Latest News

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’, মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার স্বীকৃতি

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ এবার আর কোনও ব্যক্তি নয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেল একটি সংস্থা। তার নাম ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’। রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থার হাতেই ২০২০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করল নোবেল কমিটি। ইয়েমেন থেকে শুরু করে উত্তর কোরিয়া, লাখ লাখ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার স্বীকৃতি পেল এই সংস্থা।

এবারের এই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩১৮টি নামের মনোনয়ন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ২১১টি নাম ছিল ব্যক্তির ও বাকি ১০৭ টি নাম ছিল কোনও না কোনও সংস্থার। তাদের মধ্যেই ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামকে বেছে নেওয়া হয়। শুক্রবার অসলো থেকে নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রিয়েস অ্যান্ডারসন এই ঘোষণা করেন। নোবেল কমিটির টুইটার অ্যাকাউন্টেও তা জানানো হয়।

এই পুরস্কার ঘোষণার সময় অ্যান্ডারসন জানান, “মানুষের ক্ষুধা মেটানোর জন্য এই সংস্থা উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি স্থাপনের জন্য এবং ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে এই সংস্থা যে লড়াই করেছে তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে নোবেল কমিটি।”

কখনও হেলিকপ্টারে করে খাবার নিয়ে যাওয়া হোক, কিংবা হাতি বা উটের পিঠে করে খাবার নিয়ে যাওয়া, কোনও ক্ষেত্রেই পিছপা হয়নি এই সংস্থা। এই মুহূর্তে বিশ্বে মানবাধিকার সংস্থাগুলির মধ্যে সবার উপরে রয়েছে এই সংস্থা। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের মতে, এখনও প্রায় ৬৯ কোটি মানুষ, অর্থাৎ প্রতি ১১ জন মানুষের মধ্যে একজন খালি পেটে ঘুমোতে যান। এটা খুবই চিন্তার বিষয়।

এদিন অ্যান্ডারসন আরও জানিয়েছেন, “এই পুরস্কার দেওয়ার সঙ্গেই নোবেল কমিটি চাইছে গোটা বিশ্বে যে লাখ লাখ মানুষ ক্ষুদার জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের দিকে যেন সবার চোখ পড়ে। আরও বেশি মানুষ যাতে উদ্যোগী হয়।”

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এই ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থা গত বছর প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সাহায্য করেছিল। বিশ্বের ৮৮টি দেশের মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিল তারা। কিন্তু এখনও অনেক মানুষ না খেয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ায় এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। তাই আরও বেশি করে সাহায্য করতে চাইছে তারা।

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে কেউ অভুক্ত থাকবেন না, এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে রাষ্ট্রসংঘ। কিন্তু এত চেষ্টার পরেও সেই লক্ষ্যপূরণ হওয়া খুব কঠিন বলেই মনে করছে তারা। মহিলা ও শিশুরা এই ক্ষুধার জ্বালায় বেশি কষ্ট পাচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ।

২১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর ডেভিড বিয়াসলি জানিয়েছেন, “ক্ষুধার কারণে যুদ্ধ হতে পারে। আবার যুদ্ধের কারণেও ক্ষুধার সৃষ্টি হয়। যেখানে সংঘাত বেশি সেখানে এই সমস্যা অনেক বেশি দেখা যায়। তাই আমাদের শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। মনে রাখতে হবে সংঘাত করলে আমরা কোনও দিনই ক্ষুধার বিরুদ্ধে জিততে পারব না।”

You might also like