Latest News

লখিমপুর নিয়ে মহারাষ্ট্রে বন্‌ধ, মুম্বইয়ের রাস্তাঘাট শুনশান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনার আটদিন বাদে, সোমবার মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) বন্‌ধ ডেকেছে শাসক জোট মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাদি। ফলে এদিন সকাল থেকে শুনশান হয়ে রয়েছে মুম্বইয়ের রাস্তা। প্রায় কোনও যানবাহন চলছে না। গন্তব্যস্থলে যেতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক বলেন, “বন্‌ধ পালিত হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে।” পরে তিনি বলেন, পাথর ছোড়ার কয়েকটি ঘটনার কথা জানা গিয়েছে। বিভিন্ন বামপন্থী দল এবং ট্রেড ইউনিয়ন বন্‌ধ সমর্থন করেছে।

নবাব মালিক বলেন, “আমরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের পদত্যাগ দাবি করছি।” গত রবিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বন্‌ধের ডাক দেয় মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাদির তিন শরিক ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, শিবসেনা ও কংগ্রেস। এদিন থানেতে দেখা যায়, শিবসেনা সমর্থকরা রাস্তায় টহল দিচ্ছেন। কোনও গাড়ি দেখলে থামাচ্ছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকার বলে, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বাদে বন্‌ধে আর কিছুই চালু থাকবে না। বন্ধ থাকবে সবজি মণ্ডিও। মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শহরের নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সাহায্য করছে সিআরপিএফের তিনটি কোম্পানি, ৫০০ হোমগার্ড ও অন্যান্য বাহিনীর আরও ৭০০ কর্মী।

মুম্বইয়ের একটি ব্যবসায়ী সংগঠন প্রথমে বন্‌ধের বিরোধিতা করেছিল। পরে তারা সমর্থন করেছে। ফেডারেশন অব রিটেল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বীরেন শাহ বলেন, “শিবসেনা ও অন্যান্য দলের অনুরোধে আমরা সোমবার বিকাল চারটে অবধি দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

লখিমপুরে গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষক হত্যা মামলায় শেষমেশ শনিবার সকালে পুলিশের কাছে হাজিরা দেন আশিস মিশ্র। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার জেরার পরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এর পর রবিবার সকালে তাঁকে বিশেষ আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় আদালতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পাশাপাশি খোঁজ শুরু হয়েছে আশিসের এক বন্ধুর খোঁজ, যে এই ঘটনায় জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেই বন্ধু আবার লখিমপুরের প্রাক্তন সাংসদ, প্রয়াত অখিলেশ দাসের ভাইপো অঙ্কিত দাস।

ধরা পড়ার পরে আশিস পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, ঘটনার সময়ে তিনি অনুষ্ঠানেই হাজির ছিলেন। গাড়ি নিয়ে কোথাও যাননি। তিনি বলেন, “ওই থর জিপটি আমার। আমাদের ড্রাইভার হরিওম মিশ্র গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আমার বন্ধু এবং বিজেপি কর্মী অঙ্কিত দাস ওই গাড়ির মালিক। তিনি গাড়ি দুটি নিয়ে প্রধান অতিথিদের আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর তিনি কোথায় গেছেন আমি জানি না। ঘটনার পর থেকে অঙ্কিত আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।”

You might also like