Latest News

ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা, উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের মন পাওয়ার দৌড়ে সব দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস দুয়েক আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্লোগানটি প্রকাশ করে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বার্তা দিয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশে দলের পায়ের তলায় মাটি ফিরে পেতে মহিলাদের কাছে টানার চেষ্টা করবেন তিনি। এখন দেখা যাচ্ছে তাঁর ‘লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ’ স্লোগানের মর্ম বুঝেছে সব দল। বস্তুত কংগ্রেসের স্লোগানে ভাগ বসাতে চাইছে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টির মতো বড় দল তো বটেই, রাষ্ট্রীয় লোকদলের মতো ছোট পার্টিও মহিলাদের কাছে টানতে উপহারের ডালি সাজাচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশে বরাবর জাতের অঙ্কেই ঠিক হয় ভোটের সমীকরণ। গত শতকের নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে বিজেপির মন্দির-মসজিদ রাজনীতির সুবাদে ভোট-রসায়নে বড় ভূমিকা নিতে শুরু করে ধর্মীয় সমীকরণ। ক্রমে সব দলই তাতে গা ভাসিয়েছে। কিন্তু আসন্ন ভোটে উত্তরপ্রদেশের ভোটে মহিলারা হতে চলেছেন অন্যতম নির্ধারক শক্তি। আর এই পবিবর্তনেরই সূচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা।

অনেক আগেই তিনি ঘোষণা করেন, কংগ্রেস অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ আসনে এবার মহিলাদের টিকিট দেবে। বাস্তব পরিস্থিতি হল, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের যা অবস্থা তাতে সব আসনে (৪০৩টি) প্রার্থী দেওয়াই কঠিন। গতবারেই দল খারাপ ফলের রেকর্ড করে। কংগ্রেসের ভাগে গিয়েছিল মাত্র সাতটি বিধানসভা। সেই সাত বিধায়কের একজনও এখন দলে নেই।

এই পরিস্থিতিতে প্রিয়ঙ্কা পঞ্চাশ শতাংশ মহিলা প্রার্থী কীভাবে পাবেন তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় চোখ বুলিয়ে দেখা গেল মূল ধারার রাজনীতির বাইরে থাকা বহু মহিলাকে প্রার্থী করেছেন প্রিয়ঙ্কা। তাতে উন্নাওয়ের ধর্ষিতার মা যেমন আছেন, তেমনই আছেন আশাকর্মীদের আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা মহিলাও।

গত সপ্তাহে প্রিয়ঙ্কার উদ্যোগে হওয়া মহিলাদের ম্যারাথনে বিপুল সাড়া সব দলকেই চমকে দেয়। শনিবার নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণার দিন জানিয়ে দেয় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে সভা-মিছিল করা যাবে না। সেদিনই সন্ধ্যায় প্রিয়ঙ্কা ফেসবুক লাইভ করে ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর লড়াইয়ের নানা ঘটনা তুলে ধরেন।

প্রিয়ঙ্কার স্লোগানের হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি, মহিলাদের ম্যারাথনে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে সব দলই বুঝে গিয়েছে নারীদের সম্পর্কে দলের ভাবনাচিন্তা স্পষ্ট করা দরকার। সমাজবাদী পার্টির শরিক রাষ্ট্রীয় লোকদল মহিলাদের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের সুবিধা চালুর কথা বলেছে। বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টি বলেছে, তারা পঞ্চাশ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য বরাদ্দ না করলেও তাদের প্রার্থী করা হবে নিরাপদ আসনগুলিতেই। ফলে বিধানসভায় মহিলাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। উত্তরপ্রদেশের চলতি বিধানসভায় ৪০৩ আসনের মধ্যে মহিলা বিধায়ক মাত্র ৪২। অবশ্য বছর বছর সংখ্যাটা বাড়ছে। ২০১২ এবং ২০০২-এ জিতেছিলেন যথাক্রমে ৩৫ ও ২৩ জন মহিলা প্রার্থী।

প্রিয়ঙ্কা যে পরিসংখ্যানে ভরসা করে মহিলাদের নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তা এখন সব দলকেই ভাবাচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল চন্দ্র বলেন, ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যের মধ্যে উত্তরপ্রদেশেই শতাংশের হারে মহিলা ভোটার বৃদ্ধি বেশি হয়েছে। রাজ্যে এবার নতুন ভোটার হয়েছেন ৫২ লাখ মহিলা। তাঁর দেওয়া আরও একটি তথ্যও সবাইকে চমকে দেয়। তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশ হল কতিপয় রাজ্যের একটি যেখানে মহিলাদের ভোটদানের হার পুরুষের তুলনায় বেশি। যেমন ২০১৭-র ভোটে মহিলা ভোটারদের ৬৩.৩ শতাংশ বুথে গিয়েছিলেন। সেখানে পুরুষ ভোটারদের ভোটদানের হার ছিল ৫৯ শতাংশ। যদিও পুরুষের তুলনায় মহিলা ভোটার এখনও তিন শতাংশ কম।

প্রিয়ঙ্কা মহিলাদের কাছে টানার চেষ্টা শুরু করতেই বিজেপি তাদের মহিলা মোর্চাকে প্রচারে নামায়। তাদের এক মাস ব্যাপী প্রচারে মূল কথা ছিল, ‘উত্তরপ্রদেশে মহিলারা কেন বলছেন, যোগী সরকার জরুরি?’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মহিলাদের কাছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। ওই প্রচার অভিযানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশের কয়েক লাখ স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে ভার্চুয়াল জনসভা করেন। অন্যদিকে, অখিলেশ যাদব উন্নাও, হাতরাসের মতো নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলিকে হাতিয়ার করে প্রচারে বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ কী নারী, ভাজপা পর পরেগি ভারি।’ অর্থাৎ মহিলাদের নিয়ে বিজেপির কপালে দুঃখ আছে। অন্যদিকে, বহুজন সমাজবাদী পার্টি বলছে, একমাত্র আমাদের দলেই তো আছেন তিনবারে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এবারও নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। দলের প্রচারেই ব্যস্ত থাকবেন এবারও।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like