Latest News

আপনি ধোনি ভক্ত! পকেট ফাঁকা থাকলেও পেট ভরে খেতে পারেন এই হোটেলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: তিনি ধোনি ভক্ত। মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর কাছে ঈশ্বর। ছোট্ট শহর আলিপুরদুয়ারের প্রায় প্রত্যেকেই জানেন সে কথা। জীবিকার খাতিরে যে ভাতের হোটেল খুলেছেন তিনি, তার নামও দিয়েছেন ‘এম এস ধোনি হোটেল’। শহরের ভাঙাপুল এলাকায় তাঁর সেই হোটেল ঘিরেও নানা গল্প। পকেটে পয়সা না থাকলেও কব্জি ডুবিয়ে এ হোটেলে নাকি মাংস ভাত খেতে পারবেন আপনি ! শর্ত একটাই। ধোনি ভক্ত হতে হবে আপনাকে।

শহরের এমন সব গল্প কথা যাঁকে ঘিরে, তিনি আলিপুরদুয়ারের পূর্ব শান্তিনগরের ৩০ বছরের যুবক শম্ভু বসু। আদ্যন্ত ক্রিকেটভক্ত এবং ধোনির ফ্যান। ভাই টোটনকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙাপুল এলাকায় একটি ভাতের হোটেল চালান তিনি। ভাত-ডাল-সবজি-মাছ-মাংসের আয়োজন থাকে। ছোট্ট এই হোটেলের সাজসজ্জাতে সাধ্যমতো নিজের ক্রিকেট প্রীতিকেই তুলে ধরেন শম্ভু। আর যে দিন আন্তর্জাতিক আঙিনায় ম্যাচ থাকে ভারতের, সে দিন তো কোনও কথাই নেই। হোটেলের সামনের রাস্তাও সাজিয়ে ফেলেন শম্ভু। রাস্তাজুড়ে জাতীয় পতাকা লাগানো থেকে শুরু করে খেলা দেখাতে বড় পর্দা লাগানো, এমনকী খেলায় জিতলে বাজি ফাটানোর ব্যবস্থা পর্যন্ত। আজ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। ভাঙাপুলের ধোনি হোটেলের সামনে কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন।

শহরে তাঁকে নিয়ে চালু গল্প কথার সবই কানে আসে শম্ভুর। বললেন, “আমার সাধ অনেক জানেন, কিন্তু সাধ্যটা বড়ই কম। শহরের লোক বলেন, ধোনি ভক্ত হলেই আমার এখানে দাম ছাড়াই পাত পেড়ে খাওয়ার নেমন্তন্ন। আমারও ইচ্ছে করে কেউ ধোনি ভক্ত হলেই তাঁকে হোটেলে বসিয়ে কব্জি ডুবিয়ে মাংস ভাত খাওয়াই। কিন্তু পারি না তো। এই ছোট্ট হোটেল চালিয়ে দু ভাইয়ের সংসার চলে। সাধপূরণ করি কী করে?”

তবে খেতে এসেছেন এমন কেউ যাঁর সামর্থ্য কম, অথচ ধোনিভক্ত তখন মুখ ফেরানো সম্ভব হয় না, নিজেই জানালেন তা। শম্ভুর কথায়, “ধোনির ভক্ত পেলেই আমি হ্যান্ডশেক করি। কোলাকুলি করি। অনেকের কাছে টাকা কম থাকে, কারও কাছে অনেক সময় টাকাই থাকে না। আমার হোটেলের নাম এমএস ধোনি। সেই কারণে কেউ নিজেকে ধোনির ফ্যান বলে পরিচয় দিলে আর টাকা চাইতে পারি না।”

ধোনির হোটেলের প্রতিদিনের খদ্দের, এলাকার বাসিন্দা রাজেশ বর্মন বলেন, “এই হোটেল শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, ইতিমধ্যেই অসম, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গার ধোনি ভক্তদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। খেলা নিয়ে উন্মাদনা হারিয়ে যাচ্ছে এখন। সেখানে খেলা নিয়ে শম্ভুর এই উন্মাদনা সত্যিই ব্যাতিক্রমী। আমরা সবাই ওঁর জন্য গর্বিত।”

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলা ভালবাসতেন শম্ভু। কিন্তু অভাবের সঙ্গে লড়তে লড়তেই কেটে গেছে সময়। বছর আটেক আগে একটা ছোট্ট চায়ের দোকান খুলেছিলেন। এখন সেটাই ধোনির নামে ভাতের হোটেল। খেলতে না পারার অতৃপ্তি এখন এই হোটেলেই ভুলে থাকেন শম্ভু।

You might also like