Latest News

দিল্লিতে লকডাউন নয়, তবে কোভিড মোকাবিলায় আরও নিষেধাজ্ঞা শীঘ্রই, জানালেন কেজরিওয়াল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমরা যদি যথেষ্ট সংখ্যক ভ্যাকসিন পেতাম, তা হলে যে কোনও বয়সের মানুষকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হত। শনিবার এমনই মন্তব্য করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানান, রাজধানীতে এখন যে পরিমাণে ভ্যাকসিন আছে, তাতে সাত থেকে ১০ দিন চলতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহে সারা দেশের মতো দিল্লিতেও হু হু করে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়াল বলেন, ফের লকডাউন করার সম্ভাবনা নেই। তবে রাজধানীতে নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হবে শীঘ্র। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিল্লিতে করোনার ফোর্থ ওয়েভ চলছে। এখন আরও দ্রুত টিকাকরণ করতে হবে।

এদিন দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে রাজধানীর কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, নভেম্বরে দিল্লিতে থার্ড ওয়েভ দেখা দিয়েছিল। তখন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সাফল্যের সঙ্গে অতিমহামারীর মোকাবিলা করেছিলেন। এবারও স্বাস্থ্যকর্মীরা একই প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করবেন। কেজরিওয়ালের কথায়, “আজকের মিটিং-এ আমি সর্বশেষ কোভিড পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নিয়েছি। হাসপাতালে কী প্রয়োজন আমাকে জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমি ব্যবস্থা নেব।” এদিনের বৈঠকে কেজরিওয়ালের সঙ্গে ছিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন এবং আপের মুখপাত্র রাঘব চাড্ডা।

শনিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে ৮৫২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ৩৯ জন। এদিন সকাল পর্যন্ত দেশ জুড়ে প্রায় দেড় লক্ষ নতুন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। শুধু তাই নয়৷ সংক্রমণ গত চারদিন ধরে টানা এক লক্ষের গ্রাফ ছুঁয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিনের সংকট।

কেন্দ্র আশ্বাস দিলেও সিরাম ইন্সটিটিউট কিন্তু অন্য কথা বলছে। সংস্থার প্রধান আদার পুনাওয়ালা সাফ স্বীকার করে নেন ভ্যাকসিনের সংকট যে রয়েছে, একথা পুরোপুরি সত্যি। অর্থ এবং সময় — দুই-ই যদি বরাদ্দ না হয়, তাহলে সার্বিক সমস্যা আরও ভয়ংকর চেহারা নেবে।

আশার আলো দেখানো দূর অস্ত, এবার সিরামের আশঙ্কাকে কার্যত মান্যতা দিলেন এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি বলেন, ‘কোভিশিল্ডের ঘাটতি মেটাতে সিরামের প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। সেই সঙ্গে তিন মাস সময়। তাহলেই দেশে এবং বিদেশে ভ্যাকসিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘উৎপাদন নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করার সময় এসেছে। মাথায় রাখতে হবে, শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এই ভ্যাকসিন বন্টন করা হবে। তাই এখন যদি উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে চাহিদার বিপুল চাপ থাকবে৷ এই সমস্যা ছ’মাস আগেই অনুমান করা যেত। এর জন্য রকেট সায়েন্স জানাটা জরুরি নয়।’

You might also like