Latest News

Nirmal Maji: দিদি বলেছেন, ঘুঘুর বাসায় ঢিল মারা চালিয়ে যাবি, বললেন সেই নির্মল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার তাঁকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অপসারিত চিকিৎসক নির্মল মাজি (Nirmal Maji) তাঁর নেত্রীর এই সিদ্ধান্তকে মোটেই অপসারণ বলে মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, “আমি তো দিদির কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সহজপাঠ পড়েছি। দিদির অনুপ্রেরণায় মেডিক্যাল কলেজের ঘুঘুর বাসা ভেঙেছি। দিদি বলেছেন, নির্মল ভাল কাজ করলে স্বার্থান্বেষীরা দু’কথা বলবে। তাতে দমে গেলে চলবে না। চালিয়ে যা। আমিও তাই চালিয়ে যাব। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি দেখব, রুখে দাঁড়াব।”

মেডিক্যাল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের পদ গেলেও আরও গোটা তিনেক সরকারি পদে আছেন নির্মল (Nirmal Maji)। তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনেরও মাথায় তিনি।

পদ ও ক্ষমতার জোরে বারে বারেই বিতর্কে জড়িয়েছেন এই চিকিৎসক নেতা। প্রতিবারই চর্চায় এসেছে তাঁর ক্ষমতার উৎস। ছড়িয়েছে অপসারণের জল্পনা। কিন্তু প্রতিবারই জল্পনা মিথ্যে প্রমাণ করে স্বমহিমায় বিরাজ করেছেন নির্মল।

একই সঙ্গে দীর্ঘ হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’। সেই তালিকায় আছে, ফেসবুক পোস্টে প্রতিপক্ষকে মারের হুমকি (আর নয় কোনও প্যানপ্যানানি, এবার জাস্ট ক্যা…), সরকারি হাসপাতালে কুকুরের ডায়ালিসিস করানো, মেডিক্যাল কলেজে তাঁকে উদ্দেশ্য করে পড়ুয়া চিকিৎসকদের বিক্ষোভকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ বলে মন্তব্য, হাসপাতালের অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে পড়া, চিকিৎসক সংগঠনের ভোটে গোলমালে নাম জড়ানো এবং কথায় কথায় চিকিৎসকদের হুমকি। চিকিৎসক প্রতিষ্ঠানের সভায় তাঁর উপস্থিতিতে গোলমালের আশঙ্কায় পুলিশ ডাকার ঘটনাও বাদ যায়নি। লাগাতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে শুক্রবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে।  

শাহরুখ-পুত্র মুক্ত মাদক মামলায়, এনসিবি-র চার্জশিটে নেই আরিয়ানের নাম

তাতে মেডিক্যাল কলেজের অভ্যন্তরে যেমন একাংশের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি তেমনই ‘নির্মল শাসন’ নিয়ে দুশিন্তা বেড়েছে অন্য হাসপাতালে। এই চিকিৎসক বিধায়ককে অন্য কোনও হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান করা হতে পারে, এমন সম্ভাবনায় ঘুম ছুটেছে অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে নির্মলের কথায় স্পষ্ট তিনি আপাতত কোনও হাসপাতালের ওই পদে বসছেন না। অন্তত তাঁর কাছে তেমন কোনও প্রস্তাব বা আভাস নেই।

তাঁকে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে নির্মলের বক্তব্য, “আমি মেডিক্যাল কলেজ আটকে গিয়েছিলাম। দিদি চান, আমি অন্য হাসপাতালেও নজর দিই। সেটা আরও বড় দায়িত্ব।”

মমতা বন্দ্যোাধ্যায়ের প্রতি এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে খানিক আবেগতাড়িত নির্মল বলেন, “দিদি আমাকে টানা ১২ বছর রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন। আর কত! এখন দিদি আমার কাজের ভার কিছুটা লাঘব করেছেন।”

ভুঁড়ি বাড়ছে? দিনে মাত্র কয়েক মিনিট এই ব্যায়ামেই ঝরবে মেদ

এই সঙ্গেই নির্মল খানিক হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছেন,  বিধানসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে এবার সব হাসপাতালেই  ‘মেডিক্যাল কলেজ মডেল’ প্রয়োগ করবেন।

কী সেই মডেল?

তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা তথা উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক চিকিৎসক নির্মল  বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার, নার্স সহ সকলে সময়ে কাজে আসেন। কোনও ফাঁকিবাজি নেই। কথায় কথায় রোগী ফেরানোর ব্যাপার নেই। এসব আমি কঠোরভাবে বলবৎ করেছি।’

 বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর আসন্ন নদিয়া, বীরভূম ও হুগলির হাসপাতাল সফরের কথা জানিয়ে বলেন, ‘মালদহ মেডিক্যাল কলেজ কী ছিল আর এখন কী হয়েছে! ওখানে পদাধিকারীরা সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে আসতেন। হাসপাতালের উঠোনে গোটা দশেক মোটর সাইকেল দাঁড়িয়ে থাকত। রোগী এলেই নার্সিংহোমে চালান করে দিত। এখন সে সব বন্ধ। বিধানসভার কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে হাতেনাতে ধরেছি এসব কারবার। তাই আমি অপ্রিয়।’

তাঁর বক্তব্য, ‘আমার কড়াকড়িকে কেউ কেউ বাড়াবাড়ি বলে চালানোর চেষ্টা করেছে। আসলে ধান্দাবাজ, ফাঁকিবাজরা আমাকে নিয়ে তটস্থ থাকে। দু’নম্বরি কারবার করা অনেকেই আমার হাতে ধরা পড়ে অন্তরালে চলে গেছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘এই সব লোকেরা তো আমার বিরুদ্ধাচরণ করবেই। নানা কথা তারা রটিয়ে বেড়ায়। কিন্তু দিদি জানেন আমি কী করছি। তাই বারো বছর রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।’ নির্মলের কথায়, ‘ভাল কাজ করছেন বলেই দিদি, অভিষেকদেরও বহু লোক নিন্দেমন্দ করছে। সেখানে আমি তো কোন ছাড়।’ নির্মল এদিন বারে বারেই তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন। বলেন, ‘অভিষেক সফল বলেই ওঁর অনেক নিন্দুক।’

তৃণমূলের এই চিকিৎসক নেতা, বছর বাষট্টির নির্মল এদিন আরও বলেন, ‘দিদির স্নেহ পেয়েছি ভাল কাজের সুবাদে। চল্লিশ বছর ধরে বিনা পয়সায় চিকিৎসা করছি। কোনও প্রাইভেট নার্সিং হোমে নিজেকে বিক্রি করে দিইনি। নিজের মাথার অপারেশন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে করিয়েছি। গাড়ি-বাড়ি করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনও সরকারের থেকে বা বিধানসভা থেকে অষুধ-চশমার বিল নিই না।’

নির্মল বর্তমানে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। ওই পদেও বহুদিন আছেন তিনি। এছাড়া তিনি রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরিচালনা সমিতির সদস্য। মাস দুই হল, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কলকাতা চ্যাপ্টারের সভাপতি হয়েছেন প্রতিপক্ষকে মাত্র নয় ভোট হারিয়ে। নির্মল বলেন, ‘মেডিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্দেশ জারি করেছি, ওষুধ কোম্পানির পয়সায় পান-ভোজন করা যাবে না। বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে না। এই কারণে আমি অনেক চিকিৎসকেরও চক্ষুশূল।’

কিন্তু অনেকেই বলছেন, মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাজের যে চাপ তাতে ডাক্তারি করা ছাড়া আর কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানে কাউন্সিলের কাজ লঘু করা। তাছাড়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের চিকিৎসকদের কোনও পদে থাকাও অনুচিত। কিন্তু নির্মল সে সবের ধার ধারেন না। যদিও কাউন্সিলে অভিযোগের পাহাড় জমেছে।

You might also like