Latest News

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর জের, বন্ধ করা হল মিনিয়াপোলিস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিনিয়াপোলিস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অফিসার ডেরেক শভিনের হাঁটুর চাপে গলার হার ভেঙে ও শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের। তারপর থেকেই প্রতিবাদে উত্তাল গোটা আমেরিকা। প্রতিবাদের আঁচ পৌঁছেছে হোয়াইট হাউসেও। এই পরিস্থিতিতে মিনিয়াপোলিস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

মিনেসোটা সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট লিসা বেন্ডর সংবাদসংস্থা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মিনিয়াপোলিস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বন্ধ করা হচ্ছে। পরে ফের নতুন করে এই ডিপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে। মানুষ ও কমিউনিটির সুরক্ষার নতুন মডেল নিয়ে আমরা এই ডিপার্টমেন্ট ফের চালু করব।”

কাউন্সিলের সদস্য আলোন্দ্রা কানো টুইট করে জানিয়েছেন, “মিনেসোটা সিটি কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে গরিষ্ঠ অংশের সম্মতি নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা রাজি হয়েছি, বর্তমানে মানুষের প্রতি পুলিশের যে ব্যবহার, তাতে এভাবে কাজ চলতে পারে না। পুলিশকে আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল হতে হবে।”

গত ২৫ মে মিনেসোটাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে হেফাজতে নেওয়ার সময় রাস্তাতেই তাঁর গলায় নিজের হাঁটু দিয়ে চেপে রাখেন পুলিশকর্মী ডেরেক শভিন। বারবার জর্জ আকুতি জানাচ্ছিলেন, তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। কিন্তু কিছুতেই পা তোলেননি ডেরেক। কিছুক্ষণ পরে সেখানেই মৃত্যু হয় জর্জের।

জর্জের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ করে হত্যা। গলায় মারাত্মক জখম রয়েছে জর্জের। ঘাড়ের কাছের হাড় বেঁকে গেছে। এমনকি পুলিশ অফিসারের হাঁটুর চাপে মাথায় অক্সিজেন পৌঁছনো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জর্জের। হৃদস্পন্দন থেমে গিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

এই পুরো ঘটনার ভিডিও করেন কিছু পথচারী। সেই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রথমে মিনেসোটায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকশ দোকান ভাঙচুর হয়। থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা নামাতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে বিক্ষোভ নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ওয়াশিংটন ডিসিতেও।

হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ চরমে ওঠে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামাতে হয় সেনা। কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষাকর্মীরা তাঁকে নিয়ে যান হোয়াইট হাউসের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে।

বিক্ষোভের জেরে অবশ্য ডেরেক শভিন ও আরও তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। ডেরেকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখনও বিক্ষোভ থামছে না আমেরিকাতে। বারবার কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে অত্যাচার করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক।

You might also like