Latest News

হিন্দিতে হিমশিম, পায়েস নাপসন্দ! সুন্দর পিচাইয়ের জন্মদিনে নানা অজানা তথ্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেবার চেন্নাইজুড়ে প্রবল খরা। বাড়ি বাড়ি জলকষ্ট। অশোক নগরে রেগুনাথা আর লক্ষ্মীর সংসারেও তার আঁচ পড়েছিল। একফালি ঘর৷ তাও ভাড়ার। গাদাগাদি করে সকলকে শুতে হয়।

ছোট ছেলে সুন্দর সবকিছু সহ্য করে নিত। কিন্তু জলের তেষ্টা কিছুতেই ভুলতে পারত না। ঘন ঘন জল খাওয়া চাই তার। তাও ঠান্ডা। অথচ ঘরে রেফ্রিজারেটর নেই। থাকবে কী করে? সামর্থ্য কই? বাবা পেশায় ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেও আয় সামান্যই। মা স্টেনোগ্রাফার। রোজগার আরও কম।

অনেক চেষ্টাচরিত্রের পর কয়েক দিন বাদে রেফ্রিজারেটরের জোগাড় করেছিলেন রেগুনাথা পিচাই৷ ছেলের মুখে হাসি ফুটেছিল। সে হাসি আরও অনেকখানি চওড়া হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। যখন মাদুরাইয়ের গিঞ্জি গলি পেরিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিমানে চড়েছিলেন সুন্দর৷ গন্তব্য— স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্দেশ্য— দরকারি কোর্স সেরে ফেলা। জমকালো কেরিয়ার গড়তে হলে হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলাটা ঠিক নয়। এমনটাই মনে করেছিলেন তিনি।

কিন্তু বিমানের ভাড়া? তখনকার হিসেবে তো সেটা তাঁর বাবার এক বছরের বেতনের সমান!

ছেলের দুশ্চিন্তা কাটাতে সেদিনও পাশে এসে দাঁড়ান রেগুনাথা। তাঁর আজীবনের পরিশ্রম তো এই একজনকে ঘিরে। খরার সময় মেঝেতে শুয়ে রাত কাটিয়েছে যে ছেলে, একটিবারও কষ্ট বুঝতে দেয়নি, তার স্বপ্নের উড়ান এভাবে থমকে যাবে? এই ভেবেই টিকিটের কপি সুন্দরের হাতে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

বাবা-মায়ের বিশ্বাস, পরিশ্রম কিংবা বলা ভালো আস্ত সংগ্রামের কদর রেখেছিল ছেলে। আগাগোড়া চোখধাঁধানো রেজাল্ট নিয়ে কাজের দুনিয়াতেও নিজের ছাপ ফেলতে খুব একটা সময় লাগেনি। ২০০৪ সালে গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজার। তারপর ২০১৫ সালে বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্টের সিইও। মাদুরাইয়ের পিচাই সুন্দরাজনের জীবনের গাথা অনেকটাই গলি থেকে রাজপথে উত্তরণের। আজ, ১০ জুন, উনপঞ্চাশে পা রাখলেন তিনি। দেশের উঠতি প্রজন্মের ‘আইকন’ সুন্দর পিচাই। তাই জন্মদিন উপলক্ষে নেটদুনিয়ায় ভেসে আসছে লাখো শুভেচ্ছাবার্তা।

একইসঙ্গে আমজনতার নজর ঘুরছে পিচাইয়ের সাফল্যের রহস্যকে ঘিরে? কোন মন্ত্রে লেখাপড়ায় এতখানি ব্যুৎপত্তি আবার কাজের ময়দানেও ততোধিক সফল তিনি? গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে, সোশ্যাল মিডিয়ার আসরে আছড়ে পড়ছে প্রশ্ন।

গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেটের প্রধান সুন্দর পিচাই অবশ্য একাধিক সাক্ষাৎকারে এ ধরনের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যেমন— তিনি আইআইটি খড়্গপুরের মেটালার্জি বিভাগের প্রাক্তনী— এ তো জানা কথা। কিন্তু সেই ইন্সটিটিউটেই একবার গ্রেড সি পেয়েছিলেন তিনি! চৌখস ইংরেজি বলেন। মাতৃভাষা তামিলে তো বরাবরই সাবলীল। কিন্তু ছাত্রাবস্থায় হিন্দি বলতে হিমশিম খেতেন পিচাই। এখনও এ ভাষায় খুব একটা সাবলীল নন।

তাঁর জীবনের অন্যতম দুঃস্বপ্নের মুহূর্ত ছিল চেন্নাইয়ের জলকষ্ট। সেই ট্রমা এখনও কাটেনি। একবার এনওয়াইটি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে পিচাই বলেন, ‘আজও রাতে শোয়ার সময় বিছানার পাশে জলের বোতল না থাকলে আমার ঘুম আসে না। কিছুতেই দু’চোখের পাতা এক করতে পারি না আমি।’

আর একটি কারণে রাত জাগতে বাধ্য হন গুগলের প্রধান। তার নাম ক্রিকেট। খেলাটি খেলতে এবং টিভিতে দেখতে পছন্দ করেন তিনি। তার জন্য ঘুম বরবাদ হলেও নাকি কিছু যায় আসে না। খড়্গপুরে একটি সেমিনারে আসার পর পাশের একটি গ্রাম ঘুরতে গেছিলেন পিচাই৷ মাঠে একদল ছেলে খেলছে দেখে তক্ষুনি ব্যাটহাতে নেমে পড়েন তিনি। ক্রিকেটে এতটাই আসক্তি!

আর হ্যাঁ, নেশা আছে আরও একটা জিনিসে… বই পড়ায়। চার্লস ডিকেন্সের অনুরাগী তিনি৷ উপন্যাস পড়ে ভাবতে ভালোবাসেন৷ কাজের সমুদ্রে ডুবে থাকলেও প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পড়ার সময় ঠিক বের করে নেন পিচাই।

তবে এতকিছুর পরেও সকালে ঘুম থেকে ওঠাটা তাঁর নাপসন্দ। ব্রেকফাস্টে চা-ওমলেট-টোস্ট পছন্দ করেন। তবে মিষ্টি নৈব নৈব চ! এতটাই অপছন্দের যে, পায়েস দিলেও নাকি সেটা সাম্বারে মিশিয়ে চুমুক দেন। স্বাস্থ্য নিয়ে বরাবরই সচেতন পিচাই। রোজ সকালে হাঁটতে বেরোন। তবে জিমে যাওয়াটাকে রুটিন করতে পারেননি৷ দ্রুত হাঁটতে ভালোবাসেন। হয়তো সে কারণেই এত অল্প সময়ে সিঁড়ি ভেঙে অ্যালফাবেটের শীর্ষ ছুঁয়েছেন মাদুরাইয়ের সুন্দর পিচাই৷

You might also like