Latest News

বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে এসেছিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং প্রতিরক্ষা সচিব লিয়ড অস্টিন। চিন ও উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী মনোভাবের মোকাবিলা কীভাবে করা যাবে, তা নিয়েই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেন মার্কিন কর্তারা। এরপরেই আমেরিকার বাইডেন প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। যদিও মার্কিন প্রশাসনের অফিসাররা জানিয়েছেন, এর পরেও তাঁরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।

ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়, রবিবার উত্তর কোরিয়া দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। সেগুলি ছিল স্বল্প পাল্লার। তাদের মাথায় নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ছিল না। মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেন, উত্তর কোরিয়া প্রায়ই এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে।

এর আগে গত অক্টোবরে ‘দৈত্যাকার আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র’ প্রদর্শন করে উত্তর কোরিয়া। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত বড় আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বে আর নেই।

উত্তর কোরিয়া যাতে আর পরমাণু অস্ত্র না বানায়, সেজন্য তাদের অনুরোধ করেছিল আমেরিকা। গতবছর হ্যানয়ে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। আমেরিকা তার পরেও কূটনৈতিক পথে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাদের পরমাণু অস্ত্রগুলি ধ্বংস করে ফেলতে অনুরোধ করে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা ছিল, উত্তর কোরিয়া গোপনে পরমাণু অস্ত্র বানিয়ে চলেছে।

২০১৭ সালে আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। সেই ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকার যে কোনও স্থানে আঘাত হানতে পারে। এদিন কিম জং উন সমবেত জনতাকে বলেন, আমরা আত্মরক্ষার জন্য নিজেদের সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলব।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কিম বলেছিলেন, তাঁরা একটি নতুন অস্ত্র বানিয়েছেন। সেই অস্ত্র তাঁরা সকলকে দেখাবেন। অক্টোবরে যে ‘জায়ান্ট ইন্টার কন্টিনেন্টাল মিসাইল’ প্রদর্শন করা হয়েছে, কিম তার কথাই বলেছিলেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

২০২০-র জুন মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। একনায়ক কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সরকারি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার কার্যকলাপের নিন্দা করে ঘন ঘন বিবৃতি দিয়ে লাভ নেই। ওই সব বিবৃতির ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। কেউ তাতে গুরুত্বও দিচ্ছে না।

পরে কিম ইয়ো জং বলেন, “যা জঞ্জাল তাকে ডাস্টবিনে ফেলাই ভাল। আমাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা, আমাদের দল এবং সরকার যে ক্ষমতা দিয়েছে, তার জোরে আমি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি, এবার তারাই ভেবে দেখুক, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”

You might also like