Latest News

‘তুই ছাড়া কেউ রইল না!’ গাজায় স্ত্রী, চার সন্তানকে হারিয়ে পাঁচ মাসের ছোট্ট ছেলেকে আঁকড়ে আকুল কান্না বাবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাতি রিফিউজি ক্যাম্পের একের পর এক ছোট-বড় দালান মাটিতে মিশে গেছে। ইজরায়েলি বোমারু বিমানের আঘাতে ধূলিসাৎ সমস্ত বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে।

গত শুক্রবার রাতের কথা। পাথরের চাঁই সরাতে গিয়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন উদ্ধারকারী বাহিনীর লোকজন। ক্লান্ত হাতদু’টো যন্ত্রের মতো নড়াচড়ার শক্তিও হারাল! থরথর করে বারকয়েক কেঁপে উঠল যেন। ততক্ষণে ধুলোর পরত সরিয়ে চোখে ভেসে উঠেছে এক মহিলার নিথর শরীর। মৃত। প্রাণের স্পন্দনটুকু নেই। কিন্তু মায়ের একটি হাত, অসাড় হাত, জড়িয়ে রেখেছে পাঁচ মাসের সন্তানকে।

কোলের ছেলে ওমারকে রক্ষা করতে চেষ্টার কোনও কসুর করেননি বছর ছত্রিশের মহা আবু হাত্তাব। চটজলদি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যায় সে। কিন্তু অন্যদিকে স্ত্রী-সহ চার সন্তানকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা মহম্মদ আল-হাদিদি। তিনি যুদ্ধের কারবারি নন। গাজার সাধারণ নাগরিক মাত্র। শেকড়সুদ্ধ তাঁর সংসারের আগাগোড়া উপড়ে ফেলেছে একটিমাত্র বোমার আঘাত। হাদিদি বুঝে উঠতে পারছেন না, কাকে দোষ দেবেন? তাঁর ভাগ্যকে? ঈশ্বরকে? নাকি তাঁর মতো সাধারণকে পাশার দান করে যারা যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলে, তাঁদের?

গাজার হাসপাতালে মৃত সন্তানকে আঁকড়ে ধরে কেঁদে চলেছেন হাদিদি। পেছন ফিরে যখনই তাকাচ্ছেন, ভেসে উঠছে শুক্রবারের একের পর এক ঘটনা। ঈদের ছুটি কাটাতে ছেলেদের নিয়ে বোনের বাড়ি যেতে চান আবু। স্ত্রীর কথা ফেলতে পারেননি হাদিদি। গাজা শহরের বাইরে শাতি ক্যাম্পে মা আর দাদাদের হাত ধরে নতুন জামা-জুতো পরে মামার বাড়ি ঘুরতে যায় ওমার।

সেই শেষ দেখা। রাত গড়াতেই প্রচণ্ড বোমাবর্ষণের শব্দে হাদিদির ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, উদ্বাস্তু ক্যাম্পে বোমা ফেলেছে ইজরায়েলি সেনা। শুনে এতটুকু দেরি করেননি। পড়িমরি করে ছুট লাগান ক্যাম্পের দিকে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। এর কিছুক্ষণ বাদে স্ত্রী আর চার ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ওমারকে নিয়েই আপাতত নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে চান হাদিদি। চোখের পাতা উঠে এসেছে। ছোট্ট পা দু’টোও ভালোই জখম হয়েছে। খয়েরি রঙের কোঁচকানো চুলে সামান্য জট। তাতেই বিলি কাটতে কাটতে তিনি বলেন, ‘আমার এই দুনিয়ায় আর কেউ রইল না। তুই ছাড়া।’ তারপর বিড়বিড় করতে করতে যোগ করেন, ‘ওরা ভগবানকে খুঁজতে গেছে। আমাদেরও যেতে হবে। খুব জলদি। এখানে আর বেশিদিন থাকতে চাই না। কোনওভাবে না।’

You might also like