Latest News

বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে নীতীশ বললেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিধানসভায় বিতর্ক হোক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বলেছিলেন, তাঁর রাজ্যে এনআরসি হতে দেবেন না। এরপর সোমবার তিনি বিধানসভায় বললেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। এই প্রথম বিজেপির কোনও শরিক প্রকাশ্যে ওই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। এর ফলে বিজেপি অস্বস্তিতে পড়বে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

এদিন বিধানসভায় লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং বামপন্থীরা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তখনই নীতীশ বলেন, “নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত। মানুষ যদি চায়, বিহার বিধানসভাতেই বিতর্ক হতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, এনআরসি-র কোনও প্রয়োজনই নেই।

নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড সংসদে নাগরিকত্ব আইনকে সমর্থন করেছে। কিন্তু তাঁর এদিনের কথায় পরিষ্কার, তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। গত সপ্তাহে তাঁরই দলের নেতা প্রশান্ত কিশোর টুইট করে বলেছিলেন, সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে নীতীশ কি অবস্থান নিচ্ছেন তা পরিষ্কার করে জানানো উচিত। পর্যবেক্ষকদের মধ্যে তিনি নিজে বিজেপি জোটে আছেন বলেই এতদিন বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মুখ খোলেননি।

নীতীশ একসময় মোদীর প্রবল বিরোধী ছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালে তাঁর অবস্থান বদলে যায়। জোটশরিক কংগ্রেস ও আরজেডি-কে ত্যাগ করে এনডিএ-তে শামিল হন। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশ জোড়া আন্দোলনের মুখে তিনি ফের বিজেপি-র বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

নাগরিকত্ব বিল সংসদে পাশ হয়েছে ১১ ডিসেম্বর। তারপর দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে আন্দোলন। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা হিংসার আশ্রয় নিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে মারা গিয়েছেন ২০ জন। সরকার থেকে অবশ্য বার বার বলা হয়েছে, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে না। বরং প্রতিবেশী পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যে সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে এসেছেন, তাঁদের নতুন আইনে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

You might also like