Latest News

‘চিনা কমিউনিস্ট পার্টি দুর্বৃত্ত’, লাদাখ সংঘাত প্রসঙ্গে বেজিংয়ের তুমুল সমালোচনায় মার্কিন বিদেশ সচিব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য শুক্রবার বেজিংয়ের তীব্র সমালোচনা করল মার্কিন প্রশাসন। এমনকি চিনা কমিউনিস্ট পার্টিকে শঠ ও দুর্বৃত্ত বলে মন্তব্য করল ওয়াশিংটন। 
মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও এদিন বলেন, চিন তার নিজের সুবিধামতো নতুন নিয়ম কায়েম করতে চায়। তাই এতদিন ধরে মুক্ত বিশ্ব ন্যাটোর যে ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল সে সব তছনছ করে দিতে চাইছে। “চিনা ফৌজ পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগরেও সামরিক থাবা বসিয়েছে তারা। তার ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বিপদ তৈরি হয়েছে। তারা এতটাই আগ্রাসী যে আরও আরও ভূখণ্ডের অধিকার নিতে চায়।”
সোমবার লাদাখ সীমান্তে চিনা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে ভারতের ২০ জন সৈনিকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় এর আগেই শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব। শুক্রবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে কোপেনহেগেন গণতন্ত্র শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন পম্পিও। যে আলোচনার শীর্ষক ছিল ‘ইউরোপ এবং চিন চ্যালেঞ্জ’। বক্তৃতায় মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, বহু বছর ধরে পশ্চিমী দুনিয়া এই আশা করছিল যে চিনা কমিউনিস্ট পার্টিতে বদল আসবে। তাতে চিনের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। সে কথা বলে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি বরাবরই আমাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রেখে চলার কথা বলেছে। কিন্তু তা অছিলা মাত্র।
মার্কিন বিদেশ সচিবের কথায়, “প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি শুধু দুর্বৃত্তের মতো আচরণ করছে তা নয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়েও গোটা দুনিয়াকে মিথ্যা কথা বলেছে। সেই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তা ঢাকা চাপা দিতে চাপ দিচ্ছে। ওদের কারণেই গোটা দুনিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছেন”।
বস্তুত এদিন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনায় মুখের আগল রাখেননি পম্পিও। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে ৬ মাস হয়ে গেল। কিন্তু চিন এখনও ভাইরাসের স্যাম্পেল দিচ্ছে না। উহানে আন্তর্জাতিক গবেষক ও পর্যবেক্ষকদের ঢুকতেও দিচ্ছে না। উল্টে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির নজরদারি সংস্থা হুয়াউই-কে ব্যবহার করে অন্য দেশের সম্পর্কে মিথ্যা রটনা করে বেড়াচ্ছে। পম্পিও পষ্টাপষ্টিই বলেন, এ বার পাল্টা দেওয়ার সময় এসেছে। চোখ বন্ধ করে আর চিনকে ভরসা করা যাবে না। চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সমস্ত সংস্থাকে সন্দেহের চোখেই দেখতে হবে।
তাঁর কথায়, গত কয়েক দশক ধরেই ইউরোপীয় ও মার্কিন বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি চিনে তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। অনেক আশা নিয়েই তা করেছে। সেই সঙ্গে তাদের সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্টও শেনজেনের মতো এলাকায় আউটসোর্স করেছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির অনুমোদিত ছাত্রদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দিয়েছে। এমনকি নিজেদের দেশে চিনা বিনিয়োগকেও স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু চিনা কমিউনিস্ট পার্টির আচরণ ভিন্ন। তারা হংকংয়ের স্বাধীনতাকে খতম করতে চেয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের চুক্তিকেও মানছে না।
মার্কিন বিদেশ সচিব এদিন বলেন, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কুকীর্তির কথা বলতে গেলে দিন কাবার হয়ে যাবে। “চিনের মুসলিমদের দমনের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন জেনারেল সেক্রেটারি শি চিনফিং। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন গোটা বিশ্বে আর কোথাও হয়নি। আর এখন চিনা ফৌজ ভারত সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে”।
‘৬৭ সালের পর ভারত-চিন সীমান্ত বড় ধরনের সীমান্ত সংঘাত কখনও হয়নি। ‘৬৭ সালে নাথুলায় ৮০ জন ভারতীয় সৈনিকের মৃত্যু হয়েছিল। চিনের ৩০০ জন সৈনিক মারা গিয়েছিল সেই সংঘাতে। সেবারের পর এ বার এত বড় সংঘাত হল দু’দেশের সীমান্তে।

You might also like