোম্পানির লটারি (lottery) জিতেছেন বারংবার। ইডি জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন এমন ‘প্রভাবশালী’ লটারি বিজেতার খবর পাওয়া গেছে, যাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বেআইনিভাবে গরু, কয়লা কিংবা বালি পাচারের অভিযোগ রয়েছে!

একটি বিশেষ লটারি কোম্পানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, ইডির (ED) দাবি করা এই ১২ জন প্রভাবশালীর ক্ষেত্রে জেতা টাকার অঙ্ক ১ কোটির কম হওয়ায় তাঁদের নাম এবং ছবি দিয়ে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। সেই কারণেই তাঁদের লটারি জেতার কথা প্রকাশ পায়নি। একাধিক রাজনৈতিক প্রভাবশালীর একটি বিশেষ কোম্পানির লটারি জেতা যে কাকতালীয় নয়, তা ক্রমশই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল তদন্তকারীদের কাছে।

তদন্তে নেমে জানা যায়, এই সমস্ত রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা শুধু বীরভূম নয়, ছড়িয়ে রয়েছেন রাজ্যজুড়েই। তাঁদের অনেকেই অন্যের জেতা টিকিট জোগাড় করে তা নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তারপর তাঁদের মাধ্যমেই আসল প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ‘কালো’ টাকা। আর পুরস্কারের টাকা সরাসরি জমা হয়েছে উক্ত আত্মীয় বন্ধুদের অ্যাকাউন্টে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই একাধিকবার এভাবে লটারি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জেতা টাকার অঙ্ক ৩০-৪০ হাজার হওয়ার কারণে কারও সন্দেহও যেমন হয়নি, তেমনই লটারি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে বিজেতার ছবি ও নাম ছাপা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি গোপন থেকেছে তো বটেই, একই সঙ্গে এভাবে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে এই অভিনব পদ্ধতিতেই।

এই ঘটনা সামনে আসার পরেই ওই লটারি কোম্পানির এক কর্মীকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান তদন্তকারীরা। তাঁর কাছ থেকেই জানা যায়, ওই কোম্পানিটির পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী এবং আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যের বেশ কিছু প্রভাবশালীর সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর লটারি থেকে পুরস্কার জিতলে আসল সেই প্রাপকের কাছ থেকে জোর করে টিকিট নিয়ে সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হত।

অন্যান্য বিভিন্ন সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, কম অঙ্কের লটারি জিতেছেন, এমন প্রাপকদের খোঁজে সব সময় তক্কে তক্কে থাকতেন ওই প্রভাবশালীরা। খোঁজ পেলেই নগদ টাকা নিয়ে সটান প্রাপকের বাড়িতে পৌঁছে যেতেন তাঁরা। তারপর টাকার বিনিময়ে টিকিট নিয়ে নেওয়া হত আসল প্রাপকের কাছ থেকে। তারপর সেই টিকিট পৌঁছে যেত লটারি সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে।

আপাতত লটারি দুর্নীতিতে জড়িত এমন ‘প্রভাবশালী’দের খুঁজতেই আঁটঘাট বেঁধে নামছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।

অনুব্রত লটারি জিতেছিলেন ১ কোটি টাকা, তদন্ত শুরু সিবিআইয়ের

You might also like