Latest News

অভিষেকের নির্দেশে কোচবিহারের যুবনেতাকে তাড়াল তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি ছিলেন কোচবিহারের যুব তৃণমূলের ডাকসাইটে নেতা। সেই সঙ্গে মাদারের ‘মাথা ব্যথা।’ গত এক-দেড় বছর ধরে একাধিকবার শিরোনামে আসা কোচবিহারের যুব তৃণমূল নেতা নিশীথ প্রামাণিক ওরফে বিট্টুকে বহিষ্কার করল বাংলার শাসক দল। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নিশীথ প্রামাণিককে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত শুক্রবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়ে দেন কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়।

কোচবিহারে মাদার-যুবর কোন্দল নতুন ঘটনা নয়। একাধিকবার সতর্ক করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু বদলায়নি ছবি। পার্টি আর গণসংগঠনের কোন্দলের মাঝে ঢুকে পড়েছে কোটি টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র। যুব সংগঠনের ভিতর অভিষেক-ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন নিশীথ। কিন্তু সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই দল থেকে বের করে দেওয়া হলো তাঁকে।

কম কথা বললেও, মাদার সংগঠনের কপালে ভাঁজ ফেলার জন্য নিশীথই ছিলেন প্রধান কাণ্ডারী। দিনহাটা থেকে রাজনৈতিক উত্থান হলেও যত দিন গিয়েছে, ততই গোটা জেলা জুড়ে নিজের ক্যারিশমায় সংগঠন বাড়িয়েছিলেন নিশীথ। এমনকী উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিধানসভা কেন্দ্র নাটাবাড়িতে, তাঁকেই কোণঠাসা করে দিয়েছিলেন তিরিশের কোঠার এই নেতা। একাধিকবার দলের নেতারা অভিযোগ জানিয়েছিলেন নিশীথের বিরুদ্ধে, কিন্তু তাঁর ফর্ম থেকে তাঁকে সরানো যায়নি।

এই তো পঞ্চায়েত নির্বাচনে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে মাদারের লোকজনকে গো হারা হারিয়ে সভাপতি হয়েছিলেন যুব নেতারা। তৃণমূল সূত্রের মতে, এ সবই নিশীথের ম্যাজিক। জেলার যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয়েও তাঁর কনভয় দেখলে মনে হতো ভারতের রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন। সঙ্গে একাধিক নিরাপত্তারক্ষী। কয়েকমাস আগে কোচবিহারের ভেটাগুড়িতে চোখ ধাঁধানো গণেশ পুজোও করেছিলেন নিশীথ। বলিউড, টলিউড তারকাদের নিয়ে এসে প্রায় কোটি টাকা খরচ করেছিলেন সিদ্ধিদাতার আরাধনায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে তদন্ত করছিল একাধিক এজেন্সি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার কোচবিহারে রথযাত্রা শুরু না হলেও বিরাট সমাবেশ করেছিল বিজেপি। গেরুয়াবাহিনীর সমাবেশে বিরাট জনসমাগমের পিছনে নিশীথের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন শাসক দলের অনেক নেতা। যদিও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানার পর নিশীথ বলেছেন, “দলের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিচ্ছি। আগামী দিনে সুযোগ দিলে আবার দলের পাশেই থাকব।”

নিশীথের বহিষ্কারের খবর চাউর হতেই তাঁর অনুগামীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। দিনহাটায় রাস্তা জুড়ে, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ‘বিট্টু কোম্পানি’। তবে রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন, নিশীথকে বহিষ্কার করা হলেও, জেলায় সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে আনতে পারবেন তো রবি ঘোষ? নাকি যুব তৃণমূলে নিশীথের জায়গা পূরণ করে দেবেন অন্য কেউ?

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

You might also like